জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করার কিছু দিনের মধ্যেই দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। দেশ গড়ার এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ছুটে বেড়িয়েছেন। নিজ চোখে তিনি মানুষের সমস্যা দেখেছেন, দেশের সমস্যা অনুধাবন করেছেন। দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নিয়েছেন। জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। দেশবাসী তার ডাকে সাড়া দিয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়া গড়ে তুলেছিলেন সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য। উন্নয়ন কার্যক্রমে সঞ্চারিত হয়েছিল দূর্বার গতি। সন্ত্রাসের করাল ছায়া থেকে মুক্ত স্বদেশে প্রথমবারের মত বইল শান্তির সুবাতাস, অস্থিতিশীলতা থেকে উত্তোরণ হলো স্থিতিশীলতায়। অবসান হল রাজনৈতিক শূণ্যতার। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রায় ১০ হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

জিয়া প্রবর্তিত উন্নয়নের রাজনীতির কতিপয় সাফল্যঃ

সকল দলের অঃশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান; জাতীয় সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি; বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া; দেশে কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা বিপ্লব ও শিল্প উৎপাদনে বিপ্লব; সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লেক্ষ্য স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারী সহায়তায়র সমন্বয় ঘটিয়ে ১৪০০ খাল খনন ও পুনর্খনন; গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করে অতি অল্প সময়ে ৪০ লক্ষ মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দান; হাজার হাজার মাইল রাস্তা-ঘাট নির্মাণ; ২৭৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগ করে গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধিকরণ; নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের ভেতর দিয়ে অর্থনৈতিক বন্ধ্যাত দূরীকরণ; কলকারখানায় তিন শিফট চালু করে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি; কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশকে খাদ্য রপ্তআনীর পর্যায়ে উন্নীতকরণ; যুব উন্নয়ন মন্ত্রাণালয় ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুব ও নারী সমাজকে সম্পৃক্তকরণ; ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্টা করে সকল মানুষের স্ব স্ব ধর্ম পালনের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকরণ; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সৃইষ্ট করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন; তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামের জনগণকে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করণ এবং সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব সৃষ্টি করার লেক্ষ্য গ্রাম সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন; জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আসনলাভ; তিন সদস্যবিশিষ্ট আল-কুদস কমিটিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি; দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ‘সার্ক’ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ; বেসরকারিখাত ও উদ্যোগকে উৎসাহিতকরণ; জনশক্তি রপ্তানি, তৈরী পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, হস্তশিল্পসহ সকল অপ্রচলিত পণ্যোর রপ্তানীর দ্বার উন্মোচন; শিল্পখাতে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ। এ ছাড়াও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় নিম্নলিখিত সাফল্য অর্জিত হয়ঃ

  • শহীদ জিয়া সংবিধানের প্রথমে বিসমিল্লাহির– রহমানির রাহিম (পরম দয়াময় ও করুনাময় আল্লাহর নামে )– সংযোজন করেন।
  • আর্টিকেল ৮ (১) এবং ৮ (১ এ) তে “আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ন আস্থা এবং বিশ্বাস” শব্দ গুচ্ছটি সংযোজন করা হয়।
  • মুসলমানদের শরিয়াহ এবং সুন্নার সামাজিক ও আইনগত নিয়মনীতি প্রতিপালনের জন্য সুযোগ করে দেওয়া হয়।
  • আর্টিকেল ১২ তে “ ইসলামি উম্মার সাথে ভ্রাতৃত্ববোধের আলোকে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা, উন্নায়ন এবং শক্তিশালী করার নীতি ” সূচনা করা হয়।
  • বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের সূচনা করা হয়।
  • একটি সামগ্রিক জাতীয় পরিচয় সূচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি জিয়উর রহমান বাংলাদেশী সংখ্যালঘু যথাঃ সাওতাল, গাঁড়ো, মনীপুরী এবং চাকমা এমনকি উর্দু ভাষী জনগোষ্ঠী (বিহারী) দের মধ্যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি সংবিধানে ও সাংস্কৃতিক পরিচায়ক “বাধানী” এর পরিবর্তে জাতীয় পরিচায়ক বাংলাদেশী শব্দটি প্রতিস্থাপিত করেন।
  • সাংস্কৃতিক সমন্বয় এবং অর্থনেতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শহীদ জিয়া ১৯৭৬ সালে একটি পার্বত্য উন্নয়ন কমিশন প্রতিষ্ঠা ও নিয়োগ করেন।
  • সরকার এবং বিভিন্ন উপজাতীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সংলাপ সংঘটনের লক্ষ্যে তিনি একটি উপজাতীয় কনভেনশন আয়োজন করেন।
  • বাংলাদেশ পুলিশের সংখ্যা দ্বিগুন করা হয় এবং সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৫০,০০০ থেকে ৯০,০০০ উন্নীত করা হয়।
  • গ্রাম সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
  • বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধ দমন ও প্রতিরোধ কল্পে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিষ্ঠা।
  • সারা বাংলাদেশে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক ও যুব শিক্ষা সম্প্রসারনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন।
  • বাংলাদেশে রেডিমেড গার্মেন্টস এর সূচনা এবং ব্যক টু ব্যক এলসি প্রথা প্রবর্তন।
  • বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দ্রুত শিল্প সম্প্রসারনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উন্নয়ন।
  • যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্টকরন ও উন্নয়ন।
  • সৌদি আরব ও চায়নার সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন সম্প্রসারন এবং যুগোপযুগী করণ।
  • পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ।
  • সকল ইসলামী দেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন।
  • মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশে এর সুনাম বৃদ্ধিকরনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন।
  • আঞ্চলিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহয়োগীতা বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দক্ষিন এশিয়ার দেশ সমূহকে নিয়ে আঞ্চলিক জোট গঠনের প্রস্তাব করণ। এই প্রস্তাবটি ১৯৮৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ কর্তৃক বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষিন এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সমিতি (সার্ক) গঠনকরা হয়। রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়ার সার্ক গঠনের ভিশন এর জন্য তাকে এই সংস্থার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।