(বিএনপি কমিউনিকেশনস)   — বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রোববার, সেপ্টেম্বর ৩, রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিং এ বলেছেন, ভুক্তভোগী জনগন সব কিছুই নথিভূক্ত রেখেছে। জনগনের সংগ্রামী ঐক্য সংকল্প  বীরত্ব দুঃশাসনকে মোকাবেলা করতে এগিয়ে আসছে।

নিচে পুরো বক্তব্য তুলে দেয়া হলো –  

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

আসসালামু আলাইকুম। পবিত্র ঈদুল আযহার পর আজকের এ সংবাদ সম্মেলনে কষ্ট করে উপস্থিত হওয়ায় আপনাদের সকলকে জানাচ্ছি পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা।

বন্ধুরা,

দেশের ভোটারবিহীন প্রধানমন্ত্রীর মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন উক্তি করা জুরি নেই। গত দুই দিন আগে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যখনই অশিক্ষিতরা ক্ষমতায় আসে তখন দেশ পিছিয়ে পড়ে। দলের সাধারন সম্পাদক বলেছেন বাংলাদেশে যত উন্নয়ন হয়েছে সব তাদের আমলে। আমি প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই শিক্ষার মাপকাটি যদি পয়সা দিয়ে কেনা পচা গমের বস্তায় ভরা ডক্টরেট ডিগ্রীর ঘাড়ে নিয়ে দেশ চালালে দেশের কি বারটা বাজে বর্তমান বাংলাদেশের অবস্থা তার প্রত্যক্ষ দৃষ্টান্ত। বস্তায় ভরা ডক্টরেট ডিগ্রীর নমুনা হচ্ছে সারাদেশে নারী, শিশু, স্কুল-কলেজের ছাত্রী ও তরুণীদের চলন্ত গাড়িতে যে পৈশাচিক নির্যাতন ও নির্যাতনের পর হত্যা, সারাদেশে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কমীদের দখলবাজি আর চাঁদাবাজি, সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলা ফেলানিসহ বাংলাদেশীদের লাশের পাহাড়, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিচারবর্হিভূত হত্যা, ইলিয়াস আলী, চৌধুরি আলম, সাইফুল ইসলাম হীরুসহ অসংখ্য নেতাকমীদের গুম, মিথ্যা মামলা দিয়ে লাখ লাখ নেতা-কর্মীদের বর্বর নির্যাতন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ,বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিনকে গুম করে ভারতে ফেলে আসা, বিডআর হত্যাকান্ড, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা, ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক খাদিজাতে কুপানো, মিম জিমকে নির্যাতন, তনু- রুপাদের পৈশাচিক নির্যাতরে পর হত্যা, ব্যবসা বানিজ্যে বিনিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, রেমিটেন্স প্রবাহে ভয়াবহ ধস, ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতাহীন একতরফা নির্বাচন করা, নির্বাচনকে ঘিরে দেশব্যাপি রক্তা গঙ্গা বইয়ে দেওয়া, বিরোধী দলের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা কিংবা সাড়াশি আক্রমণ চালানো, আইনশৃঙ্খলার নামে মানুষের স্বাধীনতার কণ্ঠরোধ ও অধিকারগুলোকে সংকুচিত করা, গণমাধ্যমকে নিষ্ঠুরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও ৫৭জন সাংবাদিক হত্যা সর্বোপরি দেশের গণতন্ত্রকে ক্যান্সারে আক্রান্ত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী স্বভাসুলভ মদগর্বি আস্বাফলন করে নিজেদের ব্যর্থতাকে আড়াল করার চেষ্টা চালালেও ভুক্তভোগী জনগন সব কিছুই নথিভূক্ত রেখেছে। জনগনের সংগ্রামী ঐক্য সংকল্প  বীরত্ব দুঃশাসনকে মোকাবেলা করতে এগিয়ে আসছে।  

আর উন্নয়নের পরিকীর্তন করছেন দলের সাধারন সম্পাদক, সারাদেশে হাজার হাজার কি. মি. সড়কের বেহাল দশা আপনাদের উন্নয়নের নমুনা, প্রকল্পের নামে পিপিআরের আইন লঙ্ঘন করে হাজার হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করে বেপরোয়া লুটপাট হলো আপনাদের উন্নয়নের নমুনা, লুটপাটের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ব্যাংকসহ সমস্ত আর্থিক খাত ধ্বংস করা হলো আপনাদের উন্নয়নের নমুনা, বিনাবিচারে মানুষ হত্যার মহোৎসব আপনাদের উন্নয়নের নমুনা, মায়ের কোল খালি করে মানুষ গুম আপনাদের উন্নয়নের নমুনা। পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভূলতথ্য ও আমাদের মূল্যবোধ বিরোধী শিক্ষার কার্যক্রম চলতে থাকায় আমাদের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা বিভ্রান্তি ও কুশিক্ষার আবর্তে নিপতিত হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা এখন গভীর খাদের মধ্যে ফেলে দেওয়া আপনাদের উন্নয়নের নমুনা।

