(বিএনপি কমিউনিকেশনস)  — আজ ১২ আগস্ট, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও তিনবারের সাবেক নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর ৪৮তম জন্মবার্ষিকী। শহীদ জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘর আলোকিত করে ১৯৬৯ সালের এইদিনে আরাফাত রহমান কোকো জন্মগ্রহণ করেন।

আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ওই দিন বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। পরে ২৮ জানুয়ারি আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ দেশে আনা হয়। ওই দিনই বনানী কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।

রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হলেও আরাফারত রহমান কোকো রাজনীতিক হিসেবে নয়, একজন উদ্যোক্তা হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। ব্যবসা, ক্রীড়া ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেই নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রেখেছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হয়েও তার মধ্যে কোনো অহঙ্কার ছিল না। একজন সাধারণ মানুষের মত তিনি জীবনযাপন করতেন।

আরাফাত রহমান কোকো পরিবারের সদস্যদের সাথে।

মিতবাক, সজ্জন এবং সাদাসিধে এ মানুষটার খুব ঘনিষ্ঠজনরা জানেন তার সাদাসিধে জীবন সম্পর্কে। একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হয়েও নব্বইয়ের দশকে তিনি বাকিতে মোটরসাইকেলের তেল কিনতেন। অবিশ্বাস্য মনে হতেই পারে। এছাড়া তিনি মাঝেমধ্যেই খেলনা আর চকলেট নিয়ে পথশিশুদের কাছে ‘সারপ্রাইজ’ হিসেবে হাজির হতেন। তাদের সাথে ক্রিকেট খেলতেন। মালয়েশিয়াতে অবস্থানকালেও তিনি খুবই সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। একটি দুই বেডের ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। নিজেই প্রতিদিন দুই মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতেন এবং নিয়ে আসতেন। বিনয়ী ও প্রচারবিমুখ কোকোর চরম শত্রুরাও তার ব্যক্তি চরিত্রের কোনো ত্রুটির কথা বলতে পারবেন না।

বড় ভাই তারেক রহমান’র স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ ছোট ভাই আরাফাত রহমান।

ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে এ ক্রিকেটপ্রেমী ছুটে বেড়িয়েছিলেন শহর থেকে গ্রামে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে ২০০৩ সালে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। সেই সাথে বিসিবির একজন সদস্যও ছিলেন তিনি। ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য যে কর্মসূচি শুরু করেছিলেন তিনি বর্তমানে তার সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। জাতীয় পর্যায়ে ক্রিকেট খেলোয়াড় তৈরি করার জন্য ক্রিকেটকে জেলা থেকে শুরু করে উপজেলা, গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তাছাড়া তিনি মোহামেডান ক্লাবের এক্সিকিউটিভ কমিটির কালচারাল সেক্রেটারি ছিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাথে যুক্ত হওয়ার পর ক্রিকেটের অনেক উন্নয়ন করেছেন তিনি। ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য যা যা করার তাই করেছেন মরহুম এই ক্রীড়াপ্রেমী। ক্রীড়া সংগঠক ও শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), মোহামেডান স্পোর্টং ক্লাব ও সিটি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আরাফাত রহমান কোকো ও তাঁর স্ত্রী শর্মিলা রহমান।

দেশের মানুষ রাজনীতির কারণে বেগম খালেদা জিয়ার পাশাপাশি তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমানের নাম জানলেও আরাফাত রহমান কোকোর নাম খুব বেশি জানতো না। কোকোকে মানুষ জানতে পারলো ১/১১-এর সেনাসমর্থিত মইন-ফখরুদ্দীন সরকার কর্তৃক মা বেগম জিয়ার সাথে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তার গ্রেফতারের পর থেকেই। রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচন্ড  নির্যাতন করে তাকে পঙ্গু করা হয়। নির্যাতনের ফলে কোকোর হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয়। সে সময়ে সংবাদপত্রের ছবি এবং টিভির ভিডিওগুলোর কথা যাদের মনে আছে তারা হয়তো স্মরণ করতে পারবেন যে, কোকোকে সব সময় বুক চেপে ধরে থাকতে দেখা যেতো। সেই সময় থেকেই তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে থাইল্যান্ডে যান কোকো। সেখান থেকে তিনি মালয়েশিয়ায় চলে যান। এরপর থেকে তিনি স্ত্রী ও দু’কন্যাসহ মালয়েশিয়াতেই অবস্থান করছিলেন। সেখানেও তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেননি।

একদিকে বিদেশে তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, অন্যদিকে দেশে মা বেগম খালেদা জিয়ার ওপর সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের খবরে তিনি ছিলেন চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ২৪ জানুয়ারি ২০১৫ মালয়েশিয়ায়।

কর্মসূচি

আরাফাত রহমান কোকোর ৪৮তম জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপি ও এর অংগ এবং সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশেই কোরআনখানি ও দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীতে কোরআনখানি ও দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

সমাধিতে শ্রদ্ধা ও দোয়া

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া ইউং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, আজ (শনিবার) সকাল ১০ টায় বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বানানী  আরাফাত রহমান কোকোর কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা, কোরআনখানি ও দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

দোয়া

বাদ যোহর বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ, কেন্দ্রীয় সংসদের উদ্যোগে কোরআন খতম, দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম রুহুল কবির রিজভী।

আলোচনা

এছাড়াও আরাফাত রহমান কোকোর জীবনীর উপর আজ বিকেল চারটায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ক্রীড়া পরিষদ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দোয়া মাহফিলে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে যথাসময়ে দোয়া মাহফিলে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেছে বিএনপি।