আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি’র নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য। সাবেক মন্ত্রী। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন দলের কর্মকাণ্ডে। স্থানীয় নির্বাচন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ নিয়ে সম্প্রতি মুখোমুখি হন সাপ্তাহিক-এর। সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারে। আগামী সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে বলে মত দেন। আলোচনায় উঠে আসে সম্প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকে ভারত সফর এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গও।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু, ছবি : কাজী তাইফুর

সাপ্তাহিক : প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের অভিযোগ এনেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। গাজীপুর এবং খুলনার নির্বাচন নিয়ে কী বলবেন?    

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দ্বিমত পোষণ করে কথা বলছে। কিন্তু সবার আগে দেখতে হবে পাবলিক পারসেপশন। জনভাবনা কি বলে সেটাই আসল কথা। নির্বাচন নিয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলছেন, কেউ গোপনে বলছেন, আবার কেউ বলতে সাহস করছে না।

আমার মনে হয়, জনভাবনায় কেউ-ই বলবেন না যে নির্বাচনে বাংলাদেশে জনমতের প্রতিফলন ঘটছে। বাংলাদেশের মানুষ তার নাগরিক অধিকার প্রয়োগের যে সুযোগ পাচ্ছে না, এটি এখন খুব পরিষ্কার বলে মনে করি।

সাপ্তাহিক : এমন জনভাবনায় বিএনপি’র অবস্থান কোথায়?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি, এটি একটি বড় প্রশ্ন।

আমরা কেন ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি, তা দিবলোকের ম তো পরিষ্কার হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, সরকার তার পছন্দের লোক নির্বাচন কমিশনে বসিয়ে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নির্বাচনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এখন যা হচ্ছে, সবই নীলনকশার নির্বাচন। মূলত নির্বাচন এখন নীলনকশা বাস্তবায়নের একটি প্রকল্প মাত্র।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আর বেশি কিছু করতে হচ্ছে না। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে এবং তার সভাপতিত্ব করছে নির্বাচন কমিশন। ভয়ভীতি, জাল ভোট, ভোটারদের বের করে দেয়া, এজেন্ট বের করে দেয়া, ব্যালট ছিনতাই সবই এখন পুলিশ, ডিবির একটি অংশ বাস্তবায়ন করছে এবং নির্বাচন কমিশন তাতে সহযোগিতা করছে।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম পুলিশের গাড়িতে ঘুরলেন। এর তো একটি ম্যাসেজ আছে। পুলিশ বুঝিয়ে দিল, জাহাঙ্গীরের পক্ষে। ভোটাররা আমাদের ম্যাসেজ বুঝে নাও। নির্বাচন কমিশন চুপ থাকল। তার মানে কমিশনও ভয়ভীতির হিসাব বুঝিয়ে দিল ভোটারদের।

খুলনা এবং গাজীপুর নির্বাচনে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা। আগে মিডিয়া নির্বাচনের খবর কিছুটা প্রকাশ করতে পারত। এই নির্বাচনে একেবারেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমরা জেনেছি, গণমাধ্যম প্রধানদের বিভিন্ন সংস্থা থেকে ফোন করে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ গণমাধ্যমকে শক্তিশালী বার্তা দিয়ে বলা হলো, সরকারের নীলনকশার নির্বাচনী প্রকল্পে তোমরাও শরিক হও।

খুলনা এবং গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে দেশবাসীও পরিষ্কার ধারণা লাভ করেছে। এই ধারণায় বিএনপি’র অবস্থানও পরিষ্কার হচ্ছে।

সাপ্তাহিক : বলছেন, ‘নীলনকশার নির্বাচনী প্রকল্প’। নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি-ও সে প্রকল্প বাস্তবায়নে  সহায়তা করছে কিনা?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : আমরা সরকারের স্বরূপ উন্মোচন করছি। জাতির কাছে সরকারের আসল চেহারা পরিষ্কার হচ্ছে।

সাপ্তাহিক : তাতে লাভ কী?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : নতুন প্রজন্ম আওয়ামী লীগের বাকশালী শাসন দেখেনি। তারা এখন সরকারের বাকশালী শাসন ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি দেখছে। আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সরকারের ফ্যাসিস্ট, একদলীয় স্বৈরনীতি উন্মোচিত করতে পেরেছি এই নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পেরে।

