(বিএনপি কমিউনিকেশন) — বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রবিরোধী কোন চুক্তি অথবা সমঝোতা স্মারক জনগণ মানবে না।

তিনি আরো বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের  বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত  ট্রানজিট ও বাণিজ্য অন্যতম। সীমান্তে বাংলাদেশ নাগরিকদের ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকর্তৃক বেআইনী ভাবে গুলি করে হত্যা, ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বন্টন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা এবং গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী আমাদের ন্যায্য অধিকার আজও অর্জিত হয়নি।

মঙ্গলবার, এপ্রিল ৪, বিকেল ৪টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় নাগরিকরা বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে যা  রেমিট্যান্স সূত্রে ভারতীয় আয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎস বলে জানা যায়। প্রায় বিনামূল্যে ট্রানজিট দিয়ে দেয়া হয়েছে ভারতকে। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত প্রতি টনের জন্য ১০৫৮ টাকার স্থলে প্রতি টনে মাত্র ১৯২ টাকায় ভারতকে ট্রানজিট দিয়েছে  সরকার।

মির্জা আলমগীর জানান, ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ  ইন্সটিটিউট’ এর মতে ১৯৫০ সালের পর অস্ত্র আমদানিতে এক নম্বরে আছে ভারত । যে দেশ নিজেই অস্ত্র আমদানিতে এক নম্বর সে দেশের কাছ থেকে বাংলাদেশ কেন অস্ত্র কিনতে যাবে ? সাশ্রয়ী এবং আধুনিক চীনা অস্ত্র ও সরঞ্জামে সজ্জিত আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য ভারতের প্রস্তুতকৃত অধিক দামের অস্ত্র ক্রয় কতটুকু যৌক্তিক তা নিশ্চয়ই প্রশ্নের দাবী রাখে।

মঙ্গলবার, এপ্রিল ৪, বিকেল ৪টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর’র সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো –

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ

আসসালামু আলাইকুম।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আগামী ৭ এপ্রিল চার দিনের সরকারী সফরে ভারত যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। এ সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে মর্মে পত্র-পত্রিকায় জল্পনা-কল্পনা চলছে। বলা হচ্ছে এ সফরে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, পারমানবিক সহযোগিতাসহ জ্বালানি, মহাকাশ, রেল তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো ও অন্যান্য বিষয়ে দুই ডজনের মত চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।  বাংলাদেশী প্রেস সূত্রে প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়ে তেমন কিছু জানা না গেলেও ভারতীয় প্রেস সূত্রে বিশেষ করে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের নিবন্ধ থেকে জানা যায় যে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি বা প্রতিরক্ষা সমেঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। ভারতের সদ্য-সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পারিকরের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর, ভারতীয় সেনাপ্রধানের ঢাকা সফর এবং ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব জয়শংকরের ঢাকা সফরের কারণে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই এর ধারণাটি আরও ঘনীভূত হয়। ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা হিন্দুস্তান টাইমসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সর্বশেষ দুটি সাবমেরিন কেনার কারণে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিষয়ে দ্রুত সমঝোতা স্মারক সইয়ে আগ্রহী হয়েছে। যাহোক  প্রতিরক্ষা বিষয়ে বড় ধরনের একটা কিছু সই হতে যাচ্ছে এমন একটা আবহ সৃষ্টি করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি হতে পারে বা হতে পারে প্রতিরক্ষা বিষয়ে এমওইউ। যদি চুক্তি বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হয় তবে এই চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকে কী আছে বা কী থাকছে -তা আদৌ স্বচ্ছ নয়। জনগণ এ চুক্তি বা সমঝোতা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত একেবারেই অন্ধকারে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কোন আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়নি। অনির্বাচিত জাতীয় সংসদেও এসব চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে কোন আলোচনা হয়নি। প্রতিরক্ষার মত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। প্রায় সকল গণতান্ত্রিক দেশে এই ধরণের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বা সমঝোতা স্বাক্ষরের পূর্ব দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে পরামর্শের রেওয়াজ আছে এমনকি ভারতেও সেই রেওয়াজ প্রচলিত অথচ বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে জনগণকে কিছুই জানায়নি। জনগণকে পাশ কাটিয়ে দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী কোন ধরনের চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক জনগণ মেনে নেবে না।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

