(বিএনপি কমিউনিকেশন) —  ঢাকা শহরে বের হলেই চোখে পড়ে অসংখ্য ঢাউস রঙিন পোস্টার। সেগুলোতে বলা হচ্ছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট, জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অস্তিত্ব নাই! সিটিকর্পোরেশনের আইন অনুযায়ি দেয়ালে পোস্টার লাগানো দণ্ডণীয় অপরাধ। ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন বোবা! লাখো রঙিন পোস্টার ছাপানোর সেগুলো লাগানোর বিপুল টাকা আসে কোথায় থেকে? উৎসুক জনতা জানতে চায়।

মহান স্বাধীনতার ঘোষক আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম স্মরণে তিনটি ট্রাস্ট গঠিত হয়েছে। সেগুলো হলো

১। জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট

২। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট

৩। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট  

জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট

জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট, বাগেরহাট।

১৯৯৪ সালে বাগেরহাটে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম মোস্তাফিজুর রহমান ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সী এতিমদুস্থদের লালনপালন সাবলম্বী করার জন্য জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট নামে প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

জেলার সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে .৯০ একর জমিতে কক্ষের অফিস ভবন, এতিমদুস্থদের থাকার জন্য ৩০ শয্যা বিশিষ্ট দোতলা আবাসিক ভবন, ১৮ কক্ষের দোতলাপ্রশিক্ষণ ভবন, একতলা ক্লিনিক ভবন, মসজিদ, পুকুর, দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণ উপকরণ এবং জন কর্মকর্তাকর্মচারী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ট্রাস্টটি।

২০০০ সালে ৩০ জন এতিম দুস্থদের নিয়ে শুরু হয় এটি। এর মধ্যে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটির সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটিতে ২০০৯ সালে প্রাকপ্রাথমিক এবং ২০১২ সালে মহিলাদের দর্জিবিজ্ঞান প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করে। প্রাকপ্রাথমিকে থেকে বছর বয়সী শিশুরা পড়ে। বর্তমানে ২২ জন শিশু রয়েছে।দর্জিবিজ্ঞান কোর্সে ১৫ জন শিক্ষার্থী আছে।

দুস্থ হিসেবে থাকা জেলার কচুয়া উপজেলার পিঙ্গুরিয়া গ্রামের বেলা মল্লিকের ছেলে মুরাদ মল্লিক (১০) বলে, একবছর আগে মাকে ছেড়ে বাবা চলে যাওয়ার পর আমাকে এখানে দিয়ে গেছে। ভাল আছি।কাজ শিখছি।সদর উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের অলিয়ার রহমানের ছেলে মিলন শেখ (১১) বলেন, আব্বা খোঁজ নেয় না। মা মানুষের বাড়ি কাজ করে। তাই আমি এখানে থাকি। পড়াশোনা না শিখতে পারলেও কাজ শিখছি।

শুরু থেকে পর্যন্ত ২৬২ এতিম দুস্থ এখান থেকে পড়ালেখা করে প্রশিক্ষণ নিয়ে গেছে। প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষা চালু আছে, সেখানে ২২ জন শিশু পড়াশুনা করছে। নারীদের দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণে ১৫জন প্রশিক্ষাণার্থী আছে। সকালে মসজিদে স্থানীয় শিশুদের কোরআন শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট

বগুড়ার গাবতলীতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম এর জন্মভূমিতে গড়ে তোলা হয় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট। ট্রাস্টের জন্য জমিকেনার বায়নাপত্র করা হয়। এল শেপড একটি ভবন তৈরি করা হয় এতিমখানা না হওয়া পর্যন্ত যাতে এতিমরা থাকতে পারে। তৈরি করা হয়েছে মসজিদ।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট

মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম এর স্মরণে ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবলট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়।

টাকা খোয়া যায়নি, তবুও এতিমের টাকা আত্নসাৎ করেছেন বেগম জিয়া!

মহান স্বাধীনতার ঘোষক আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম এর ব্যক্তিগত বন্ধু কুয়েতের আমীর জাবের আল আহমাদ আল সাবাহ বন্ধুপ্রতীম জিয়ার স্মরণে সামাজিক কল্যাণে ব্যয় করার জন্য প্রায় সাড়ে চারকোটি টাকা দান করেন। কুয়েতের আমির কর্তৃক প্রেরিত অর্থ দুইভাগে বিভক্ত করে দুইটি ট্রাস্টে .৩৩ কোটি টাকা (,৩৩,৩৩,৫০০ টাকা) করে ট্রান্সফার করা হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট পরিচালিত বগুড়ার এতিমখানার জন্য জমি কিনতে চুক্তিপত্র করা হয়। বাকি টাকা ব্যাংকে রয়েছে এবং তা সুদেমূলে এখন কোটি টাকার উপরে রয়েছে।

এখন ভোটার বিহীন সরকারের খোদ প্রধানমন্ত্রী  কর্তাব্যক্তিরা বারবার বলছেন, বেগম জিয়া এতিমের টাকা খেয়েছেন বিপুল টাকা খরচ করে সারাদেশে রঙিন পোস্টার লাগানো হয়েছে যে বেগমজিয়া এতিমের টাকা মেরেছেন। আসলে আলোচিত ট্রাস্টের কোন টাকাই অপচয় হয়নি। কোথায় তাহলে আত্নসাৎ?