চালের দাম ১৬ টাকা থেকে বাড়তে বাড়তে বর্তমানে নুন্যতম ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে তা হলো আপনাদের উন্নয়নের নমুনা। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ বিল বেআনিভাবে যেভাবে  বাড়ানো হয়েছে, নিত্যপণ্যসহ সকল পণ্যের দাম যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমাছাড়িয়ে গেছে, মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে এটা হলো আপনাদের উন্নয়নের নমুনা।

আমি আওয়ামী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নে বিএনপি যে বিপ্লব সাধন করেছিল সে অবকাঠামো এখন ধ্বংস হয়ে গেছে। আপনারা নতুন নতুন সড়ক নির্মান দুরে াক বিএনপি যেসব রাস্তা করে গিয়েছিল আপনারা সেগুলো মেরামত পর্যন্ত করতে পারেন নি। ফলে হাওর ও উত্তরাঞ্চলে বন্যায় মানুষের অকৃষি কাজের কোন সুযোগ নেই। সেজন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার আগে আপনারা বলেছিলেন ১০ টাকায় চাল খাওয়াবেন ঘরে ঘরে চাকুরি দিবেন। জনগনের সাথে এ প্রতারনা ঢাকবার জন্যই সন্ত্রাসের অন্ধগলিতে উন্নয়নের রাস্তা হারিয়ে ফেলেছেন। এজন্যই আপনারা দেশে সুষ্ঠু নির্ভাচন হউক তা চান না। নির্দলীয় সরকারের  অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পান।

সাংবাদিক বন্ধুরা,

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে যে সব পর্যবেক্ষন দেয়া হয়েছে তাতে সরকারের ক্ষমতায় থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়ায় আওয়ামী লীগে যে উন্মত্ততার ঝড় বইছে তা যেন থামছেই না। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতারা বিচারবিভাগকে ন্যাক্কারজনকভাবে আক্রমণ করে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বেআইনিভাবে আওয়ামী নেতারা বৈঠক করে চাপ প্রয়োগ করে যখন তারা ব্যর্থ হয়েছেন এখন রাষ্ট্রপতিকে ব্যবহার করে সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ ও সংশোধনের মাধ্যমে তাদের পছন্দের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পাঁয়তারা করছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের অধীনে নিয়ে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রাধীন করা। আওয়ামী নেতারা ও সাবেক দুইজন বিচারপতি যেভাবে বিচারবিভাগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, ইতিমধ্যে আওয়ামী নেতারা যেভাবে বিচার বিভাগের সম্মান ক্ষুন্ন করেছেন তাতে দেশে ও দেশের বাইরে দেশের ভাবমুর্তি যেভাবে ধারুণভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। ক্ষতাসীনরা রাষ্ট্রের শত্রু। আওয়ামী সমর্থক কেউ কেউ বলছেন সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে রাষ্ট্রপতি সন্তোষজনক মনে করলে প্রধান বিচারপতিতে সরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন রাষ্টপতিকে খেয়াল খুশি মতো ৯৭ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। এরকম ব্যখ্যা দিলেতো বিচার বিভাগের স্বাধীনতাই থাকে না। এ বিধানটি পৃথিবীর কোন দেশে এখন পর্যন্ত প্রয়োগ হয়েছে এমন নজির নেই। এই অপচেষ্টা বিচার বিভাগকে করায়ত্ব করার সরকারের আরেকটি নীলনকশা। ৯৭ অনুচ্ছেদ অপপ্রয়োগ এবং সংসদে বিল উপস্থাপন করে এ অনুচ্ছেদ সংশোধনের কোন অপচেষ্টা সম্পর্কে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। সরকারের এ উদ্যোগ রীতিমত উদ্বেগ ভয় ও বিপদের কারণ হতে পারে। এধরনের কোন উদ্যোগ নিলে গোটা বিচারবিভাগকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া হবে।  

ধন্যবাদ সবাইকে