(বিএনপি কমিউনিকেশন) — বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সোমবার, এপ্রিল ১৬, সকালে রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিং এ বলেছেন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নয়, দেশের একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ও দেশের কোটি কোটি মানুষের আশা ও ভরসার স্থল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক এবং বারবার দেশের গণতন্ত্র পূণ:রুদ্ধার আন্দোলনের নেত্রীর সুচিকিৎসা নিয়ে কারাকর্তৃপক্ষের টালবাহানা অত্যন্ত রহস্যজনক। সরকারের নির্দেশেই কারাকর্তৃপক্ষ বেগম জিয়ার প্রতি করছে নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ।

 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের প্রদত্ত বক্তব্য নিচে দেয়া হল —

 
সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
 
আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।
বন্ধুরা,
আমরা গতকালই বলেছিলাম-বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ। এখন তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে, তাঁর হাত-পা ও কোমরের ব্যথা আরও বেড়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু ও পায়ের সমস্যায় ভুগছেন। আপনারা জানেন-নির্জন, পরিত্যক্ত ও স্যাঁতসেতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাঁকে রাখা হয়েছে। তাঁকে দেওয়া বিছানা বালিশ অর্থপেডিকের একজন রোগীর জন্য অনুপযোগী। সরকারী মেডিকেল বোর্ড এর চিকিৎসকরাও অর্থপেডিক বেড দেয়ার সুপারিশ করলেও এখনও তাঁকে সেই বেড দেয়া হয়নি। জরুরী ভিত্তিতে তাঁর এমআরআইসহ উন্নত চিকিৎসার দরকার।
কিন্তু বারবার বলার পরেও কারাকর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে উপেক্ষা করছে। ক্ষমতাসীনদের দাপটে কারাকর্তৃপক্ষ তাদের মুঠোবন্দী। ফ্যাসিবাদের রোগ-লক্ষ্মণ কারাকর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র আকার ধারণ করেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে-সরকার দেশনেত্রীকে এক অবনতিশীল স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলে রাখার জন্যই কারাকর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি গভীর উদ্বেগের ও বন্দি নির্যাতনের শামিল।
আগে পরিবারের সদস্যদেরকে ৭ দিন পরপর বেগম জিয়ার সাথে দেখা করতে দেয়া হলেও এখন ১০ দিন পর দেখা করার নির্দেশ হতে যাচ্ছে, এর উদ্দেশ্যই হচ্ছে বেগম জিয়াকে মানসিকভাবে যন্ত্রণা দেয়া। সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নয়, দেশের একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ও দেশের কোটি কোটি মানুষের আশা ও ভরসার স্থল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক এবং বারবার দেশের গণতন্ত্র পূণ:রুদ্ধার আন্দোলনের নেত্রীর সুচিকিৎসা নিয়ে কারাকর্তৃপক্ষের টালবাহানা অত্যন্ত রহস্যজনক। সরকারের নির্দেশেই কারাকর্তৃপক্ষ বেগম জিয়ার প্রতি করছে নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ।
একজন জাতীয় নেতার ওপর এহেন নির্দয় আচরণ শুধুমাত্র প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা ছাড়া অন্য কোন কারণ নেই। এর পেছনে কোন সুগভীর চক্রান্ত রয়েছে বলেই জনগণ বিশ^াস করে। কোটি কোটি জনগণের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমি বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ‘মাদার অব ডেমোক্রেসী’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং অবিলম্বে তাঁর পছন্দ অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সুচিকিৎসা নিশ্চিতের জোর দাবি জানাচ্ছি।
সাংবাদিক বন্ধুরা,
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেছেন-“কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে বিএনপি নোংরা রাজনীতি করতে না পারায় হতাশায় ডুবছে। লন্ডন ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে, কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা ছিল সাহসী পদক্ষেপ।” আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে পরাজিত হওয়ায় এখন আপনারা বেসামাল হয়ে পড়েছেন। দিশেহারা হয়ে প্রতিদিন আপনারা বকবক করছেন বেশরমের মতো। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এ দেশের মাটি ও মানুষের নেতা। তিনি সবসময় এ দেশ এবং দেশের মানুষকে নিয়ে চিন্তা করেন। দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীরা যখন ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছিলেন এবং সরকারের লোকেরা যখন পায়ের রগ কাটাসহ তাদের ওপর একের পর এক রক্তাক্ত আক্রমণ চালাচ্ছিল, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যখন রাতভর তাদের ওপর গুলি চালাচ্ছিল তখন সেই মূহুর্তে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য তিনি আহবান জানিয়েছেন। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এটি তাঁর ন্যায়সঙ্গত ও সাহসী সিদ্ধান্ত। সেজন্য আক্রমণকারীদের নির্দেশদাতারা ক্রোধে-প্রতিশোধে উন্মত্ত হয়ে জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছেন। ভিসি’র বাসায় নাশকতার অজুহাত তুলে আন্দোলনের লক্ষ্যকে দিকভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্রে মেতে আছে। সরকার এবং সরকারের পেটোয়ারাই যে ভিসি’র বাড়ীতে আক্রমণের মূল নায়ক সেটি তারা প্রমান করে দিলেন ছাত্রলীগ নেত্রী রগকাটা এশার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে। শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার চেয়েছিল, বাতিল নয়, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জেদের বশে কোটা বাতিলের ঘোষনা দিয়ে দিলেন। বিষয়টি যে শুভঙকরের ফাঁকি এবং সাম্প্রতিককালের সেরা প্রহসন সেটি আমরা আগেই বলেছিলাম। এটি নিয়ে শিক্ষার্থীসহ গোটা জাতি এখনও অন্ধকারে। এখনও প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। আবার ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ^বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা এখনওতো চলছে, এখনও ছাত্রলীগ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আর ছাত্রলীগ যে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গুলিহেলনে উঠে-বসে তা কারও অজানা নয়।
ধন্যবাদ বন্ধুরা, আল্লাহ হাফেজ।