সাপ্তাহিক : নির্বাচনের এই ধারা তো পরম্পরায়। বিএনপি বা এরশাদ আমলেও একই অভিযোগ ছিল?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : এই সরকারের মতো স্বৈরনীতির কোনো চিত্র আগে ছিল না। আমরা এমন পরিস্থিতির মধ্যেও নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করে দিচ্ছি। যদিও সরকার সে বিকল্প পথও বন্ধ করে দিচ্ছে।

সাপ্তাহিক : এমন পরিস্থিতি দাঁড়ালো এবং তা সরকারগুলোর পরম্পরায় সৃষ্টি। এই ভোটের রাজনীতি আসলে কোথায় নিচ্ছে জাতিকে?    

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকের যে মৌলিক অধিকার রয়েছে, তা সরকার কেড়ে নিয়েছে। এখানে আর আইনের শাসন নেই। গণমাধ্যম কথা বলতে পারছে না। জীবনের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। প্রতিদিন মানুষ হত্যা করা হচ্ছে বিনা বিচারে।

জনগণের ওপর আস্থা নেই বলেই প্রকল্পনির্ভর নির্বাচন করতে হয়েছে। এই পরিস্থতির মধ্য দিয়ে জাতি আসলে কই যাবে, তা সময় বলে দেবে। তবে আমি মনে করি, মানুষ তার অধিকার আদায়ে দ্রুত রাস্তায় নেমে আসবে। জনগণকে বাইরে রেখে একদলীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করতে সরকার যে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে জনগণ ইতোমধ্যেই সচেতন হচ্ছেন। মানুষ তার অধিকারের মালিকানা ফিরিয়ে আনবেই।

সাপ্তাহিক : এই ভরসা পাচ্ছেন কোথায়?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : জনগণকে ধোঁকা দিয়ে দিনের পর দিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। ইতিপূর্বে কেউ থাকতেও পারেনি। মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে বেশি দিন টিকে থাকা যায় না। মানুষ জানে, রুখে না দাঁড়ালে স্বৈর সরকার আরও সব মৌলিক অধিকার হরণ করবে।

সাপ্তাহিক : আপনার ভাষায়, মানুষ তার মৌলিক অধিকার হারিয়েছে। ভোট দিতে পারছে না। এরপরেও মানুষ অধিকার আদায়ে রাস্তায় নামছে না। তার মানে বিএনপি বা বিকল্প কোনো শক্তির ওপর ভরসা মিলছে না?  

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : একটি দল যদি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস করতে থাকে এবং সেই দলের বিপক্ষে অবস্থান করতে হলে ভিন্ন শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। সভ্য সমাজের কোনো মানুষ সেই শক্তিতে বিশ্বাস রাখতে পারে না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রশ্নে লৌহমানবী। খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণেই আজ কারাগারে। জনগণ এবং গণতন্ত্রই হচ্ছে বিএনপিও মূলশক্তি।

ফ্যাসিস্ট মনোভাব নিয়ে সরকার যে সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তা থেকে মানুষ মুক্তি চায়। কিন্তু সেটা সভ্য উপায়েই। সন্ত্রাস দিয়ে সন্ত্রাসের মোকাবিলা হয় না। মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে মানুষ লড়াই করেই মুক্তি এনেছে। সেই জাতিকে ধোঁকা দিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা যাবে না।

সাপ্তাহিক : হরতাল-অবরোধের মাধ্যমে সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে আপনার সরকারের পতনের চেষ্টাও করেছিলেন। পারলেন না। সরকারের কৌশলের কাছেই বিএনপি ব্যর্থ কিনা?  

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করলে তার সঙ্গে রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োগ করা যায়। বিএনপি সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করেনি। আমরা রাজনৈতিকভাবে আন্দোলন করছি। জনগণ তার অধিকারের মালিকানা ফিরিয়ে আনতে যেভাবে বাকশালের বিরুদ্ধে অবস্থান করেছিল, এখনও তাই করবে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস দিয়ে এই জাতিকে দমিয়ে রাখা যাবে না।

সাপ্তাহিক : তাহলে এখন কি বিএনপি’র কাছে জনগণের এই বিশ্বাসই একমাত্র ভরসা?  

