(বিএনপি কমিউনিকেশন) — রোববার, জুন ১০, নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী প্রেসব্রিফিং এ বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল বলেন কারাগারে বেগম জিয়া যে পড়ে গিয়েছিলেন সেই সম্পর্কে কারা কর্তৃপক্ষ অবগত নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও অসুস্থতা নিয়ে কতটা অবহেলা করা হচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সেটা পরিস্কার হয়ে গেল। কারা কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে বলেই বন্দী খালেদা জিয়ার গুরুতর শারীরিক অসুস্থার বিষয়ে ভ্রুক্ষেপহীন থেকেছে-সেটিই প্রমানিত হলো তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। 

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব’র প্রেসব্রিফিং এ প্রদত্ত বক্তব্যের পূর্ণপাঠ নিচে দেয়া হল —

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।
বন্ধুরা,
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল বলেছেন, কারাগারে বেগম খালেদা জিয়া যে পড়ে গিয়েছিলেন সেই সম্পর্কে কারা কর্তৃপক্ষ অবগত নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও অসুস্থতা নিয়ে কতটা অবহেলা করা হচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সেটা পরিস্কার হয়ে গেল। কারা কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে বলেই বন্দী খালেদা জিয়ার গুরুতর শারীরিক অসুস্থার বিষয়ে ভ্রুক্ষেপহীন থেকেছে-সেটিই প্রমানিত হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। দেশনেত্রী কারাগারে অজ্ঞান হয়ে ৫-৭ মিনিট পড়েছিলেন, অথচ সেটি কারাকর্তৃপক্ষ জানে না, তার মানে এটাই প্রমানিত হয়-বেগম জিয়া কারাকর্তৃপক্ষের কতখানি অবহেলার শিকার। সরকার বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি কতটা অমানবিক তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ফুটে ওঠেছে। আমরা বারবার দেশনেত্রী অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাঁর কোন কোন বিষয়ে জরুরি চিকিৎসা দরকার সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আহবান জানালেও সরকার এবং কারাকর্তৃপক্ষ সব সময় এড়িয়ে চলছে, এ বিষয়ে এখনও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। দেশনেত্রীর স্বাস্থ্যের অবস্থা জেনে শুধু বিএনপিই নয় সারাদেশবাসীও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ঘটনা শোনার সাথে সাথে তাৎক্ষনিক বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা না করে বিষয়টি নিয়ে এখনও সরকার বা কারার্কতৃপক্ষ অবগত নয় বলে যে কথা বলা হয়েছে সেটি দেশনেত্রীর অসুস্থতাকে আরও গুরুতর করে তাঁকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুগভীর চক্রান্ত কিনা তা নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্য দেশনেত্রীর চিকিৎসা নিয়ে টালবাহানারই নামান্তর। তিনি গুরুতর অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও এখনও তাঁকে তাঁর পছন্দ অনুযায়ী বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিজি হাসপাতালের কথা বলছেন। দেশনেত্রীর ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দেশনেত্রীর যেসব পরীক্ষা নিরীক্ষার সুপারিশ করেছেন সেগুলো পিজিতে সম্ভব নয়। আধুনিক যন্ত্রপাতির সকল ব্যবস্থা ইউনাটেড হাসপাতালে রয়েছে। অতীতেও আওয়ামী লীগের সভানেত্রীসহ অনেক নেতাকে কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাহলে বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর পছন্দ মতো চিকিৎসা করতে না দেওয়া একজন বন্দীর প্রতি চরম মানবধিকার লঙ্ঘন নয় কী ?
দেশনেত্রীর সঙ্গে গতকাল সাক্ষাৎ শেষে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যা বলেছেন, যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা বেদনাদায়ক। তারা বলেছেন, ৫ই জুন দেশনেত্রী দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। সেখানে ৫-৭ মিনিট তিনি অজ্ঞান ছিলেন। বর্তমানে তাঁর যে শারীরিক অবস্থা তাতে দ্রুত চিকিৎসা না দিলে তাঁর বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
বন্ধুরা,
আামরা বারবার তার সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছি। চিকিৎসকরাও সুচিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ ও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেই, কোনো প্রতিকার নেই। সরকারের এহেন নিমর্ম আচরণের আমরা ধিক্কার জানাই। বন্ধুরা ভোটারবিহীন সরকার একটি মূলত একটি নকল সরকার। নকল কখনও আসলের সমান হতে পারে না। তাই তারা আসল কাজ, ভাল কাজ, মানবিক কাজ করতে পারে না। অসুস্থ, সাজানো মামলায় বন্দী দেশনেত্রীকে নিয়ে তাদের অনঢ়তা, একগুঁয়েমি ও বৈরিতা আরও বেশী মাত্রায় স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।
বন্ধুরা,
আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যেসব সুপারিশ করছেন এমনকি আগেও সরকারি মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা যেসব পরামর্শ দিয়েছিলেন সেগুলোও বাস্তবায়ন করা হয়নি। অবিলম্বে দেশনেত্রীকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা না দিলে তাঁর বড় ধরণের ক্ষতি হলে এর দায় দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি- অতিদ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে দেশনেত্রীকে চিকিৎসার সুযোগ দিন। অবিলম্বে অর্থাৎ ঈদের আগেই তাঁকে মুক্তি দিন। আমরা দেশবাসীসহ দলের নেতাকর্মীকে দেশনেত্রীর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে সরকারের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানাচ্ছি। অবিলম্বে তাঁর মুক্তি ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে রাজপথ হবে অগণিত মানুষের শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত। তীব্র আন্দোলনের শপথ নিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তি অল্পসময়ের মধ্যেই রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়বে। স্বার্থান্ধতা, ঔদ্ধত্য, অসহিষ্ণুতা, সন্ত্রাস ও আকন্ঠ দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ আর অলস বসে থাকবে না। আমরা সরকারের উদ্দেশ্যে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই-দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও চিকিৎসা নিয়ে যে নির্মমতা প্রদর্শণ করা হচ্ছে তাতে ক্ষমতাসীনদের জন্য রাজনীতির ময়দান শান্ত, নিরাপদ ও সুখময় হয়ে উঠবে না। সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে জনগণকে আর কাবু করা যাবে না। দিল্লীর আয়নায় বিশ্বকে দেখতে গিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ প্রতিবেশীর পদতলে ঠেলে দিয়ে সরকার নিজেকে নির্ভার মনে করলেও কোন লাভ হবে না। নিজ দেশবাসীর অধিকারকে বিপন্ন করে জনগণের স্বার্থ যারা বিকিয়ে দেয় তাদের পরিণতি হয় ভয়াবহ।
আল্লাহ হাফেজ।