(বিএনপি কমিউনিকেশন)   — নতুন রাজনৈতিক জোট যুক্তফ্রন্টকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি।বুধবার, ডিসেম্বর ৬, রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানান।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেছেন, ‘আমরা নির্বাচন চাই। তবে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে না, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। এই সরকারের বাইরে গিয়ে নির্বাচন চাই। সেটা (নির্বাচন) কাল দিলে কালকেই।’

সোমবার রাতে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় বিকল্পধারা সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে প্রধান করে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়। নতুন এই জোটের নাম ‘যুক্তফ্রন্ট।’ বিকল্পধারা, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এই চার দল নিয়ে এ জোট গঠিত হয়েছে।

এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০ দলীয় জোট গঠনের সময় বলা হয়েছিল, ২০ দলীয় জোটে সকল রাজনৈতিক দল, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিশ্বাস করবে, তারা এই জোটে অংশ নিতে পারবে। ব্যক্তি, সংগঠন ও সকল দলকে জোটে অংশ নেওয়ার জন্য আমরা ওই সময় আহ্বান জানিয়েছিলাম। ওই সময় একটি জোট গঠনের জন্য আলোচনা চলছিল। আমরা সেটাও স্বাগত জানিয়েছিলাম। আজকেও আমরা নতুন জোটকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি গণতন্ত্রকে পুর্নউদ্ধার করার জন্য, মানুষের অধিকারকে ফিরিয়ে আনবার জন্য, সত্যিকার অর্থে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করবার জন্য, এই চার দলীয় জোট তাদের দায়িত্ব পালন করবে। আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলছি, একটি বৃহৎ জাতীয় ঐক্য গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। যাতে আমরা এই স্বৈরাচার শক্তিকে পরাজিত করতে পারি- বলেন তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ করবে কি না- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেয়র আনিসুর হকের মৃত্যুতে আমি দু:খ ও শোক প্রকাশ করছি। তার সাথে আমার ব্যক্তিগত একটা ভালো সম্পর্ক ছিল। তাকে জটিল রাজনীতিবিদ বলে আমার মনে হয়নি। তিনি ব্যতিক্রমধর্মী চিন্তা করতেন। তিনি খুব অল্প সময়ে প্রভাব রাখতে পেরেছিলেন।

বিএনপি মহাসচিব জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণে আমরা সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে আমরা সকল সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আমরা অংশগ্রহণ করেছি দেখানোর জন্য যে, এই সরকারের অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। এটা আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এখন নির্বাচন কমিশনের সুযোগ এসেছে, নিরপেক্ষ নির্বাচন করে দেখানোর জন্য। আমরা যদি অংশগ্রহণ করি, আমরা সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করবো।