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটিই ফ্যাক্ট। জনগণ বারবার আন্দোলন করে এটিই প্রমাণ করেছে।

সাপ্তাহিক : স্বাধীনতার পরেও রাজনীতির জন্য এমন আন্দোলন। তার মানে বাঙালি কি এখনও নিজেদেরকে শাসন করতে শেখেনি?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : আন্দোলন হচ্ছে একটি সমাজের চলমান প্রক্রিয়া। অধিকার আদায়ে আন্দোলনের কোনো শেষ নেই। আন্দোলন করেই রাজনীতি সভ্য হয়। মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠতে পারে যে কোনো অধিকার প্রশ্নেই। এটিকে তো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। মানুষের সত্যিকার মুক্তি কখন, কীভাবে মিলবে, তা সময় ধরে বলা যাবে না।

তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে কোনো ছলনা জনগণ আর মানবে না। অস্ত্রের নির্বাচন এবার রুখে দিবই।   

সাপ্তাহিক : কীভাবে রুখবেন?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : আমাদের শক্তি জনগণ। জনগণই রুখে দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সাপ্তাহিক : সরকার তো আত্মবিশ্বাসী এখন। আওয়ামী লীগ উন্নয়ন দিয়েই জনআস্থা টানতে চাইছে।  

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : সরকার তাহলে সেটাও পরিষ্কার করুক। উন্নয়ন প্রশ্নে গণতন্ত্রের কোনো দরকার নেই, এটি সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে বলুক। উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্রের প্রয়োজন নেই বলে আওয়ামী লীগ মনে করলে, তাহলে নির্বাচনে যাচ্ছে কেন? বন্ধ করে দিক এই নির্বাচন নির্বাচন খেলা। উন্নয়ন করা শুধু আওয়ামী লীগের দায়িত্ব এবং জনগণ আর কিছু চায় না, এটি খুলে বলুক।

প্রশ্ন হচ্ছে এত উন্নয়ন করে জনআস্থায় ভয় কেন? উন্নয়ন করলে তো জনগণের উপর ভরসা থাকার কথা। তা করছে না কেন? কারণ উন্নয়নের নামে আওয়ামী লীগ কি পরিমাণ লুটপাট করছে, তা জনগণ জানে এবং ভয় মূলত এখানেই।

মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সাধ্যের বাইরে। গত দশ বছরে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কতটুকু কমেছে, তা সরকারের পরিসংখ্যানেই মিলছে। যারা লুটপাট করছে, সরকার তাদের পক্ষেই বাজেট করছে। আইন করে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। ব্যাংকের মালিকরাই সরকারকে সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিচ্ছে। খরচ বাড়িয়ে বিভিন্ন প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে। এসব তথ্য এখন প্রকাশ্যে। গণমাধ্যম ভয়ে লিখছে না। মন্ত্রীদের দেশের বাইরে কি পরিমাণ সম্পদ তা প্রমাণসহ সামাজিক মাধ্যমে বেরিয়ে আসছে।  

সাপ্তাহিক : এরপরেও তো জনগণ সরকারের উন্নয়নের প্রতি আস্থা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : সরকারের প্রতি জনগণ আস্থা রাখলে ভালো কথা। তাহলে নির্বাচনের এই অবস্থা কেন? জনগণকে কেন ভয় করছে সরকার!

সরকারের লুটপাটের উন্নয়নে মানুষের কোনোই ভরসা নেই। গণমাধ্যমের গলা টিপে ধরা হয়েছে। নইলে সবই আজ বেরিয়ে আসতো। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশ না পেলেও জনগণ এখন সবই জানে।

উন্নয়ন একটি ক্রমবর্ধমান বিষয়। যে কোনো সরকারের সময়ই উন্নয়নের একটি ধারা অব্যাহত থাকে। বর্তমান উন্নয়নের জন্য প্রথমত জনগণকে ক্রেডিট দিতে চাই। দ্বিতীয়ত, উন্নয়ন প্রশ্নে সকল সংস্কার বিএনপির আমলেই হয়েছে, যার সুবিধা আওয়ামী লীগ গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগ কোনোই সংস্কার করেনি, যা জনকল্যাণে কাজে এসেছে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ, গার্মেন্টস, আমদানি, রপ্তানির বাণিজ্য সবই জিয়াউর রহমানের সময়ে করা। বিদেশে শ্রমিকদের পাঠানো জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই শুরু। স্বাধীনতার পর সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির নামে তো গোটা দেশকেই ধংস করে দিচ্ছিল। প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের কোটা আমাদেরই সৃষ্টি। বিএনপির উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেত। আওয়ামী লীগের লুটপাটের কারণেই প্রবৃদ্ধি বাড়ছে না।

