(বিএনপি কমিউনিকেশনস)  — বুধবার, আগস্ট ৯, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেসব্রিফিং এ দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশজুড়ে বিএনপি’র সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচীতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ ও আ’লীগ ক্যাডাররা। আওয়ামী ক্যাডার ও তাদের লালিত পালিত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপির দেশব্যাপি সদস্য সংগ্রহ কার্যকমে বাধা দিচ্ছে, হামলা করছে, ভাঙচুর করেছে এমনকি বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার নির্যাতনও করছে। এমনকি বিশেষ অভিযানের নামে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও গণগ্রেফতার শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জেলা উপজেলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও তাদের পরিচয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ীতে বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর ও তান্ডবলীলা চালানো হচ্ছে।

পুরো বক্তব্য নিচে তুলে দেয়া হলো –

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আসসালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।

গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন আওয়ামী লীগ সরকার বা পুলিশ বিরোধী দলের কোন কর্মসুচীতে বাধা দেয় না। তারা নিজেরাই গন্ডগোল করে সভা পন্ড করে দেয়। আমরা আগেই বলেছি সবদিক থেকে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে মিথ্যাচারই হলো আওয়ামী লীগের একমাত্র অবলম্বন। মিথ্যার মায়াজাল সৃষ্টি করা ছাড়া আওয়ামী লীগের উন্নয়ন বলে কিছু নেই। তারা জনগণকে বিভ্রান্ত ও বিরোধী দল ও মতকে নির্দয়ভাবে দমন করার পর  মিথ্যার মায়াজাল ছড়িয়ে দেয়।

বন্ধুরা

আপনারা দেখেছেন দেশজুড়ে বিএনপির দুই মাসব্যাপী প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযান চলছে। দলের এই কর্মসূচি ইতোমধ্যে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষেরা স্বত:স্ফুর্তভাবে বিএনপি সদস্য ফরম সংগ্রহ ও সদস্য পদ নবায়ন করছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের চলমান সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যর্থ হয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ্যে বিএনপি’র বিরুদ্ধে এলোমেলো সামঞ্জস্যহীন বক্তব্য রাখছেন, অন্যদিকে জেলায় জেলায় বিএনপি’র উদ্যোগে প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণ ও নবায়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পন্ড করতে পুলিশ ও দলীয় সশস্ত্র ক্যাডারদের লেলিয়ে দিয়েছেন। ভোটারবিহীন সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসন, লুটপাট আর নারকীয় উল্লাসে গোটা জাতি আজ ক্ষতবিক্ষত। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগসহ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তান্ডবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জনপদ ও জনবসতি এখন রক্তমাখা। তাদের আগ্রাসী চাঁদাবাজী, দখলবাজী, টেন্ডারবাজী, খুনখারাবীতে সারাদেশ এখন শ্মশানের অন্ধকারে ঢেকে গেছে। ক্ষমতাসীনরা যেন সারাদেশে প্রাণের স্পন্দন স্তব্ধ করে দেয়ার কর্মসূচিতে লিপ্ত। যেন বনে সকল প্রাণীকে ধ্বংস করে তারা শৃগালের রাজত্ব কায়েম করার মতো পরিস্থিতি তৈরী করেছে। মানুষ আজ আওয়ামী লীগকে লাল কার্ড দেখাতে শুরু করেছে। তাই আওয়ামী লীগ সদস্য সংগ্রহ অভিযানে ব্যর্থ হয়ে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে। আওয়ামী ক্যাডার ও তাদের লালিত পালিত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপির দেশব্যাপি সদস্য সংগ্রহ কার্যকমে বাধা দিচ্ছে, হামলা করছে, ভাঙচুর করেছে এমনকি বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার নির্যাতনও করছে। এমনকি বিশেষ অভিযানের নামে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও গণগ্রেফতার শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জেলা উপজেলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও তাদের পরিচয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ীতে বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর ও তান্ডবলীলা চালানো হচ্ছে।

