(বিএনপি কমিউনিকেশন) — মঙ্গলবার, মে ১৫, বিকেল চারটায় রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী প্রেসব্রিফিং এ বলেছেন, আমরা নানা সূত্রে জানতে পেরেছি খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বেলা ২-৩০ থেকে ৪-০০টায় ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রগুলোতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় নৌকা প্রার্থীর পক্ষে একচেটিয়া সীল মারার জন্য খুলনা পুলিশ কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এর প্রেসব্রিফিং এর পূর্ণপাঠ নিচে দেয়া হলো —

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।

আমরা নানা সূত্রে জানতে পেরেছি খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বেলা ২-৩০ থেকে ৪-০০টায় ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় নৌকা প্রার্থীর পক্ষে একচেটিয়া সীল মারার জন্য খুলনা পুলিশ কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন। ভোট এরকমই হবে বলে নৌকা মার্কার প্রার্থী নিশ্চিত ছিলেন বলেই নির্বাচনের দিনের দু’দিন আগে ভোটে জেতার জন্য অাগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে পোষ্টার ছাপিয়ে দেয়ালে দেয়ালে সেঁটেছেন নৌকা মার্কার প্রার্থী।

বন্ধুরা,

বর্তমান অবৈধ সরকার ক্ষমতায় থাকলে কোনদিনই দুষণমুক্ত নির্বাচন হবে না। সরকার, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডার’রা একই নৌকার যাত্রী হওয়ার কারণে ভোট ডাকাতির নির্বাচনকেই আদর্শ নির্বাচন হিসেবে তারা প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। অবৈধ সরকার গণপরিত্যক্ত হলেই সেই সরকার বেআইনী কাজ করবেই এবং এর জন্য তাদের কোন লজ্জাবোধ নেই।

নির্বাচন কমিশন সরকারেরই বিম্বিত কন্ঠস্বর। আওয়ামী সন্ত্রাসী ক্যাডার, প্রকাশ্য অদৃশ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গুন্ডামি এবং গত কয়েকদিনে ভোটারদের মনে ভীতি সৃষ্টির জন্য গ্রেপ্তার ও বাড়‌ি বাড়‌ি পুলিশের আগ্রাসন, আজ ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের ঢুকতে না দেয়া, মহিলা এজেন্টদের হুমকি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে না দেয়া সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত যা ভোট হয়েছে, তা প্রহসন। প্রহসনের আরও একটি নিদর্শন হচ্ছে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী একটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন গোটা ব্যালট বইটির প্রতিটি পেপার নৌকা মার্কার সীলে ভরা। আরও কয়েকটি কেন্দ্রে সাংবাদিকরা ঐরূপ  ঘটনা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন। আওয়ামী লীগের সকল কাজই প্রকৃতপক্ষে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

সাংবাদিক বন্ধুরা,

শেখ হাসিনার রাজত্বে গণতন্ত্র এখন ছিন্নমুলে পরিণত হয়েছে। সরকার মুলত দেশবাসীর রক্তপান করতে করতে সারাদেশকে ভাগাড়ে পরিণত করেছে। ভোটারবিহীন সরকারের নিরবচ্ছিন্ন ভোটাধিকার হরণের ধারায় জনগণের অন্তহীন আর্তি এখন আকাশে-বাতাসে মথিত হচ্ছে। আজকের ভোট সন্ত্রাসের ঘটনায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভোটার’র ব্যথিত, বঞ্চিত, অপমানিত।

এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের সংক্ষিপ্ত চিত্রঃ

১. ওয়ার্ড নং-২০, শেখপাড়া আইয়ুব আলী ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষের সকল এজেন্ট বের করে দিয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

২. ওয়ার্ড নং-২৪, কেন্দ্র নং-১৯৮ দারুস সালাম থেকে সকল এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। বিএনপি’র কোন ভোটারদের ঢুকতে দিচ্ছেনা এছাড়া ময়লাপোতার সোনাপোতা স্কুলের সামনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচনী ক্যাম্প‌ে হামলা চালিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