সাপ্তাহিক : এমন লুটপাটের বিরুদ্ধেও জনমত গড়ে তুলতে পারল না বিএনপি। তাহলে সংকট কি বিএনপি’র মধ্যেও?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে সব সময় দাঁড়ানো যায় না। বিএনপির মধ্যে কোনো সংকট নেই।

সাপ্তাহিক : সামরিক সরকার এরশাদের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের অভিযোগ আনেন আপনারা। এরশাদ পতনের আন্দোলনে বিএনপি-ও নেতৃত্ব দিল। অথচ এখন…

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : এরশাদের সময় একটি হত্যাকা-ের (মিলন হত্যা) পরেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। আর তো গুলির ঘটনা ঘটেনি। এরশাদ শাসনামলের সময়ও গণমাধ্যমও স্বাধীন ছিল। আমরাও সমালোচনা করেছি।

আর এখন! প্রতিনিয়িত মানুষ গুম হচ্ছে। খুন হচ্ছে। বিনাবিচারে ক্রসফায়ারে যাচ্ছে। হাজার হাজার মামলায় লাখ লাখ আসামি করা হচ্ছে। এরশাদের সময় এত স্বৈরনীতি ছিল না।

সাপ্তাহিক : ক্রসফায়ার বিএনপির-ই সৃষ্টি।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : বিএনপি’র সময় কোনো রাজনৈতিক নেতা ক্রসফায়ারে মারা যায়নি। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ক্রসফায়ারে মারা গেছে। অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় বিএনপির নেতারাই মারা গেছে। কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মরেনি।

কিন্তু আওয়ামী লীগ তো এখন টোটালি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে ক্রসফায়ার চালাচ্ছে। নিজ দলের মাদক স¤্রাটকে সুরক্ষা দিয়ে অনেক নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে। সমাজে হত্যার আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে সরকার। শেখ হাসিনার জুলুমের কাছে এরশাদের স্বৈরনীতি আসলে কিছুই না।

সাপ্তাহিক : ‘জুলুম’ এর শক্তি কোথায় পাচ্ছে সরকার?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : সবই পরিষ্কার। আমি নাম না বললেও মানুষ এখন জানতে পারছে বিশেষ দু’একটি দেশের ওপর ভরসা করে সরকার এমন ভয়ের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

সাপ্তাহিক : সম্প্রতি ভারত সফরে বিএনপি’র প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিলেন। ভারতকে কেন এখন গুরুত্ব দিচ্ছেন?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : আমরা ভারতকে আলাদা করে গুরুত্ব দিচ্ছি না। যে প্রশ্নে আমেরিকা, ইউরোপকে গুরুত্ব দিয়ে আসছি, একই গুরুত্ব ভারতের বেলাতেও।

আমি যখন ভারতে, তখন আমাদের আরেকটি টিম অস্ট্রেলিয়াতে ছিল। সবার কাছেই আমাদের একই ম্যাসেজ।

সাপ্তাহিক : ভারত সফরের তাৎপর্য নিয়ে কী বলবেন?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : ভারতের সরকার বা বিশেষ কোনো দলের আমন্ত্রণে এই সফর না। আমাদের এই সফর ছিল ভারতের নীতি নির্ধারকদের আমন্ত্রণে। তারা বাংলাদেশের রাজনীতির অবস্থা জানতে চেয়ে এই আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আলোচনায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং নির্বাচনের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

সাপ্তাহিক : আপনারা কী বললেন?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : বাংলাদেশে আইনের শাসনের যে ঘাটতি তার ওপর জোর দিয়েই আমরা আলোচনা করেছি। আমরা বলেছি, বাংলাদেশে এখন জনবিরোধী অনির্বাচিত সরকার। এমন একটি সরকারকে সমর্থন দেয়া মানে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া। একটি নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিচালিত হোক, এটি আমরা সবার কাছেই বলছি।

