(বিএনপি কমিউনিকেশনস)  — শনিবার, আগস্ট ১২, নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচ তলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র উদ্যোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকো’র ৪৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন-বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ। দোয়া মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, সেলিমুজ্জামান সেলিম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ-সম্পাদক রওনাকুল ইসলাম টিপু, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার, মাওলানা শাহ মো: নেছারুল হক, শামসুজ্জামান সুরুজ, অধ্যাপক আমিনুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্বৈরাচারী অপশাসনের কারণেই দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকো’র অকাল মৃত্যু হয়েছে। জনাব আরাফাত রহমান কোকো’র মা ও দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বর্তমান জালিম সরকার যখন চেয়ারপার্সনের গুলশানস্থ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে পুলিশ দিয়ে গরম পানি ও মরিচের গুঁড়া স্প্রে, বিদ্যূৎ ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরী করেছিল তখন আরাফাত রহমান কোকো এই সংবাদ শুনে মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন ও ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। মূলত: অবরুদ্ধ রেখে মা’য়ের ওপর বর্তমান সরকারের অমানবিক নির্যাতনের খবরেই ভীষণ অসুস্থ হয়ে আরাফাত রহমান কোকো’র অকাল মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন এর অবৈধ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই জিয়া পরিবারের ওপর নির্যাতনের ভয়াবহতা নেমে আসে। জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার লক্ষ্যেই সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে মঈন-ফখরুদ্দিন সরকার বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বড় ছেলে ও বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এবং বেগম জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোকে গ্রেফতার করে। জনাব তারেক রহমান এর ওপর চালানো হয় বর্বর নিপীড়ণ-নির্যাতন। আরাফাত রহমান কোকো’র ওপরও নির্যাতন চালানো হয়।সুতরাং জিয়া পরিবারের ওপর নির্যাতন শুরু হয় বর্তমান সরকারের দোসর ও আন্দোলনের ফসল মঈন-ফখরুদ্দিন এর সময় থেকেই।

রিজভী আহমেদ বলেন, গণতন্ত্রে স্বীকৃত মানুষের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা, চলাচলের স্বাধীনতা, সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা, নাগরিকের স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশ করার অধিকার হরণ করে একের পর এক সমাজে নানাধরণের দেয়াল তৈরী করে এক দুষিত রাজনৈতিক পরিবেশ জারি রেখেছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যতবারই ক্ষমতায় এসেছে ততবারই গণতন্ত্রকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশ গণতন্ত্রশুণ্য হয় এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব দুর্বল হয়, কারণ আওয়ামী লীগের জন্ম ও লালন-পালন হয়েছে বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার গবেষণাগারে।

তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের উৎপীড়ণের দেয়ালগুলি ভেঙ্গে নাগরিক স্বাধীনতা তথা দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইয়ে দিতে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেশবাসীসহ দলের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।  রিজভী আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আজও আরাফাত রহমান কোকো’র এই অকাল মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। দেশের এই বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠককের অবদান দেশবাসী কোনদিন বিস্মৃত হবে না। তিনি দলের পক্ষ থেকে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো’র জন্মবার্ষিকীতে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।