(বিএনপি কমিউনিকেশন)   —  রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের স্বার্থ না দেখে সরকার মিয়ানমারের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার, নভেম্বর ২৬, সন্ধ্যায় এক আলোচনা সভায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতার চুক্তির ওপর প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, কী এমন কম্পালশন হলো যে, আপনি আপনার বাংলাদেশের স্বার্থটাকে বুঝে না নিয়ে মিয়ানমারের স্বার্থের কাছে নিজেকে বিক্রি করে দিলেন। চাপটা কোথায় হলো? আসল ঘটনাটা কোথায়? জাতির সামনে বলা উচিত। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে, লজ্জার সঙ্গে আমাদের বলতে হয়, এই সরকারের কোনো রকমের আত্মসম্মানবোধ পর্যন্ত নেই।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসনে সরকারকে আবারও আলোচনায় বসার আহ্বান জানান তিনি।

কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভার পর জন্মদিন উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন বিএনপি মহাসচিব।

সংগঠনের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলের পরিচালনায় সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সারোয়ার, ইয়াসীন আলী, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাদরেজ জামান, মহানগর দক্ষিণের এসএম জিলানী, রফিক হাওলাদার, উত্তরের ফখরুল ইসলাম রবিন, রেজাউল হোসেন রিয়াজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

‘রাষ্ট্রদূত সম্মেলন’-এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এত বড় কূটনৈতিক অর্জন নাকি আর কখনও হয়নি। একে (সমঝোতা চুক্তি) আপনি বলছেন, সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অর্জন করেছেন। কূটনৈতিক অর্জনটা কী?

তিনি বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে একটা। সেই সমঝোতা চুক্তিতে (চুক্তির অংশবিশেষ পড়ে) আপনি (সরকার) স্বীকার করে নিচ্ছেন, মিয়ানমার যে দাবি করছে যে, টেরোরিস্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তাদের কাতারভুক্ত করা হয়েছে টেররিস্দের  সাথে, টেরোরিস্ট অ্যাটাক হয়েছে বলেই তাদের গণহত্যা করা হয়েছে। একবারের জন্য আপনি এখানে (চুক্তিতে) বলেননি গণহত্যা হয়েছে, একবারের জন্য আপনি এখানে (চুক্তিতে) বলেননি যে, তাদের জাতিগতভাবে নিধন করা হচ্ছে। যা যা বলেছে মিয়ানমার, হবহু মেনে নিয়েছেন। এর মধ্যে পুরো চুক্তিটা পড়লে দেখবেন পুরো বিষয়টা তাই।

মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জাতিসংঘের ইউএনএইচসিআর’র প্রধান বলেছেন যে, এই চুক্তি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাঘের কাছ থেকে তারা প্রাণভয়ে এসেছে সেই বাঘের মুখে আপনি তাদের ঠেলে দিচ্ছেন। আর আপনাকে আপনার দলের লোকেরা মাদার অব হিউমেনিটি বলে ঘোষণা দিচ্ছেন। এটা ধোঁকাবাজির রাজনীতি।

বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পরও প্রধান বিচারপতি পদে কাউকে নিয়োগ না করায় সাংবিধানিক সংকট তৈরি করছেন বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আজকে সরকার অর্থনীতিতে সংকট সৃষ্টি করেছে। ব্যাংকগুলো কাহিল হয়ে পড়েছে। যে কোনোদিন ব্যাংকিং ব্যবস্থা ফেল করবে, কলাপস করবে। ব্যাংকগুলো ফোকলা করে ফেলা হয়েছে। উন্নয়নের নামে, মেগা প্রকল্পের নামে, মেগা লুট চলছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।