(বিএনপি কমিউনিকেশন)   —  শুক্রবার, নভেম্বর ১০, ২০১৭ ‘শহীদ নূর হোসেন দিবস’। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তৎকালীন বিশ্ববেহায়া স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রবল আন্দোলন চলাকালে ঘাতক পুলিশের নির্মম গুলিতে তিনি শহীদ হন। সেইদিন বুকে পিঠে সাদা রঙে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ শ্লোগান এঁকে দেশ কাঁপানো মিছিলে দাবড়িয়ে বেড়ান এই অকুতোভয় গণতন্ত্রপন্থী সৈনিক, আর তাঁর আগুনরঙা রক্তে রঞ্জিত হয় সেই উত্তাল পিচঢালা কালো রাজপথ। কালের ইতিহাসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ‘নূর হোসেন’ নাম ও  ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ শ্লোগান দ্যুতিময় অক্ষরে খোদিত হয়েছে আজ । স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে এখন ‘নূর হোসেন’ মুক্তিকামী মানুষের কাছে অসীম প্রেরণার উৎস । শহীদ নূর হোসেনের রক্তদানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসকের পতন ঘটে।


‘শহীদ নূর হোসেন দিবস’ উপলক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ৯০’র গণ-আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৯, গণমাধ্যমে পাঠানো বাণীতে বলেছেন, যে স্বপ্ন চোখে নিয়ে জীবন উৎসর্গ করে ছিলেন নূর হোসেন, তাঁর সে স্বপ্ন আজো পুরোপুরি সফল হয়নি। ১৯৯০ এর মুক্ত হওয়া গণতন্ত্র আবার শৃংখলিত হয়েছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন করার ব্যবস্থা পুনরায় চালুকরা হয়েছে। স্বৈরাচারী শক্তির এ চক্রান্ত্র রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে।


শহীদ নূর  হোসনে দিবস উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাণী পূর্ণপাঠ –

“শহীদ নূর  হোসেন দিবস উপলক্ষে আমি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের বীর শহীদ নূর  হোসেনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি। আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে নূর  হোসেন একটি অবিস্মরণীয় নাম। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের এক লড়াকু সৈনিক হিসেবে তিনি রাজপথে নেমে এসেছিলেন বুকেপিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ শ্লোগান লিখে। গণতন্ত্রের দাবিতে সোচ্চার এই যুবকের কন্ঠকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল স্বৈরাচারের বন্দুক। স্বৈরাচারের বুলেট বুকে বরণ করে নিয়েছিলেন নুর হোসেন। নুর হোসেনের সে অবদান বৃথা যায়নি। তার রক্তের ধারা বেয়েই ‘৯০ এর গণঅভ্যূত্থানে স্বৈরশাসকের পতন ঘটে, মুক্ত হয় আমাদের গণতন্ত্র।

যে স্বপ্ন চোখে নিয়ে জীবন উৎসর্গ করে ছিলেন নূর  হোসেন, তাঁর সে স্বপ্ন আজো পুরোপুরি সফল হয়নি। ১৯৯০ এর মুক্ত হওয়া গণতন্ত্র আবার শৃংখলিত হয়েছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন করার ব্যবস্থা পুনরায় চালুকরা হয়েছে। স্বৈরাচারী শক্তির এ চক্রান্ত্র রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে।

আজও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম শহীদ নুর হোসেন আমাদের প্রেরণা। তাঁর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। আর এজন্য আমাদেরকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে।

আজকের এই দিনে আমি দল-মত নির্বিশেষে সকলের প্রতি আহবান জানাই-আসুন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।

আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”