সাপ্তাহিক : ভারতে যাদের সঙ্গে আলোচনা করলেন, তাদের মনোভাব কী?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : গত নির্বাচন নিয়ে ভারতের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষের মনোভাব কী তা এখন ভারতও জানে। আমরাও সেই বিষয়টিই ব্যাখ্যা করেছি।

আমরা বলেছি, বিশেষ কোনো দলের সঙ্গে নয়, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কের কেন্দ্রে থাকুক মানুষ।

সাপ্তাহিক : সম্পর্ক তো বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে। বিএনপি-জামায়াতকে ভারত কেন বিশ্বাস করবে?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : বিশ্বাস-অবিশ্বাসের বিষয় নয়। বিশেষ দলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করে দু’টি দেশের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন হয় না বরং বিশেষ একটি দলের ওপর ভিত্তি করে সম্পর্ক গড়ালেই সমস্যা বাড়ে। যে সমস্যা এখন বাংলাদেশ মোকাবিলা করছে।

সাপ্তাহিক : ‘ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দিচ্ছিল বিএনপি সরকার’ -এমন অভিযোগ ভারতের। বর্তমান সরকারের সময় ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বাংলাদেশের ভূখ- ব্যবহার করতে পারল না। ভারতকে সুরক্ষা দিল শেখ হাসিনা।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী :  দেখুন, ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য নিয়ে যে অভিযোগের কথা বলা হয়, একই অভিযোগ ছিল বাংলাদেশের পার্বত্য জেলায়। ভারত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকা অশান্ত করে আসছিল।

সাপ্তাহিক : তাহলে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তো উঠতেই পারে?  

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : অভিযোগ উঠতেই পারে। কিন্তু প্রমাণ তো লাগবে। বিএনপি অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকি হতে পারে না। সময় বদলে গেছে। দেশ বদলে গেছে। প্রত্যেক দেশ চায় রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

সুতরাং আগামীদিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতীতের অভিযোগ যেন বিষয়বস্তু না হয়, সেটাই হচ্ছে সময়ে দাবি। ভারত এবং বিএনপি নিয়ে বিশেষ অপপ্রচার রয়েছে।

সাপ্তাহিক : বিএনপি কেন সে অপপ্রচারের সুযোগ তৈরি করে দেয়?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : আমরা মনে করি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভর করে হওয়া উচিত না। কোনো বিশেষ দল যদি সেটা করে থাকে তাহলে সেটা কারো জন্যই মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। প্রশ্ন হচ্ছে, আওয়ামী লীগের অপকর্মের দায় ভারত কেন নেবে! আবার ভারতের খবরদারি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কেন মানবে?

আমরা ভারতে বলে এসেছি, আওয়ামী লীগের অপকর্মের দায় ভারতের ওপরেও বর্তায়। কিন্তু কেন ভারতের জনগণ সে দায় নেবে। সরকার আসবে সরকার যাবে। কিন্তু সম্পর্ক তো চিরদিনের। আমরা দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক চাই।

সাপ্তাহিক : সম্প্রতি ভারত সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন। যেখানে বিএনপিকে ভারতের জন্য হুমকিস্বরূপ মনে করা হচ্ছে?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভাষায় কথা বলেছেন, তাতে অবাক হয়েছি। দেশের মানুষের প্রতি আস্থা নেই বলেই অন্য একটি দেশের প্রতি নির্ভর হতে হয়। এই নির্ভরতা কোনো দেশের জন্যই মঙ্গল না। সবার আগে সার্বভৌমত্ব।

সাপ্তাহিক : ভারত প্রশ্নে বিএনপির নীতির কোনো পরিবর্তন আসছে কিনা?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : ভারত নিয়ে নীতির পরিবর্তনের কোনো দরকার হবে না। আগে দেশের মানুষ। দেশের মানুষের স্বার্থ বাইরে রেখে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোর করার মানে হয় না। ভারতের কোনো সরকার কি তার দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ দেখবে?

