(বিএনপি কমিউনিকেশন) — আগামীতে বিএনপি এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া এদেশে কোনো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া সেটা হতে পারে না। তাই খালেদা জিয়াকে ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

রোববার, এপ্রিল ১৫, বিকেলে বিএনপি  চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম  খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ঐতিহাসিক ভুবন মোহন পার্কে এ সমাবেশের আয়োজন করে রাজশাহী মহানগর বিএনপি। দুপুর ১২টার দিকেই সমাবেশ স্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ভুবন মোহন পার্ক ছোট হওয়ায় শুধু মহিলা দলের নেত্রীরা অবস্থান করতে পেরেছেন। দলের নেতাকর্মীরা মাঠের বাইরে অবস্থান করে নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শোনেন। জিরো পয়েন্ট, আলু পট্টি মোড়, রানী বাজার মোড়, জাদুঘর মোড়, সোনাদীঘি মোড় ও সাহেব বাজারসহ পুরো শহরে জনতার ঢল নামে।

ড. মোশাররফ বলেন, বিএনপির মতো বড় একটি দলের সমাবেশ এই ছোট জায়গায় করা সম্ভব নয়। আপনারা ছোট জায়গা দিয়ে আমাদের সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুরো রাজশাহী আজ সমাবেশে পরিণত হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকার কথা ছিল। কিন্তু তার মায়ের মৃত্যুর কারণে আসতে পারেননি। আমরা তার মায়ের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, বেগম  খালেদা জিয়া ২০ দল ও বিএনপি নেতাদের বাইরে রেখে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরও একটা নির্বাচন করতে চায় এই সরকার। কারণ তারা জনগণকে ভয় পায়। কারণ তারা ক্ষমতায় এসেই বিডিআর হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। শেয়ারবাজার লুট করে মানুষকে পথে বসিয়েছে। আজকে ১০ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকায় মোটা চাল কিনতে হচ্ছে।

ড. মোশাররফ বলেন, জনগণের ওপর শেখ হাসিনার কোনো আস্থা ও বিশ্বাস নেই। তাই হাত উঁচিয়ে তিনি নৌকায় ভোট চান। জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করছে। তাদেরকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না জনগণ। গণতন্ত্রের মুক্তি মানেই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেই গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। আজকে যদি নিরপেক্ষ ভোট হয় তাহলে আওয়ামী লীগকে জনগণ আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে। সেজন্য শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় পায়, জনগণকে ভয় পায়।

আগামী নির্বাচনে বিএনপি ছাড়া এদেশে কোনো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। তাই আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে হবে।  বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া সেটা কি হতে পারে? এসময় জনগণ না-সূচক উত্তর দেয়। তখন ড. মোশাররফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া এদেশে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কেউ জানতাম না। হঠাৎ করে একটা আন্দোলন হলো। আগামী দিনে গণতন্ত্রের আন্দোলন, জনগণের অধিকারের আন্দোলনও সেরকম হবে। জনগণ যখন রাস্তায় নামবে তখন তারা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। সংসদ ভেঙে দিয়ে সেনাবাহিনী নিয়োগ করে একটা সংসদ নির্বাচন করবে। সেই আন্দোলনে রাজশাহীবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহবান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে দলকে ভাঙতে চেয়েছিল। সরকার তাতে সফল হয়নি। আমরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শ নিয়ে এ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে আসছি। এতে যদি সরকারের বোধোদয় না হয় তাহলে কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। সেই আন্দোলন সফল করতে আপনারা প্রস্তুত আছেন কি না। তখন সবাই হাত উঁচিয়ে সায় দেন।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ভোটারবিহীন সরকারের কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বললেন যারা কোটা আন্দোলন করলেন সব রাজাকারের বাচ্চা। অর্থাৎ মতিয়া চৌধুরী ছাড়া এদেশে আর কোনো মুক্তিযোদ্ধা নাই। আমি জানতে চাই মতিয়া চৌধুরীরা কোথায় মুক্তিযুদ্ধ করেছে। সরকার বারবার বলে  বেগম খালেদা জিয়া দুই কোটি টাকা কোথায় আত্মসাৎ করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে দুই কোটি টাকা ব্যাংকে বেড়ে ৬ কোটি টাকা হয়েছে। তাহলে তিনি কিভাবে টাকা আত্মসাৎ করলেন। প্রধানমন্ত্রী বলছেন এই মামলা আমরা দেই নাই, তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়েছে। ভাল কথা তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আপনার বিরুদ্ধে যে ১৫টি মামলা দিয়েছিল সেই মামলা কোথায় গেলো। তিনি বলেন, সরকার আমাদের পুলিশের মাধ্যমে সভা সমাবেশ করতে দেয় না। বাধা দেয়। অথচ পুলিশ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়, তাদের কাজে নাকি আমরা বাধা দেই। এটা কোন দেশে বাস করছি? আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করি।  বাংলাদেশের কোথাও জেলখানা থাকবে না। সব জেলখানা ভেঙে বিএনপি নেতাকর্মীদের বের করে আনবো। সবাই প্রস্তুতি নেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমি সভা করবো এটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। সরকারের চাকরি যারা করেন তাদের বলছি চাকরিবিধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। ইতিহাস বলে  পুলিশ কোনো সরকারকে রক্ষা করতে পারে নাই। আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খানকে রক্ষা করতে পারে নাই। সুতরাং জনগণের শক্তির কাছে পৃথিবীর সকল অপশক্তি পরাজিত হয়েছে। আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন করছি। কার কাছে মুক্তি চাইবো। চোরের কাছে মুক্তি চাইবো? দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন তাদের কাছে চাইবো। হয় তাঁকে মুক্ত করবো, না হয় আমরাও বন্দি থাকবো। পুলিশের ভয়ে আন্দোলন করবো না, ঘরেও ঘুমাতে পারবো না তা হতে পারে না। যারা আমাদের ঘুম হারাম করে তারা নিজেদের ঘুম হারামের জন্য প্রস্তুত থাকুন।

