(বিএনপি কমিউনিকেশনস)   — ১৯৭৮ সাল। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাত্র সাত বছর পর। ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক, সামাজিক অবস্থা গঠনে দিন রাত অবিরাম কাজ করছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। সেইসময়ে বার্মিজ সামরিক জান্তা অপারেশন নাগামিন (ড্রাগন কিং) এর নামে আরাকান রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন অভিযান চালায়। সামরিক জান্তার নিষ্ঠুর বর্বর আক্রমণের মুখে ২ লাখ আরাকান রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

সেই সময়ের সাড়া জাগানো সাময়িকী বিচিত্রার কাভার স্টোরি ছিল –
‘মানুষ আইতে আছে — নাফ নদীর বানের লাহান।’

পায়ে হেঁটে, নৌকা, সাম্পান, কলার ভেলায় চেপে দূর্গম অভেদ্য পাহাড়, বনজঙ্গল, নদী,খাল, বিল পেরিয়ে প্রাণ বাঁচাতে অনাহারী ভিটেহারা নিঃসম্বল হাজারে হাজারে আরাকানি রোহিঙ্গা দিবারাত্র জড়ো হতে থাকে বাংলাদেশ-বার্মা সীমান্তে। এই শ্বাপদ সঙ্কুল পথ পাড়ি দিতে তাদের লাগতো কয়েকদিন।

মাত্র কয়েক বছর আগে যখন পাকিস্থানি হানাদারবাহিনী বাংলাদেশে নিরস্ত্র মানুষের উপর ঝাঁপিয়েপড়ে, তখন একইভাবে এইদেশের মানুষেরা লাখে লাখে প্রতিবেশী দেশে চলে যেতে বাধ্য হয়। সেইকাঁচা স্মৃতি বাংলাদেশের একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা প্রেসিডেন্ট জিয়াকে অনুপ্রাণিত করে বার্মার নির্যাতিতমানুষের পাশে দাঁড়াতে।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম সরকারি ভাবে গ্রহণ করেন সকল রোহিঙ্গাদের।

প্রেসিডেন্টের নির্দেশে একজন উচ্চপদস্ত সরকারি কর্মকর্তা রোহিঙ্গাদের পাশে সরেজমিনে থেকেরাতারাতি তৈরী করেন ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির’ এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরো বিষয়সমন্বয় করেন কেবিনেট সেক্রেটারি।

প্রেসিডেন্ট জিয়া ছোট থেকে বড় সব পরিকল্পনা প্রণয়ণে এবং তা বাস্তবায়নে সরাসরি যুক্ত থাকেন।

প্রেসিডেন্টের নির্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রফেসর সামসুল হক বিশ্বের প্রভাবশালী সঙ্গগঠন ও গোষ্ঠী এবং ব্যক্তঙ্গেসাথে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করেন।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিসংগের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা চালান। প্রেসিডেন্ট জিয়ার প্রো-অ্যাক্টিভ ও স্মার্ট কূটনীতির ফলে মাত্র ২ মাসের মধ্যে বার্মা বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরতনিতে চুক্তি করতে বাধ্য হয়।
আগস্ট ১৯৮৭ সালে প্রথম দল আরাকানে ফিরে যায়। এর এক বছরের কম সময়ের মাথায় শেষ দলটি ফেরত যায়।