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে সম্মানের। গোঁজামিল দিয়ে কোনো সমাধান হয় না।

সাপ্তাহিক : নির্বাচনের আর কয়েক মাস বাকি। প্রতিবার নির্বাচনের আগেই আন্তর্জাতিক মহল তৎপর হয়। এবারে সে তৎপরতায় ঘাটতি দেখা যাচ্ছে কিনা?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : সরকারের ওপর প্রচুর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়ত বিশ্বমহল বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অন্য দেশের পার্লামেন্টে যখন বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়, তখন বুঝতে হবে বাংলাদেশের নির্বাচনে বৈধতার ঘাটতি রয়েছে। যারাই বাংলাদেশে আসছেন তারাই নিরপেক্ষ নির্বাচন, আইনের শাসন নিয়ে কথা বলছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে যখন জেল দেয়া হলো, তখন জাতিসংঘের মহাসচিব বিবৃতি দিয়ে বললেন, এ ঘটনা আগামী নির্বাচনে বাধাগ্রস্ত করবে।

গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। এমন উদ্বেগ অবশ্যই একটি বিশেষ বার্তা। সরকার যদি কানে তুলা দিয়ে না শোনার ভান করে, তাহলে আর কী করার আছে।

সাপ্তাহিক : সরকার তো এই সমালোচনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছে?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : জার্মান সরকারের অর্থে পরিচালিত একটি এনজিও বাংলাদেশকে একটি স্বৈররাষ্ট্র বলে উল্লেখ করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে স্বৈররাষ্ট্র বলে ঘোষণা দিয়েছে। আইনের শাসন লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগ এবং লজ্জার। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এখন ন্যায় এবং অন্যায়কে আমলে নিচ্ছে না।

সাপ্তাহিক : এর শেষ কোথায়?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : কোনো স্বৈর সরকারের বিদায় ভালো হয় না। স্বৈরাচার নিপাত যায় করুণ পরিণতির মধ্য দিয়ে। একদলীয় শাসন, এরশাদের বিদায়, ফখরুদ্দীন সরকারের বিদায় ভালো হয়নি। অনির্বাচিত সরকার চিরদিন টিকে থাকে না। জনগণের শক্তির কাছে সবাই পরাজিত।

সাপ্তাহিক : খুলনা, গাজীপুরে বিএনপি হারলো। আসন্ন তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে অবস্থান কি বিএনপির?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : আমরা নির্বাচনের পক্ষে। বিএনপি এবং খালেদা জিয়া সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন, তার প্রমাণ মিলছে এই নির্বাচনগুলোয়। সরকারের ভীতি থেকেই সব পরিষ্কার হয়ে আসছে।

সাপ্তাহিক : তার মানে রাজশাহী, সিলেট, বরিশালের নির্বাচনে থাকছে বিএনপি?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : জনগণের জন্য আমরা বিকল্প পথ খোলা রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবো। আমরা সকল নির্বাচনে জনগণের জন্য দরজা খোলা রাখতে চাই।

সাপ্তাহিক : ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আপনারাও দরজা বন্ধ রেখেছিলেন নির্বাচনে অংশ না নিয়ে?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : ২০১৪ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট কী ছিল, তা সবারই জানা।

সাপ্তাহিক : এবার কী করবেন?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : সময়ই বলে দেবে। জনগণে সিদ্ধান্তই আমাদের কাছে বড়। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মানুষ তার মতের প্রতিফলন ঘটাবে, এটিই তো রাজনীতির আকাক্সক্ষা।

সাপ্তাহিক : নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এখন কী ভাবছেন?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী :  দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হয় না, আওয়ামী লীগ বারবার প্রমাণ করেছে। এ কারণে আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রাখার কোনো কারণ নেই। যেভাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব, আমরা সেভাবেই রূপরেখা দেব।

সাপ্তাহিক : সরকার তো তার অবস্থানে অনড়।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : সময় সব বলে দেবে। স্বৈরাচার সবসময়ই অনড় থাকে। বাঘের পিঠে চড়ে নামার উপায় থাকে না।

সাপ্তাহিক : সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোনো….

