(বিএনপি কমিউনিকেশন)   — বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা আন্দোলন করেছে, দুর্ভাগ্য সেই স্বৈরাচারের পতন হয়নি। এরশাদ  এখনও টিকে আছেন। তার দোসর আওয়ামী লীগকে  টিকে থাকতে সহেযাগিতা করছে।’

বুধবার, ডিসেম্বর ৬, সন্ধ্যায় গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে  আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। ৯০’র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এখনও সময় আছে।  আসুন, কথা বলুন। আলোচনা করুন। আলোচনা ও সমঝোতার কথা বলা ছাড়া গণতন্ত্রকে সফল করা যায় না। আমরা একটি পথ বের করতে পারবো কিনা। পারবো নিশ্চয়ই। পথ বের করে সত্যিকার অর্থে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করার জন্য  নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই সংকটের সমাধান হয়ে যাবে।’

আলোচকদের বক্তব্য শুনুন –

——————ভিডিও——————ডিসেম্বর ৬ – গণতন্ত্র দিবস আলোচনা সভা ৯০' এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য

Posted by Bangladesh Nationalist Party-BNP on Wednesday, December 6, 2017

মির্জা আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও এরশাদের জাতীয় পার্টির মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। স্বাধীনতার পরে  আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, দেশের মানুষ এদেরকে একটি ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জনগণের সঙ্গে তাদের বিচ্ছিন্নতা এতই বেড়েছিল যে, যে আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক অধিকার, মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেছে, সেই আওয়ামী লীগকে প্রথমে বিশেষ ক্ষমতা আইন পরবর্তীতে জরুরি অবস্থা এবং এরপর একদলীয় শাসন কায়েম করতে হয়েছে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নেত্রী ও তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে, দেশের অগণিত সাধারণ মানুষের কথা ভেবে, অবিলম্বে সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করুন। সরকারকে বাধ্য করুন যে, নির্বাচন দিতে হবে।মানুষ নির্বাচন চায়। যে নির্বাচন হবে তা হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ কমিশনের অধীনে।এখানে অন্য কোনও হাংকি-পাংকি করে লাভ হবে না।এই দেশের মানুষ মেনে নেবে না, গ্রহণ করবে না, নির্বাচন দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সবারই এক কথা। আমরা সংঘাত-সংঘর্ষ চাই না। আমরা জনগণের মতামত প্রকাশের যে অধিকার, তা চাই।এটা তো একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। রাষ্ট্রের মালিক আপনারা না।সেই জায়গা থেকে আপনারা আমাদের বঞ্চিত করছেন।’

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা জেনে গেছেন, আপনাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। জনগণের সমর্থন নেই। ভোট যদি হয়, তাহলে আপনাদের অস্তিত্ব থাকবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সত্য কথা বললে আপনারা নারাজ হন।  বিরাগ হয়ে যান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত আপনারা পাকিস্তানের সঙ্গে এক থাকার জন্য কাজ করেছেন। ফেডারেশন, কামাল হোসেন সাহেব, শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব, পাকিস্তান থেকে ইয়াহিয়া খান এসেছিল, ভুট্টো এসেছিল, গভর্নর এসেছিল। দিনের পর দিন বেঠক করেছিলেন। আলোচনা করেছিলেন। শেরাটন হোটেল তখনকার ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে।ইতিহাস কারা বিকৃত করছে। ইতিহাস আপনারা বিকৃত করছেন। এখনও আমাদের মনে আছে, ২৫ মার্চ কাল রাত্রিতে পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর হানাদাররা ঝাঁপিয়ে পড়লো। নির্বিচারে হত্যা শুরু করলো। তার পরের দিন আপনারা হরতাল ডাকলেন। আমরা বয়স্ক মানুষ। আমাদের চোখের সামনেই এসব হয়েছে। সেগুলোকে আপনারা বেমালুম চেপে গেছেন। গায়েব করে দিয়েছেন।এখন মানুষের অধিকার গায়েব করেছেন। মানুষের ভোটাধিকার গায়েব করেছেন।’

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন প্রমুখ।