(বিএনপি কমিউনিকেশনস)   —   সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর থেকে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা যে বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড করছে তা আইনের শাসন বিরোধী ও আদালত অবমাননার শামিল বলে মন্তব্য করে মির্জা আলমগীর বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে এই অনৈতিক ও অবৈধ সরকারের পদত্যাগ করা উচিত।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংলাপ দেশের বিদ্যমান সঙ্কট সমাধানে কোনো কাজে আসবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইতোমধ্যে বলেছেন যে, ইসি সংলাপ খুব একটা সফলতা পাওয়া যাবে না। এটা রাজনৈতিক দলের সাথে ইসির সংলাপ। কারণ রাজনৈতিক দলের সাথে রাজনৈতিক দলের সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি করা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। কাজেই আমরা মনে করি, ইসি সংলাপ চলমান মূল সঙ্কট সমাধানে কোনো কাজ করবে না।

শনিবার, আগস্ট ২৬, দুপুরে সদ্য কারা মুক্ত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুকে নিয়ে শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদেরকে এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টকুসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, সহায়ক সরকার ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের যে বিষয়টি সামনে এসেছে সে ব্যপারে এই সংলাপ কোনো সমাধান দেবে না। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিলের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন অবৈধ ও অনৈতিক সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ষোড়শ সংশোধনী রায় বাতিলের পর ক্ষমতাসীন সরকার প্রধান থেকে শুরু করে নেতারা যে ভাষায় কথা বলছেন সেটা বেআইনি ভাষা। তারা বিচারবিভাগ ও প্রধান বিচারপতিকে যে ভাষায় কটাক্ষ করে কথাবার্তা বলছেন সেটা আইনের শাসনের ভাষা নয়। বরং এটা আদালত অবমাননাকর। এর মাধ্যমে এটাও প্রমাণিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আইনের শাসনের বিরোধী। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নষ্ট করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নেতারা এমন সব কথাবার্তা বলছেন যা আমি মনে করি তারা নিজেরাও জানেন না, তারা কী বলছেন? মূল কথা ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ক্ষমতাসীনদের আসল চেহারা দেশের জনগণের কাছে পরিস্কার হয়ে গেছে। তারা কিভাবে দেশ পরিচালনা করছেন? আর তাই এখন অমূলক কথাবার্তা বলে যাচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে যে স্বৈরশাসক ও চক্রান্ত চেপে বসেছে – এর বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই-সংগ্রাম করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে আমরা এই শপথ নিয়েছি।