(বিএনপি কমিউনিকেশন) — গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)’র সভাপতি আ স ম আব্দুর রব এর উত্তরার বাসায় দেশের রাজনৈতিক দল এর নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে বৈঠকের সময় অনাকাঙ্খিতভাবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি এবং অতিদ্রুত সভা সমাপ্তির জন্য পুলিশী তাগিদের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

শনিবার, জুলাই ১৫, এক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, “দেশকে একদলীয় দু:শাসনের চরম অন্ধাকরে নিপতিত করতে বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন ভোটারবিহীন সরকার এখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আর এই চরম সীমালঙ্ঘনের কারনেই দেশে রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা ধর্মীয় সংগঠনগুলো উন্মুক্ত কোন স্থানেই নয় বরং ঘরোয়া পরিবেশেও সভা কিংবা আলাপ-আলোচনা অনুষ্ঠান করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। পুলিশী বাধা অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে হামলা চালিয়ে সেসব সভা ও আলোচনা নস্যাৎ করতে যে ন্যাক্কারজনক অসদাচরণ করা হচ্ছে সেটির ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই। আ স ম আব্দুর রব এর বাসভবনে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক দলসমূহের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সভায় পুলিশী হস্তক্ষেপে আবারো প্রমানিত হলো রাষ্ট্র এখন অমানবিক এবং চরম গণবিরোধী। দেশে গণতন্ত্রশুণ্যতার কারনেই আইনের শাসন নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। সরকারী মদদে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

ভোটারবিহীন সরকারের আনুগত্য করতে গিয়ে তারা হিতাহিত জ্ঞানশুণ্য হয়ে পড়েছে। বিরোধী দল ও বিরোধী মত দমন করতে পুলিশকে লাগামহীন লাইসেন্স দেয়ার কারনেই সামাজিক অপরাধগুলো প্রশ্রয় পাচ্ছে তীব্র মাত্রায়। অনাচার বৃদ্ধির কারনেই শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ এখন ভয়-ভীতি-শঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। অশুভ উদ্দেশেই দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আ স ম আব্দুর রব এর বাসায় পুলিশ প্রবেশ করেছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে-রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে একটা ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি করা যাতে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে টু শব্দ করতে না পারে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী থাকার জন্য বর্তমান সরকার যাদের প্রতিপক্ষ মনে করে তাদেরকে নির্মূল করতে নানা পন্থা অবলম্বন করেছে, তারই অংশ হিসেবে আ স ম রবের বাসায় বৈঠক না করতে পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ এখন আরো বেশী সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ। সময় অতি সন্নিকটে যখন জনগণের সম্মিলিত গণরোষে এই নিপীড়ক সরকারের মূলোৎপাটন ঘটবে। আমি সরকারের প্রতি আহবান জানাই-গণবিরোধী জুলুমের পথ থেকে অবিলম্বে সরে আসুন, অন্যথায় যুগে যুগে সকল স্বৈরাচারের মতোই আপনাদের পরিণতি বরণ করতে হবে।”

অপর এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)’র সভাপতি আ স ম আব্দুর রব এর উত্তরাস্থ বাসভবনে দেশের কতিপয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের সময় অযাচিতভাবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সভা শেষ করতে পুলিশী হস্তক্ষেপের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “দেশে এখন বিকৃত দু:শাসন চলছে। এই কারনেই রাষ্ট্র ও সমাজে বিরাজমান রয়েছে চরম অস্থিরতা ও নৈরাজ্যকর পরিবেশ। মানুষের বাক-ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুরোপুরি কেড়ে নিয়ে তুঘলকি রাজত্ব বলবৎ করা হয়েছে। একদলীয় শাসনে সভা-সমাবেশ করার অধিকার আওয়ামী লীগেরই-এই ভ্রষ্ট নীতির জন্য সরকারকে একদিন জনগণের নিকট জবাবদিহি করতেই হবে। সকল স্বৈরাচারের বৈশিষ্ট্যই হলো-ক্ষমতার স্বাদ ও মোহে তারা লোভী ও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে, আর সেজন্য সাংবিধানিক এবং আইনের শাসনকে অগ্রাহ্য করে থাকে। আওয়ামী লীগ সেই ঐতিহ্যই বহণ করছে। তবে জনগণ আর বসে থাকবে না, ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে দু:শাসন মোকাবেলায় জনগণ এখন প্রস্তুত। আমি আ স ম আব্দুর রব সাহেবের বাসায় অনুষ্ঠিত ঘরোয়া সভায় পুলিশী হস্তক্ষেপের ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে সরকারকে এধরণের ন্যাক্কারজনক আচরণ থেকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি।”