বাংলাদেশ সরকার দাবী করে যে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বর্তমানে সর্বকালের উষ্ণতম পর্যায়ে আছে। সে ক্ষেত্রে এই মুহুর্তে বাংলাদেশকে কেনো ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে তা বোধগম্য নয়।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের  বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত  ট্রানজিট ও বাণিজ্য অন্যতম। সীমান্তে বাংলাদেশ নাগরিকদের ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকর্তৃক বেআইনী ভাবে গুলি করে হত্যা, ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বন্টন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা এবং গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী আমাদের ন্যায্য অধিকার আজও অর্জিত হয়নি। কয়েকবার তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর হবে মর্মে ঘোষণা আসলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। সিকিম থেকে শুরু হয়ে পশ্চিম বঙ্গের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা তিস্তার পানি কৃষি প্রধান বাংলাদেশের জনমানুষের জীবন-মরণ সমস্যা। অথচ এবারও তিস্তা চুক্তি সই হবে না মর্মে বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রী ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে গঙ্গা চুক্তি হলেও আজও শুষ্ক মৌসুমে আমরা হিস্যা মত পানি পাচ্ছি না।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

সীমান্তে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে বিএসএফ কর্তৃক পাখির মত গুলি করে বাংলাদেশীদের হত্যা দুটি দেশের মানুষের মধ্যে কেবল সন্দেহ ও অবিশ্বাসই বাড়িয়ে তোলে। গত এক দশকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৫৫২ জন বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা করেছে, যার জন্য ভারত একবার দুঃখ পর্যন্ত প্রকাশ করেনি। ফেলানি হত্যার বিচার আজও পায়নি  বাংলাদেশ। কাঁটাতারের বেড়া অবিশ্বাস, অসম্মান আর সন্দেহেরই ইঙ্গিত বহন করে। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত সফরে যাচ্ছেন তার মাত্র কয়েকদিন আগে লালমনিরহাট সীমান্ত থেকে বিএসএফ এক বাংলাদেশীকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এই গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার কোনো কথাই বলছে না।

বাংলাদেশী ব্যবসায়ী মহল বহুদিন ধরে শুল্ক ও অশুল্ক বিভিন্ন বাণিজ্য বাধার অভিযোগ করে আসছে। সে বিষয়টির এখন পর্যন্ত কোন সন্তোষজনক সমাধান হয়নি।  অথচ বাংলাদেশ ভারতের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অনেক ইস্যুতে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে যার সুফল ভারত পাচ্ছে।

ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহ দমন থেকে শুরু করে ভারতের পণ্য আনা-নেয়ার জন্য পোর্ট ব্যবহারের সুবিধা, নামমূল্য  ট্রানজিট সুবিধা প্রদান এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক ঐকমত্যে  ভারতীয় স্বার্থে বাংলাদেশের অবদান অনন্য। যেখানে বাংলাদেশ নিজেই প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, সেখানে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় নাগরিকরা বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে যা  রেমিট্যান্স সূত্রে ভারতীয় আয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎস বলে জানা যায়। প্রায় বিনামূল্যে ট্রানজিট দিয়ে দেয়া হয়েছে ভারতকে। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত প্রতি টনের জন্য ১০৫৮ টাকার স্থলে প্রতি টনে মাত্র ১৯২ টাকায় ভারতকে ট্রানজিট দিয়েছে  সরকার। বাংলাদেশ প্রথমবারের মত ভারতকে দিয়েছে মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের সুবিধা যার মাধ্যমে ভারতের ১৫টি রুটে স্বল্প ব্যয়ে মাল পরিবহনের সুযোগ থাকছে।  সেভেন সিস্টার্স অর্থাৎ উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিষয়ে বাংলাদেশ ভারতকে দিয়েছে পূর্ণ নিরাপত্তা। একজন ভারতীয় কূটনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, ‘এখন ভারতের উদার  হওয়া উচিত, এখন সময় দেনা পরিশোধের।’

