(বিএনপি কমিউনিকেশন) — বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বুধবার, আগস্ট ১০, সর্বমোট ১২টি মামলার কোর্ট কার্যক্রমে উপস্থিত হতে ঢাকার আদালতে যান। যে ১২টি মামলায় তিনি উপস্থিত হন সেগুলো হচ্ছে – রাজধানীর দারুসসালাম থানার নাশকতার ৯ মামলা, নাইকো মামলা, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা।

এর মধ্যে ১০টি মামলায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

বিএনপির চেয়ারপারসন দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পুরান ঢাকার আদালতপাড়ায় পৌঁছান।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

প্রথমে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে করা মামলায় হাজিরা দিতে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে যান। আইনজীবীরা তাঁর পক্ষে সময়ের আবেদন করেন।

নাশকতার মামলা

এরপরে নাশকতার অভিযোগে দারুস সালাম থানায় করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের আট মামলায় একই আদালতে উপস্থিত হয়ে  জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত বছর বিএনপিসহ ২০-দলীয় জোট হরতাল-অবরোধ ডাকে। খালেদা জিয়াকে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এই মামলাগুলোতে তাঁকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি সংক্রান্ত

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি সংক্রান্ত মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য থাকায় এরপর খালেদা জিয়া হাজির হন একই ভবনের ষষ্ঠ তলায় বিশেষ জজ আদালত-২-এ। এ মামলায় তাঁর পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। আবেদনে বলা হয়, এ মামলার বিষয় নিয়ে হাইকোর্টে করা আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত ৮ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করেন।

নাইকো মামলা

ওই আদালত থেকে খালেদা জিয়া নাইকো মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য থাকায় বেলা সোয়া একটার দিকে রেবতী ম্যানশনে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৯-এ যান। এ মামলার অন্য আসামিরাও আদালতে হাজির ছিলেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। তাঁর পক্ষে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী শুনানিতে বলেন, এই মামলা চলবে কি না, এ নিয়ে আপিল বিভাগে আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ গঠনের শুনানি মুলতবি রাখা হোক।

বিচারক সময়ের আবেদন নাকচ করেন।

শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার পক্ষে দ্বিতীয় দফায় করা সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

বিচারক আমিনুল ইসলাম ১৬ আগস্ট অভিযোগ গঠনের বিষয়ে খালেদা জিয়াসহ অন্যদের পক্ষে শুনানির দিন ধার্য করেন।

নাশকতার আরেকটি মামলা

বিশেষ জজ আদালত-৯ থেকে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে থাকা দারুসসালাম থানার আরেকটি নাশকতার মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন খালেদা জিয়া। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

এরপর তিনি আদালত থেকে বের হয়ে গুলশানের উদ্দেশে রওনা হন।

বেগম জিয়ার পক্ষে শুনানিতে আরও অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদীন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সানাউল্লাহ মিয়া, খোরশেদ আলম প্রমুখ।

এর আগে গুলশানের বাসভবন থেকে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে আদালতের উদ্দেশে রওনা করেন তিনি। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, আইনজীবীসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আদালত প্রাঙ্গণ ও রাস্তার দুইপাশে অবস্থান নেয়। গুলিস্তান থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানিয়ে মিছিল নিয়ে নিম্ন আদালত পর্যন্ত আসেন নেতাকর্মীরা।