(বিএনপি কমিউনিকেশনস)   — বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১২, আরো দুইটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

এ ছাড়া এ মামলার দুই আসামি সালিমুল হক ও কাজী শরফুদ্দিন আহমদের জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালত এ রায় দেন।

অবৈধ ১/১১ এর কালে ২০০৮ সালের জুলাই ৩, এই মামলাটি রমনা থানায় দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার মিথ্যা অভিযোগ এনে এ মামলা করা হয়।

মামলাটি তদন্ত করে দুদকের সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ   বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে ২০০৯ সালের আগস্ট ৫, আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মানহানি মামলা

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১২, যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা আরেকটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন  বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

ঢাকা মহানগর হাকিম মো: নূর নবী এই পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে বিচারক আগামী ১২ নভেম্বর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করেছেন ।

নভেম্বর ৩, ২০১৬ আলীগ নেতা বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী ‘স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে সিএমএম আদালতে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। ওইদিন ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম তেজগাঁও থানার ওসিকে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলায় বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে আসামি করা হয়।

এরপর ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৭, তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান মামলার প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর গত ২২ মার্চ তা আমলে নিয়ে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন আদালত।

কুমিল্লা হামলা মামলা

এর আগে, সোমবার, অক্টোবর ৯, দুপুরে কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জেসমিন বেগম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নোয়াবাজার এলাকায় বাসে পেট্রলবোমা হামলার মামলায়  বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন।

ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৫, ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চৌদ্দগ্রামের নোয়াবাজার এলাকায় ইউনিক পরিবহনের একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলায় আটজন নিহত হন। আহত হন আরো ২০ জন। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে প্রধান আসামি করে ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও ২০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে ওই থানায় মামলা করে পুলিশ। সেই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় ছয় নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়।

বর্তমানে ভোটারবিহীন সরকারের নির্দেশে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।