তার কিছু চিত্র এখন আমি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি-

১। নেত্রকোণা জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ইমাম হাসান আবু চাঁন চেয়ারম্যান, দূর্গাপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল এবং দূর্গাপুর পৌর বিএনপি’র সভাপতি ফজলুর রহমান রুনুসহ ৫২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া গত ৪ আগষ্ট ২০১৭ দূর্গাপুর উপজেলায় বিএনপি’র সদস্য পদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠান পুলিশী হামলায় পন্ড হবার পর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বাড়ীতে বাড়ীতে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশ যৌথভাবে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে প্রতিনিয়ত পুলিশ বাড়ীতে বাড়ীতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে, কেউ বাড়ীতে থাকতে পারছেনা। উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম তালুকদারের বাড়ীতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি বিএনপি’র পক্ষ থেকে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এই ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তা বন্ধের আহবান জানাচ্ছি।

২। ময়মনসিংহে ইনডোর কিংবা আউটডোর কোথাও বিএনপি’র কোন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়া হবে না বলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের মদদপুষ্ট হয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এই ধরণের বেআইনী ঘোষণায় আমি দলের পক্ষ থেকে ধিক্কার জানাই। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এই ধরণের ঘোষণা প্রমান করে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটি এখন পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার হরণ করতে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার যে মরিয়া হয়ে উঠেছে এ ধরণের ঘোষণায় তা আবারো প্রমানিত হলো।

৩। ফেনী জেলাধীন সোনাগাজী উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মেজবাহ উদ্দিন পিয়াস গত ০৭ আগষ্ট ২০১৭, রাতে ফেনী থেকে ঢাকা আসার পথে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে সোনাগাজী থানায় হস্তান্তর করলে থানা পুলিশ তার ওপর বর্বর নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জড়িয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আমি দলের পক্ষ থেকে পুলিশ কর্তৃক এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে মেজবাহ উদ্দিন পিয়াস এর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তি দাবী করছি।

৪। দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে বাবুল হোসেন, মো: মানিক, মো: ফুল মিয়া, মো: শফিকুল এর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আমি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতৃবৃন্দকে কারাবন্দী করতে সরকারী নিপীড়ণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার করে নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

৪। গত ৫ আগষ্ট ২০১৭ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র উদ্যোগে বিএনপি’র সদস্য পদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান চলার সময় পুলিশ অতর্কিতে হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠানটি পন্ড করে দিয়েছে। আমি এ ঘটনায় নিন্দা জানাই, প্রতিবাদ জানাই।

সাংবাদিক বন্ধুরা,

গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে-সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে ক্ষুব্ধ সরকার। যার প্রথম কিছুটা আভাস পাওয়া যায় ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে অর্থমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ায়। অর্থমন্ত্রী উচিত অনুচিতের এথিকসের ধার ধারেন না।  সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নিয়ে নাকি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। একই সঙ্গে রায়ের পর্যবেক্ষণে দেয়া অনেক বক্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ বলে অভিহিতও করেছেন তারা। রায়ের পর্যবেক্ষণে দেয়া ‘আপত্তিকর’ বক্তব্য প্রত্যাহার করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতি বরাবর লিখিত আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে আমরা গণমাধ্যম সূত্রে জেনেছি।

বন্ধুরা

গতকাল মহামান্য হাইকোর্টের একটি আদেশে বলা হয়েছে-আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ মানা অবশ্যই বাধ্যতামূলক। সুতরাং ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে যে পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে, এরপরেও সেখানে আপত্তিকর বিষয় বলে প্রত্যাহার করা বলাটা সরকারের চরম ধৃষ্টতা। সুপ্রীম কোর্টের রায়ের উক্ত পর্যবেক্ষণে সরকারের আসল চরিত্রটা সঠিকভাবে চিত্রিত হওয়ার কারণেই তাদের ক্ষুদ্ধ হওয়া। এই পর্যবেক্ষণে সরকার আর কর্মক্ষম থাকতে পারেনা, পার্লামেন্টের কোন বৈধতা থাকতে পারেনা। সরকারের ক্ষমতায় থাকাটা শুধু বেআইনী নয়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে। পর্যবেক্ষণে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের কথাও বলা হয়েছে, অখন্ড নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে, তাহলে আওয়ামী লীগের দলীয় লোক প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কীভাবে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করবেন ?

ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।