সব কোর্টই মুজিব কোর্ট উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যাদের নাই কোনো গতি তারা হয়েছে শেখ হাসিনার বিচারপতি। একটা মীমাংসা করার জন্য দেড় মাস লাগে এটা হতে পারে না। বাংলাদেশ কারও পৈতৃক সম্পত্তি না। এই বাংলাদেশ রক্ত দিয়ে কেনা। আমাদের এখন একটাই আন্দোলন। বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি থাক, শেখ হাসিনা নিপাত যাক। দাবি একটাই শেখ হাসিনা কবে যাবি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আপনারা জানেন আমরা এখানে কেন সমবেত হয়েছি। আমাদের নেত্রী সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। আমরা এই মিথ্যা মামলা মানি না। এই মাঠে উপস্থিত জনতাকে সাথে নিয়ে সরকারকে বলতে চাই অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন, অন্যথায় পরিণতি ভাল হবে না। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাকশাল বিদায় করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবো। যত দিন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দিবে না সরকার ততদিন আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, যে মাঠ আমাদের বরাদ্দ করা হয়েছে তা বিভাগ তো নয়ই, একটি জেলা কিংবা উপজেলার সভা করার মতোও নয়। তাই বলেছিলাম, আমাদের মঞ্চ হবে এই ভুবন মোহন মাঠ আর সারা শহর হবে জনসভার মাঠ। আজ তাই হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২৩টি আসনে নির্বাচন করেছেন (২৩টিতেই একজনের নির্বাচন করা সম্ভব) এবং ২৩টিতেই জয়লাভ করেছেন। বাংলাদেশে এই রেকর্ড আর কোনো নেতার নেই। আজকে সরকার ভয় পেয়ে একটি বানোয়াট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। কারণ তিনি যেন আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারেন সেজন্য। বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি আগামীতে কোনো পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিচ্ছি বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে। আগামীতে যখন তারা আন্দোলন পরিবর্তনের নির্দেশ দেবেন তখনই আমরা নতুন কর্মসূচি দেবো।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাজশাহী বিভাগ  বেগম খালেদা জিয়ার ঘাঁটি, সেজন্য আওয়ামী লীগ শংকিত, তারা জনগণকে ভয় পায়। তারা সমাবেশ করার জায়গা না দিলেও পুরো এলাকায় আজ লাখ লাখ মানুষ জমা হয়েছে। সমুদ্রের পানি বাঁধ দিয়ে আটকে রাখা যায় না। সারা দেশে সমুদ্রের গর্জন শুরু হয়েছে। যুব সমাজের কোটার আন্দোলনকে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, পুলিশ বন্ধ করতে চেয়েছিল। কিন্তু বন্ধ করতে পারেনি। যুবসমাজ সকল চক্রান্ত প্রতিহত করে কোটা বাতিল করতে সক্ষম হয়েছে। আগামী দিনে বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলন করে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে। আমি দুটি প্রশ্ন করবো, গণতন্ত্রের মা কে? মাদার অব ডেমোক্রেসি কে? উচ্চৈঃস্বরে জবাব দেবেন, এসময় হাজার হাজার মানুষ হাত উঁচিয়ে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া, খালেদা জিয়া। স্বৈরাচারই উন্নয়নের মিছিল করে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, ১৯৬৮ সালে স্বৈরাচার আইয়ুব খান উন্নয়নের মিছিল করেছিল। বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারও আইয়ুব খানের মতো উন্নয়নের মিছিল করেছে। এটাই স্বৈরাচারী সরকারের নিয়ম।