(বিএনপি কমিউনিকেশন) —  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের উন্নয়নে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

মঙ্গলবার, মে ২, বিকেলে বাজেট নিয়ে এনটিভির ‘কেমন বাজেট চাই’ অনুষ্ঠানে আমির খসরু এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে বাড়াতে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার।  তিনি বলেন, বিএনপির সময়ে উন্নয়নের রাজনীতি হয়েছে।

সেই উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতির ফলে ব্যক্তি খাতে সক্ষমতা বেড়েছে। এটাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সরকার ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারছে না উল্লেখ করে খসরু বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ না বাড়াতে পারে, ততক্ষণ পর্যন্ত উন্নয়ন হবে না। দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নেই। আর এ কারণে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশ বাইরে চলে যাচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, বাংলাদেশের কৃষকরা ১৮ ঘণ্টা কাজ করে। কৃষকদের প্রতি সহযোগিতা প্রত্যেক সরকারেরই করা উচিত।

খসরু বলেন, বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিট (১০ শতাংশ বা বেশি) হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ ১৩৯ নম্বরে আছে। অর্থাৎ সামগ্রিক অর্থে এই খাতের অবস্থা ভালো নয়। আর এ কারণে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ বিলিয়নের (৫০০ কোটি) ওপরে টাকা বাইরে যাচ্ছে। বাংলাদেশে বাইরের দেশের ১০ লক্ষাধিক লোক কাজ করছে। তাই মানবসম্পদের উন্নয়ন করতে হবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন,  বরাদ্দ কম হওয়ায় দেশের বিনিয়োগ বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিটি পরীক্ষায় ৯০ শতাংশ পাস করেছে। অথচ ৪০ শতাংশ লোকের কর্মসংস্থান নেই। এই কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে রাজনৈতিক সুবিধা লাভের উদ্দেশে পাসের হার কমাতে হবে।

গুলি করে হত্যা অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু এই সরকারের আমলে বিএনপির পাঁচ শতাধিক  নেতাকর্মীকে গুম করে হত্যা করা হয়েছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে মানুষের রিয়েল ওয়েজ বা প্রকৃত মজুরি কমে গেছে।

মুদ্রাস্ফীতি বা ক্রয়ক্ষমতার সাপেক্ষে একজন ব্যক্তির আয়কে প্রকৃত আয় বলা যায়। একজন ব্যক্তি একজন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে বর্তমান সময়ে কী পরিমাণ দ্রব্য কিনতে পারছে এবং অতীতে কী পরিমাণ কেনা যেত, তা দিয়ে প্রকৃত আয় নির্ধারণ করা হয়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সত্যিকার বাজেট ব্যয় হচ্ছে না। চলতি বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাত্র ৬৯ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। বাজেট সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ঋণপ্রবাহে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্সে (বৈদেশিক মুদ্রা আয়) কমে গেছে। বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে গেছে। এই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে অন্যান্য ফ্যাক্টরগুলো সামঞ্জস্য নেই।

আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, ৭ দশমিক ০৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল বিএনপির শেষ সময়ে। সব জায়গায় রপ্তানি, আমদানি, রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ছিল। কিন্তু এই সরকারের আমলে স্থবির হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আজকে যুবকদের মধ্যে ৪০ শতাংশের চাকরি নেই।