(বিএনপি কমিউনিকেশন)   —  শুক্রবার, নভেম্বর ১০, রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের শলেয়াশা এলাকায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কটুক্তি ও সেটি নিয়ে সৃষ্ট সহিংসতা এবং দুস্কৃতিকারীদের দ্বারা হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ীঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার, নভেম্বর ১১, বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন –

“বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম নিয়ে কোন হানাহানিতে বিশ্বাসী নয়। যুগ যুগ ধরে এদেশে সকল ধর্মের মানুষ কোন ধরণের বিভেদ ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলা হলেও এই সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের মাত্রা সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বেশ কয়েক বছর ধরে ক্ষমতাসীন দলের লোকদের দ্বারা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, বাড়ীঘর ও দেবালয়ে অগ্নিসংযোগ, সম্পত্তি দখল ইত্যাদির হিড়িক চলছে। তবে গতকাল রংপুরের ঘটনা কোন অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে সংঘটিত হয়েছে কী না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই ঘটনা এক অশনি সংকেত। এদেশের জনগণ এখন ভয়ংকর দু:সময়ের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। ভয়াল পরিবেশের কারণে এদেশে মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিপন্ন। সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে পারেনি এবং তাদের নিরাপত্তাও দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ঐক্যবদ্ধ জনগণের প্রবল সাহসের কাছে কখনোই কোন অশুভ শক্তির উত্থান সম্ভব নয়। এদেশের সকল সম্প্রদায়কে যেকোন উস্কানির মুখে বিভ্রান্ত না হয়ে সাম্প্রদায়িক ঐক্য বিনষ্টকারি দুস্কৃতকারিদের বিরুদ্ধে এখনই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যারা সংখ্যালঘুদের ওপর নির্মম হামলা চালাচ্ছে তারা মানবজাতির শত্রু। আমি গতকাল রংপুরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করে উস্কানি দেওয়া এবং দুস্কৃতিকারীদের কর্তৃক হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ীঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে কুটুক্তিকারীকে গ্রেপ্তারও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ীঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগকারি দুস্কৃতকারিদেরও গ্রেফতার এবং শাস্তি দাবি করছি।”