৩. ওয়ার্ড নং-২৮, কেন্দ্র নং-২৫২ ইউসেফ স্কুল ভোট কেন্দ্র থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ধানের শীষের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল করে নিয়ে নৌকায় সিল মারছে।

৪. ওয়ার্ড নং-২২, কেন্দ্র নং-১৮৪ নতুন প্রা: স্কুল থেকে ধানের শীষের সকল এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দিয়ে নৌকায় সিল মারছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

৫. ওয়ার্ড নং-২২, আবু হানিফ কেরাতুল কোরআন মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষের সকল এজেন্ট বের করে দিয়েছে এছাড়া জেলা স্কুল কেন্দ্রে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ধানের শীষের এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে এবং অয়ন নামে এক বিএনপি কর্মীকে ধরে নিয়ে স্থানীয় কাজী অফিসে আটক করে নির্যাতন চালাচ্ছে।

৬. ৩১ নং ওয়ার্ডের ১৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি ভোট কেন্দ্রই দখল করে নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারছে। একই ওয়ার্ডের বিএনপি’র কাউন্সির প্রার্থী এইচ এম আসলামের বাড়ীতে হামলা ও তার পিতা-মাতাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

৭. ওয়ার্ড নং-৪, দেয়ানা দক্ষিণপাড়া কেন্দ্রে পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দখল করে নৌকা মার্কায় জাল ভোট দিচ্ছে। এছাড়াও ০৪ নং ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি-শরীফুল ইসলাম আনামকে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে ও তার বাড়ী-ঘর ভাংচুর করেছে আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী।

৮. এমূহুর্তে ওয়ার্ড নং-১১, ওয়ার্ড নং-১৩, ওয়ার্ড নং-১৫, ওয়ার্ড নং-২৪, ওয়ার্ড নং-২৫ ও ওয়ার্ড নং-৩১ এর সকল কেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতীকে সিল মারছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

৯. ওয়ার্ড নং-২৮ এর ৪টি ভোট কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী।

১০. ওয়ার্ড নং-০২, কৃষ্ণমোহন স্কুল ভোট কেন্দ্র আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দখল করে নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারছে।

১১. ওয়ার্ড নং-২২, খুলনা সরকারী জেলা স্কুল ভোট কেন্দ্র, আবু হানিফ মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্র ও কয়লাঘাট স: প্রা: বি: ভোট কেন্দ্রে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় দখল করে নিয়ে নৌকা প্রতীকে জালভোটের মহোৎসব চলছে।

১২. ওয়ার্ড নং-১০, ভাষানী বিদ্যাপিট ভোট কেন্দ্র দখল করে নৌকা মার্কায় জাল ভোট চলছে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের-২৯৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে সবকটিতেই ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র ক্যাডাররা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যক্ষমদদে নির্বাচনের ফলাফলকে নিজেদের পক্ষে নেয়ার জন্য সকল অপচেষ্টা চালিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আজ সকাল ৮টা থেকে বেলা-১টা পর্যন্ত আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্তৃক দখল করে নেয়া ভোট কেন্দ্রের  সংখ্যা-৯৫ টি।

এপর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সশস্ত্র আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসী দখল করে নেয়া ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা-১৫০ টির অধিক।

ঝালকাটি জেলাধীন সদর উপজেলার ৭ নং কোনাবালিয়া ইউনিয়নে আজ নির্বাচন চলছে। আওয়ামীলীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আজ সকাল থেকেই সবকটি ভোট কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে। এমনকি বিএনপি সমর্থিত মেম্বার প্রার্থীদেরও কাউকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

চাঁদপুর জেলাধীন-হাজীগঞ্জ উপজেলার দদোশ ইউনিয়নের সবগুলো ভোট কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এছাড়াও অস্ত্রধারী যুবলীগ-ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলায় ১২ জনের অধিক বিএনপি নেতাকর্মী গুরুত্বর আহত হয় এবং ৪ জনের অধিক নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে।