(বিএনপি কমিউনিকেশনস)   — বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি সৈয়দ শাহাদৎ সোমবার, আগস্ট ২০, ঢাকা থেকে গুম, বগুড়া জেলাধীন শাহজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মাকসুদুল হক পিন্টুকে ধরে নিয়ে গিয়ে পুলিশী হেফাজতে নিপিড়ণে হত্যা, বুধবার, আগস্ট ২৩, বিকেল ৩টায় বিএনপি’র বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব সালাহ উদ্দিন আহমেদ এর শ্যামপুর-কদমতলীস্থ বাসভবনে অনুষ্ঠিতব্য বিএনপি’র সদস্য পদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ পুলিশী বাধা দিয়ে অনুষ্ঠান পন্ড, নোয়াখালী জেলাধীন বেগমগঞ্জ থানার ৪ নং আলাইয়ার ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী যুবদল এর যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আলম, পিতার নাম-আবুল কাশেম, গ্রাম-ধীতপুর; তাকে মঙ্গলবার, আগস্ট ২২, ২০১৭ তারিখে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নেয়া ও এখনও পর্যন্ত কোথাও তার কোন সন্ধান না পাওয়া এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর হারুনুর রশীদ হারুন আগস্ট ২২, ২০১৭  বিকেল ৪টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে নিজ অফিসে যাওয়ার পথে নয়াপল্টন এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

উল্লিখিত  ঘটনাগুলোকে গনতন্ত্রের জন্য ভয়ংকর দু:সংবাদ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এধরণের আতংকজনক, অমানবিক ও প্রতিহিংসাপরায়ণ কর্মকান্ড দিন দিন জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে । বিএনপি মহাসচিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপরোক্ত সব ঘটনাগুলোতে রাষ্ট্রের বর্তমান সহিংস স্বরুপটিই স্পষ্ট হয়ে ওঠে । সরকার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে কব্জা করেই প্রানবিনাশী বিরোধীদলশুন্য কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে । সমাজ বিরোধীরা নয়, সরকারের বিভিন্ন বাহিনীই নানা অপরাধে যুক্ত থেকে দেশব্যাপী অনাচার চালাচ্ছে ।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “যেদেশে স্বয়ং নির্বাহী বিভাগ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে সেদেশে যে আইনের ন্যুনতম শাসন নেই তা সহজেই অনুমান করা যায়। আসলে সরকারের আচরণে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, তারা স্বৈরাচারী শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট করে সাধারণ মানুষসহ বিএনপি ও সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী ও বিরোধী মতের মানুষদের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিতে গুম, গুপ্তহত্যা , বাসা থেকে তুলে নিরুদ্দেশ করাটাকেই রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসাবে নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় মদদে রক্তাক্ত সন্ত্রাস অব্যাহত রাখা এখন এদেশের নিয়মে পরিণত করা হয়েছে।

দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বাহিনী দিয়ে গুম ও অপহরণের মাধ্যমে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের অদৃশ্য করে কিছুদিন পর নালা-ডোবায় লাশ ফেলে রাখা হচ্ছে। প্রতিদিনই বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের নামে নুতন নুতন মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার ও কারান্তরীণ করা হচ্ছে। এর ওপর চলছে গুম ও পুলিশী হেফাজতে হত্যার হিড়িক । সারাদেশটাই যেন এক ভয়াল বিচ্ছিন্ন দ্বীপে রুপান্তরিত হয়েছে। ভয়াবহ দু:শাসন ও নিষ্ঠুরতার হাত থেকে মুক্তি পেতে দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমেই বর্তমান জুলুমবাজ সরকারের পতন হবে।”

বিএনপি মহাসচিব ঢাকা থেকে গত পরশু নিখোঁজ বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি সৈয়দ শাহাদৎ এবং নোয়াখালী জেলাধীন বেগমগঞ্জ থানার ৪ নং আলাইয়ার ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী যুবদল এর যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আলমকে অবিলম্বে জনসম্মুখে হাজির করার দাবী জানান।

এছাড়া বিএনপি মহাসচিব বগুড়া জেলাধীন শাহজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মাকসুদুল হক পিন্টুকে ধরে নিয়ে গিয়ে পুলিশী হেফাজতে নিপিড়ণে হত্যা করার ঘটনায় ধিক্কার জানান। তিনি নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি’র বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব সালাহ উদ্দিন আহমেদ এর শ্যামপুর-কদমতলীস্থ বাসভবনে আজ অনুষ্ঠিতব্য বিএনপি’র সদস্য পদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠান পুলিশী বাধায় নস্যাৎ করে দেয়ার ঘটনাকে সরকারের চরম প্রতিহিংসামূলক আচরণ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিএনপি’র সদস্য সংগ্রহ কার্যকমের ব্যাপক সাফল্যে ইর্ষান্বিত হয়েই সরকার দেশব্যাপী বিএনপি’র এই ধরণের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে বাধা প্রদান করে পন্ড করে দিচ্ছে বলেও বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন। বিএনপি মহাসচিব ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর হারুনুর রশীদ হারুনকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবী জানান।