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় প্রতিরক্ষার নামে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ৫০ কোটি ডলার বা ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ চুক্তি করবে তা ভারতীয় ও বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই ঋণ দিয়ে বাংলাদেশকে ভারত থেকেই অস্ত্র কিনতে হবে। ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ  ইন্সটিটিউট’ এর মতে ১৯৫০ সালের পর অস্ত্র আমদানিতে এক নম্বরে আছে ভারত । যে দেশ নিজেই অস্ত্র আমদানিতে এক নম্বর সে দেশের কাছ থেকে বাংলাদেশ কেন অস্ত্র কিনতে যাবে ? সাশ্রয়ী এবং আধুনিক চীনা অস্ত্র ও সরঞ্জামে সজ্জিত আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য ভারতের প্রস্তুতকৃত অধিক দামের অস্ত্র ক্রয় কতটুকু যৌক্তিক তা নিশ্চয়ই প্রশ্নের দাবী রাখে। অস্ত্র প্রস্তুতকারী নতুন দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে সমরাস্ত্র বিক্রির নিশ্চিত ‘ক্যাপ্টিভ মার্কেট’ হিসেবে পেতে চায়। প্রশিক্ষণ, পর্যবেক্ষণ বা তথ্য বিনিময়ের কথা এই চুক্তি বা স্মারকে থাকবে বলে যে কথা হচ্ছে তা এদেশের জনগণের কাছে স্পষ্ট নয়। আগেই বলেছি, এটি চুক্তি হবে, না সমঝোতা স্মারক হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে চুক্তি বা এমওইউ  যাই হোক না কেন, এই অসম চুক্তির মূল্য দিতে হবে এদেশের সাধারণ মানুষকে।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সময় ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। বাংলাদেশ তাতে কী পেল বা কী দিল তা দেশবাসীর কাছে আজও স্পষ্ট নয়। ৪০ বছর আগে স্বাক্ষরিত সীমান্ত চুক্তি এতোদিন ভারত বাস্তবায়ন করেনি। বিলম্বে হলেও এই চুক্তির বাস্তবায়নে ছিটমহলবাসী উপকৃত হয়েছে।

ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদান আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি। ভারত একটি বৃহৎ শক্তিশালী রাষ্ট্র। ভারত তার নিজস্ব স্বার্থ দেখবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা ভারতের সাথে সব সময়েই সৎ প্রতিবেশী সুলভ সম্পর্ক চাই। কিন্তু কোনভাবেই আমাদের সার্বভৌমত্বকে খাটো করে নয়। বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোতে যদি আন্তরিকভাবে সমাধানে ভারত এগিয়ে আসে তা হলে বাংলাদেশের মানুষের মনে সৃষ্ট আস্থার ঘাটতি দূরীভূত হবে এবং ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েই পারস্পরিকভাবে লাভজনক ও কল্যাণমূলক সম্পর্কে প্রাকৃতিকভাবেই আরো দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ হবে। এ জন্য আলাদা করে কোন প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকের  প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনেকরি না। লিখিত প্রতিরক্ষা চুক্তির বা সমঝোতার  প্রশ্ন তখনই ওঠে যখন পারস্পরিক বিশ্বাস আর আস্থার ঘাটতি থাকে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

দুটি রাষ্ট্রের সুন্দর, সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তখনই আশা করা যায় যখন সম্পর্কটা হয় দুই দেশ ও জনগণের মধ্যে। সরকার বদলায় কিন্তু জনগণ থাকে এবং একটি রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তিই হচ্ছে এর জনগণ। তাই দুটি দেশের সম্পর্ক এমন হওয়া উচিত যাতে সরকার পরিবর্তন হলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কটি একই রকম মজবুত থাকে। আমরা বাংলাদেশ এবং ভারত রাষ্ট্রদ্বয় এবং দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক চাই, আর সেটাই হবে টেকসই সম্পর্ক।

বিএনপি বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও দৃঢ়, বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক আস্থাশীল দেখতে চায়। দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগীতা, দুই দেশের জনগণের সৌহার্দ্যপূর্ণ বন্ধুত্বের সম্পর্কে আরোও সুসংহত করাই এই দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। পারস্পরিক সমতা, মর্যাদা, ও সার্বভৌমত্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াই আমাদের নীতি। আমরা কখনোই বাংলাদেশের ভূখন্ডে ভারত বিরোধী কর্মকান্ড-কে জায়গা দেবোনা। আমরা একই সঙ্গে প্রত্যাশা করি ভারতও আমাদের অখন্ডতা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্তের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকবে। উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ, আন্তর্জাতীক অথবা আঞ্চলিক সবধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করাই বিএনপির ঘোষিত নীতি।

আমরা আশা করি, সরকার প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরের পূর্বেই তাঁর  সফরকালে যে সকল চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার সবকটি জনগণের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করবে। জনগণই এ দেশের মালিক। দেশ এবং জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এসকল চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানার ও মতামত প্রকাশ করার অধিকার তাদের রয়েছে। জনগণকে পাশ কাটিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রবিরোধী কোন চুক্তি অথবা সমঝোতা স্মারক জনগণ মেনে নেবে না।