সিনান পাশা  

বিইআরসি এ মূহূর্তে বিদ্যুতের মূল্য বাড়াত‌ে যাচ্ছ‌‌ে।গণশুনানি শেষ। শুনানি তো ঠিকই। কিন্তু কর্তাদের শোনার কিছু নেই‌। কেবল বাকি থাকে জনগণকে শোনানোর। শোনানো যে বিদ্যুতের দাম এই হারে বা‌ড়বে। আসলে তো শোনার কোনো রীতিই তৈরি হয়নি। গোটা ব্যাপারটাই একতরফা। আগে থেকে নির্ধারিত। জনগণকে কেবলই বার্তা দেওয়া –তোমার যে সব ‌দিতে হবে সে তো আমি জানি। এবং সেই সাথে এরই বার্তাও দেওয়া — দুর্বার গতির উন্নয়ন তো, ওটা চলতেই থাকবে। কুইক রেন্টালওয়ালাদের দেওয়ার ব্যবস্থা আগে ভাগে করা হযেছে। এখন অলি আহাদের কথায় ‘ মারানীর জনগণ’কে দিতে হবে। প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) পাইকারিতে প্রায় ১৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৬ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিগুলো।

এখন উন্নয়নের গতি দুর্বার। এর জন্য মূল্যও গুনতে হবে দুর্বার হারে। নতুন করে কানসাট, শনিরআখড়া হবার কোনো সুযোগই রাখা হয়নি।কি পয়েন্ট ইন্সটলেশনে ঢিল-পাটকেল মারা মানে হবে টেরররিজম। অতএব সাধু সাবধান। ভারত-ভুটানের বিদ্যুতের বন্যা নামার কথা আমরা শুনেছি। বাংলাদেশ সীমান্তে আণবিক স্থাপনা করা হয়নি। কিন্তু সুন্দরবনের কাছ বিদ্যুত কারখানা করতেই হবে। তা‌তে ডুবে যাক তরী, ভেসে যাক প্রাণ। ওখান থেকেই হবে সমাধান আরও বেশি দামে। সামান্য ক্ষতি, বেজায় পুণ্যি।

অবশ্য বিদ্যুত খাত বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যে হারে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে,তা কার্যকর করা হলে শিল্পকারখানা ধ্বংস হয়ে যাবে। মিলকারখানা বন্ধ হয়ে লাখ লাখ চাকরিজীবী বেকার হয়ে যাবে। তাতে কি, বাংলাদেশের মানুষ রোহিঙ্গাদের মতো বোট পিপল হয়ে প্রবাসে যাবে, ডলার কামাই করবে!

বিদ্যূৎ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান লাইফলাইন বিদ্যূতের মূল্য বৃদ্ধি হলে এর চেইন রিএ্যাকশনে শিল্প উৎপাদন, শিল্প বহুমূখীকরণ, অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন, মানুষের গৃহস্থালীসহ ব্যবসাবাণিজ্য ও কৃষিতে ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়বে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বহুগুণ। ২০১০সালের ১ মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় বছরে পাইকারী পর্যায়ে পাঁচবার এবং গ্রাহক পর্যায়ে সাতবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। ২০১৫ সালে সর্বশেষ গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয় ২ দশমিক ৯ শতাংশ। মানুষ আশি টাকা কেজি চাল কিন‌ছে। আপত্তি তো মোটেই শোনা যায় না।দেশ মাঝারি আয়ের দেশের দোরগোড়ায়। ভিশনে আছে আরও বড়ো দাঁও।মন্দ লোকে তো অনেক কথাই বলে!