(বিএনপি কমিউনিকেশন) — দলের নেতাকর্মীদের সাজা দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই দ্রতবিচার আইনের মেয়াদকাল বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার  দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এক সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অভিযোগ করেন।

‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী’ উপলক্ষে এ সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গতকাল সরকার মন্ত্রী সভায় পাশ করেছে দ্রুত বিচার আইন। আগে ছিল দুই বছর থেকে পাচ বছর কিন্তু এখন তারা (সরকার) আরও দুই বছর বাড়িয়ে দুই থেকে সাত বছর করেছে। উদ্দেশ্য যেহেতু এখন নির্বাচনের কথা উঠেছে তাই এই সময়ে যদি বিরোধীদলের সব নেতাকর্মীদেরকে অভিযুক্ত করে সাজা দিয়ে দেয়া যায়, তাহলে তারা (আওয়ামী লীগ) আবারও ২০১৪ সালের মতো একা একা একটি নির্বাচন করতে পারবে।

সরকারের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, এবার বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের (সরকার) ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে দেবে না। দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার আদায় করবে। সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।

তিনি বলেন, আমাদের অস্তিত্বের জন্য, বেচে থাকার জন্য এবং জাতি হিসেবে টিকে থাকার জন্য এই সরকারকে পাল্টানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কারণ কোন জায়গায় সুস্থ অবস্থা নেই। দেশে আমরা কেউ নিরাপদ নয়। বাবা-মারা এখন তাদের যুবক-তুরণ ছেলেদের বাইরে বেড়–তে দিয়ে চায় না, কখন তাদের ধরে তুলে নিয়ে গিয়ে যাবে এবং বলবে জঙ্গি তারপর আবার ক্রসফায়ার।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ে ক্রসফায়ারে একটা,দুইটা,তিনটা হচ্ছে।আবার নাটকও করে ভালো ভালো। বলে যে আশপাশের চারদিক ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। এবং এনকাউন্টারে পুলিশের কয়েকজন আহত হয়। আজকেও হয়েছে। এই ধরণের ঘটনা ঘটছে আবার আমরা কথা বললে পুলিশ বাহিনীর মনোক্ষুন্ন হয়। কিন্তু আমরা কেন প্রশ্ন করবো না?

সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা তো একটি জঙ্গিকে এখন পর্যন্ত বিচারের সামনে নিয়ে আসতে পারলেন না। দেখেন আর গুলি করে মেরে ফেলেন. . . . আপনাদের ভাষায়। বিচার হচ্ছে কোথায়? এসমস্ত নাটক মানুষ বুঝে, বোকা বানানোর কোনো কারণ নেই। তাই বলছি ভালোই ভালোই নির্বাচন দিন। একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। তা না হলে অতীতে যে অবস্থা হয়েছে একনায়কদের সে অবস্থা আপনাদের হবে।

আয়োজক সংগঠনের সহ সভাপতি ডা. মো.আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ড্যাব নেতা ডা.আব্দুল মান্নান মিয়া, ডা, মোস্তাক রহিম স্বপন, ডা. মোহাম্মাদ আতিকুর রহমান।