(বিএনপি কমিউনিকেশন)   —  বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৯, নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী প্রেসব্রিফিং এ  বলেছেন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান কোটি কোটি মানুষের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হয়রানী করা হচ্ছে।  

প্রেসব্রিফিং এর পূর্ণপাঠ নিচে দেয়া হলো –

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

ভোটারবিহীন সরকারের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে অপহরণ ,গুম, খুন, মিথ্যা মামলায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার দেশজুড়ে ক্ষমতাসীনদের নৈরাজ্য থামছেনা। প্রতিদিনই নিঁখোজের সংখ্যা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। গতকাল একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিখোঁজের খবর গণমাধ্যমে  এসেছে। আজ অনলাইন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে খুলনাতে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর হাজারিবাগ থানা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুল আজিজকে গতকাল পুলিশ আটক করলেও এখনও স্বীকার করছে না। শুধুমাত্র বিরোধী দলের নেতা-কর্মীই নয় গুম, খুন বা অপহরণ থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা ব্যবসায়ী, ডাক্তার, শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবি এমনকি সাধারন মানুষও। অপহরণ গুম খুন বর্তমানে আরও মহামারি আকার ধারণ করেছে। সারাদেশের মানুষ এখন ভয়াল অরণ্যের মধ্যে প্রত্যহ আক্রমণের শিকারের আশংকার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আমরা আগেও বলছি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে ভেঙ্গে পড়েছে। একদিকে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগির কারণে সারাদেশে খুনের উল্লাসে মেতে উঠেছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই,চাঁদাবাজি, জিম্মিকরে টাকা আদায়, দখলবাজিতে সারাদেশে মানুষের মধ্যে আতংকিত পরিবেশ তৈরি হয়েছে।  ক্ষমতাসীন দলের সৈরশাসনে গোটা জাতি ক্ষতবিক্ষত হলেও তারা যেহেতু জনগনের ভোটে নির্বাচিত নয় তাই তাতে তাদের কিছু যায় আসেনা। ভোটারবিহীন সরকার আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে বিরোধী দল দমনে ব্যবহার করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তাই সামাজিক নিরাপত্তা কোথায় গেল তাতে তাদের কিছু যায় আসে না।  

আমি জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে পুলিশ পরিচয়ে আটক করে নিয়ে যাওয়া ঢাকা মহানগরীর হাজারিবাগ থানা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুল আজিজের সন্ধ্যান দাবি করছি। তাকে অবিলম্বে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

বন্ধুরা

আপনারা দেখছেন সাজানো মিথ্যা মামলায় বিচারের নামে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান কোটি কোটি মানুষের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কিভাবে হয়রানী করা হচ্ছে। অথচ বিগত ১/১১ তে প্রায় অভিন্ন মামলায় আসামী করা হলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মামলাগুলো ক্ষমতাবলে তুলে নেওয়া হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন, সিনিয়র ভাইসচেয়ারম্যানসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আরও হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় নির্বাহী বিভাগের নির্দেশে বিরোধী নেতাদের সাজানো মিথ্যা মামলায় সাজাও দেওয়া হচ্ছে।

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ১২ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তা আপনাদের আগেই জানানো হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।  এ লক্ষ্যে আজও বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছে বিএনপি ও তার অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা।  আমরা সমাবেশকে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে করতেই এসব প্রস্ততি চলছে। বিএনপির পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল ও ছাত্রদল, জাসাসসহ অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনগুলো অবিরাম কাজে করে যাচ্ছে।  

গ্রেফতার

বরগুনা জেলা

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসুচি পালনকালে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় বামনা উপজেলা বিএনপি‘র সভাপতি আবুল কালাম আজাদ রানাসহ ২০ জনের অধিক নেতাকর্মী আহত হয়। এছাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইসমাইল হোসেনের হাত ভেঙ্গে দেয়।  

মেহেরপুর জেলা

গাংনী উপজেলায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় বেশকিছু নেতাকর্মী আহত হয় এবং ২টি মটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা ও বিএনপির সমাবেশে গুলি চালায়।

চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা

বিএনপি‘র সাইকেল র‌্যালীতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ১৫ জনের অধিক নেতাকর্মীকে আহত করে।

ঢাকা মহানগর উত্তর

শাহ আলী থানা বিএনপির নেতা শন্তি ও তারিক নামে দুইজন ৭ নভেম্বরের পোষ্টার লাগাতে গেলে শাহআলী থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

ভোলা জেলা

ভোলা জেলাধীন লালমোহন ও তজুমদ্দিন থানার ওসি হুমাযুন কবির ও শাহীন মন্ডল বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগ দিতে রাজী না হলে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এছাড়া নেতাকর্মীদের বাড়ী বাড়ী হানা দিয়ে তাদের না পেয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও তান্ডব চালায় এবং বাবা মা সহ পরিবারের সদস্যরাও পুলিশী নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছে না। পুলিশী নির্যাতন ও গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন যথাক্রমে লালমোহন থানা যুবদল সভাপতি শাহিনুল কবির, ছাত্রদল সভাপতি জসিমউদ্দিন, ধলীগৌর নগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ করিম নিরব, চরভুতা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, শম্ভপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ স¤ক্সাদক নজরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হালিমসহ অসংখ্য নেতাকর্মী। চরভুতা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোসলেউদ্দিনকে না পেয়ে তার ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং তার বৃদ্ধা মা‘কেও অকথ্য নির্যাতন করে লালমোহন থানার ওসি হুমায়ুন কবির।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ

আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে পুলিশের হামলায় আহত হয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন না›ট্টু, বংশাল বিএনপি নেতা মুন্নাসহ ৫ জন।

হাজারীবাগ থানাঃ

হাজারীবাগ থানা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুল আজিজকে গতকাল গ্রেফতার করেছে হাজারীবাগ থানা পুলিশ। এখন পর্যন্ত তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

শাহবাগ থানা

আজ দেশনেত্রীর আদালতে যাওয়ার পথে শাহবাগ থানা বিএনপির নেতা এরশাদ আলী ফরাজী, কলাবাগান থানা বিএনপির নেতা মোঃ হাসানকে শাহবাগ থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।