(বিএনপি কমিউনিকেশনস)   — জাতিসংগ ২০১৩ সালে বার্মার রোহিঙ্গাদেরকে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত রাস্ট্রহীন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করেছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ হিসেবে রোহিঙ্গারা যখনি বার্মার সামরিক জান্তা ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসী দ্বারা আক্রমণের শিকার হয়েছে তখনি লাখে লাখে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়টি তাই বাংলাদেশের জনগণের কাছে অত্যন্ত বড় একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বার্মার আরাকানি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিয়ে তাই বাংলাদেশিদের রয়েছে অশেষ আগ্রহ।

নিচে বার্মার আরাকানি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো –

রোহিঙ্গা মুসলিম – সংক্ষিপ্ত ইতিহাস


৮ম শতক
স্বাধীন-সার্বভৌম আরাকান রাস্ট্রে রোহিঙ্গা জনগণ বসবাস করত, এখন বার্মার দখলভুক্ত।

৯ম – ১৪শ শতক
রোহিঙ্গারা আরাকানে আগত আরব ব্যবসায়ীদের সংস্পর্শে ইসলাম দ্বারা প্রভাবিত হয় । প্রতিবেশি স্বাধীন সুলতানি বাংলা রাস্ট্রের সাথে বিভিন্ন ভাবে তাদের যোগাযোগ জোরদার হয়।

১৮ শতক
১৭৮৪ সালে বার্মিজ রাজা বোধিপায়া স্বাধীন-সার্বভৌম আরাকান দেশ দখল করে নেয়। হাজার হাজার রোহিঙ্গা জনগণ বেঙ্গল রাজ্যে জীবন বাঁচাতে ঢুকে পড়ে।

১৯ শতক
ব্রিটেন বার্মা দখল করে নেয় এবং ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার একটি পরাধীন প্রদেশে পরিণত হয়। ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সাম্রাজ্যের অন্যান্য রাজ্যথেকে ব্যবসায় ও অবকাঠামো নির্মাণ কাজ করতে হাজার হাজার মানুষ এ রাজ্যে আসে।

২০ শতক — ১৯৪২
জাপান ব্রিটিশদের হটিয়ে বার্মা দখল করে নেয়। ব্রিটিশ প্রশাসনের চলে যাওয়ার প্রাক্বালের শূণ্যতার সুযোগে বার্মিজরা বৃটিশ শাসকদের অধীনে থাকা মুসলিম অধ্যুষিত আরাকানসহ বিভিন্ন মুসলিম সম্প্রধায়ের উপর বর্বর হামলা চালায়।

২০ শতক — ১৯৪৫
জেনারেল অং সাং এর নেতৃত্বে বার্মার সহযোগিতায় ব্রিটেন আবার বার্মা পুনর্দখল করে নেয়। ব্রিটিশরা অঙ্গীকার রক্ষা না করে বার্মার পক্ষে আরাকানদের স্বায়ত্বশাসন দেয়া থেকে বিরত থাকে। এতে আরাকানরা বিশ্বাস ঘাতকতার শিকার হয়।

২০ শতক — ১৯৪৮
নবঘটিত বার্মা সরকারে সাথে আরাকানিদের টানাপড়েন শুরু হয় এবং অনেক আরাকান মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হতে চায়।
বার্মিজ সরকার প্রশাসনসহ দেশটির সর্বস্তর থেকে আরাকান রোহিঙ্গাদের উৎখাত করে।

২০ শতক — ১৯৬২
জেনারেল নে উইন এবং তার সোশ্যালিস্ট প্রোগ্রাম পার্টি বার্মার ক্ষমতা দখল করে নেয় এবং আরাকান রোহিঙ্গাদের উপর বর্বর নির্যাতন চালায়।

২০ শতক — ১৯৭৭
সামরিক জান্তা অপারেশন নাগামিন (ড্রাগন কিং) এর নামে আরাকান রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন অভিযান চালায়।

সামরিক জান্তার আক্রমণের মুখে ২ লাখ আরাকান রোহিঙ্গা প্রতিবেশি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

২০ শতক — ১৯৭৮
বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর কূটনৈতিক দক্ষতায় জাতীসংঘের মধ্যস্থততায় বার্মা সরকার সকল আরাকান রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত নিতে বাধ্য হয়।
২০ শতক — ১৯৮২
বার্মিজ সরকার আইন পাশ করে যে যারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময় বার্মায় আসে তারা অবৈধ। এই আইন শুধু আরাকানের রোহিঙ্গাদের উপর প্রয়োগ করা হয়।

২০ শতক — ১৯৯১
বার্মিজ সরকারের নির্যাতন, ধর্ষণ ও ধর্মীয় গোষ্ঠী নিধনের মুখে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা আবার বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে।

২০ শতক — ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে ২লাখ ৩০হাজার আরাকান রোহিঙ্গা তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যায়।

২১ শতক – ২০১২
বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০০জন নিহত হয়, যার অধিকাংশ রোহিঙ্গা। হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে বাধ্য হয়।

২১ শতক – ২০১৬
বার্মিজ সামরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দিতে থাকে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে।
সীমান্ত অতিক্রমের সময় অনেক রোহিঙ্গা গুলিতে নিহত হয়। বাংলাদেশের সীমান্ত বাহিনী রোহিঙ্গাদের দেশের ভিতর প্রবেশ বন্ধ করে দেয়।

২১ শতক – ২০১৭

বার্মিজ সামরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের যৌথ আক্রমণের মুখে ৬ লাখ রোহিঙ্গা আরাকান থেকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। জাতিসংঘ বলছে এই সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার অর্থ আরাকানে আর কোন রোহিঙ্গা থাকতে পারবে না।

বর্তমান বিশ্বে রোহিঙ্গারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত রাস্ট্রহীন জাতি হিসেবে পরিচিত।