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : আলোচনার বিষয়টি নির্ভর করবে সরকারের আন্তরিকতার ওপর। আওয়ামী লীগ তো সব আলোচনার বিষয়ই উড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা আনুষ্ঠানিকতার উদ্যোগ নিতেই পারি। কিন্তু সরকার না চাইলে লাভ কি? সরকারের কথায় গণতন্ত্রের কোনো ইঙ্গিত মিলছে না।

সাপ্তাহিক : তৃতীয় শক্তি বা জোট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যদি গঠিত হয়, তৃতীয় জোটকে কীভাবে স্বাগত জানাবেন?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : মানুষ জগদ্দল পাষাণ থেকে মুক্তি চায়। এই মুক্তির ঠিকানায় যারাই আসবেন আমরা তাদেরই স্বাগত জানাবো।

সাপ্তাহিক : এই মুক্তির আন্দোলনে বিএনপি কোনো অন্তরায় কিনা? অর্থাৎ বিএনপি অন্যের পথ রুদ্ধ করে রেখেছে কিনা?  

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : আমরা কারো পথ বন্ধ করে রাখিনি। আমরা এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা দিয়েছি। অন্য কোনো দল বা জোট যদি এসে তাদের অবস্থান তৈরি করে, আমরা অবশ্যই সাধুবাদ জানাবো।

বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রশ্নে কোনো আপস করেনি। ভবিষ্যতেও করব না। মানুষ মুক্তি চায়। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সে মুক্তি আসবে। আওয়ামী লীগ রাজনীতি, অর্থনীতি, বিচার ব্যবস্থা সবই ধ্বংস করল। মুক্তি জরুরি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যারাই আন্দোলনের ডাক দেবে বিএনপি তাদের সঙ্গেই থাকবে। ঘরে আগুন লেগেছে। সবার কাছেই পানি প্রত্যাশা করছি।

সাপ্তাহিক : বিএনপিপ্রধান বেগম খালেদা জিয়ার জামিন মিলছে, আবার মিলছে না। কী দেখছেন খালেদা জিয়ার জামিনের ভবিষ্যৎ?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : সঠিক বিচারের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার সাজা দেওয়া হয়নি। সরকার যা চাইছে, তাই হচ্ছে। এ কারণে বিচারিক ব্যবস্থায় খালেদা জিয়ার মুক্তি বা জামিন প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। আবারো ক্ষমতায় যেতে খালেদা জিয়াকে জেলে রাখা হয়েছে।

সাপ্তাহিক : গণতন্ত্রের মুক্তির কথা বলছিলেন। অথচ খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : ব্যর্থ মনে করার কোনো কারণ নেই। ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। গণতন্ত্র এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন এক সঙ্গেই চলছে, চলবে।

সাপ্তাহিক : আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি কীভাবে মেলাবেন?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : খালেদা জিয়া জেলে থাকলে আওয়ামী লীগের ফের ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন সফল হবে না।

সাপ্তাহিক : তার মানে খালেদা জিয়া জেলে থাকলে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না?  

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : আমরা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। সময় আসলেই সব জানতে পারবেন। খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাই শেখ হাসিনার কাছে বড় ভয়।

সাপ্তাহিক : এত জনপ্রিয় নেত্রী জেলে থাকা বিএনপির কাছে বেমানান কিনা?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : আওয়ামী লীগ সবচেয়ে খারাপ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে। তিনবারের  নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে দিয়েছে। এটি গোটা জাতির জন্য লজ্জাকর।

সাপ্তাহিক : সামনের নির্বাচন নিয়ে কতটুকু আশাবাদী?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : সরকার জনমতকে আমলে নিলেই আমরা নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী।

সাপ্তাহিক : তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে কী বলবেন?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : যেখানে আইনের শাসন নেই, সেখানে তার ফিরে আসা নিরাপদ মনে করি না। আইনের শাসন থাকলে, সে আদালতের শরণাপন্ন হতো। দেশে আর বিচার নেই। বুনো শাসনের সময় কোনো সভ্য লোকের আশ্রয় হয় না।

সাপ্তাহিক : তারেক রহমান দেশের বাইরে থেকেই-বা কী ফল পাচ্ছেন?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : যেখানে জীবনের নিরাপত্তা নেই সেখানে এসে ভালো কিছু আশা করা যায় না। খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার অনুমতি পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না।

অনেক দেশের নেতারাই দেশের বাইরে থেকে রাজনীতি পরিচালনা করেছেন। স্বৈর সরকারের আমলে দেশের বাইরেই বরং নিরাপদ। প্রযুক্তির এই দিনে আসলে অবস্থান কোনো বাধা হতে পারে না।