(বিএনপি কমিউনিকেশন) — দলীয় নেতাকর্মীদের রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আমরা যদি জেল ভয় না পাই, আমরা যদি জেলে যেতে চাই, তাহলে শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবে।’

রোববার, এপ্রিল ২৩, বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স হলে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকাস্থ ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী পরিষদ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, জেলখানায় আর্থিকভাবে সামর্থ্যবানদের এসিও দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের নেত্রীকে যেভাবে রাখা হয়েছে সেটা মানসিকভাবে নির্যাতন ছাড়া আর কিছু নয়। আত্মীয়স্বজন ও দলের নেতা-কর্মী কাউকেই দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না খালেদা জিয়ার সঙ্গে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘এত বড় একটা জেলখানা, উনি সিঙ্গেল, একা। সেখানে ওনার রুমে গিয়ে দেখা করতে অসুবিধা কোথায়? সুতরাং এই যে চিকিৎসা নিয়ে টালবাহানাটা সেখানেও কিন্তু বিভিন্ন কূটনৈতিক মহল, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অত্যন্ত অস্থির। তারা পর্যন্ত চিন্তায় আছে। তারাও এটা নিয়ে আশঙ্কা করছে। অথচ সরকার করছে না।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে দেশে আনা হবে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এটা তারেক রহমানের আব্বার দেশ। তারেকের আব্বা জিয়াউর রহমান এই দেশটাকে স্বাধীন করেছেন। এদেশে তো তারেক আসবেনই। এটা নিয়ে আপনার ওস্তাদি করার দরকার নেই। তারেক রহমান যখন আসবে তখন আপনি আর থাকতে পারবেন না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে গয়েশ্বর বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করা আমাদের দরকার নেই, বরং আলোচনাটা মনে হয় আপনাদেরকেই করতে হবে। কারণ দেশে গণতন্ত্র যখন ফিরে আসবে তখন আপনারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকবেন না। গণতন্ত্র থাকলে আপনাদের তো ক্ষমতায় আসার কোনো সম্ভাবনা নাই। সুতরাং যে কয়দিন দেশে গণতন্ত্র নেই আপনারা ক্ষমতায় থাকেন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আজকে আপনারা যা করছেন আগামী দিনের সরকার যদি আপনাদের সাথে এই ধরনের আচরণ করে তখন আপনাদের কেমন হবে?

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক নুরুল আমিন ভূইয়ার সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া, বিএনপির সহপ্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রেহেনা আকতার  প্রমুখ।