(বিএনপি কমিউনিকেশন) — বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ৯০ র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আয়োজনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের সাজা বাতিলের দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বলেন, একটি সুদুর প্রসারী নীল নকশার মধ্য দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র করছে এই অবৈধ সরকার।

মির্জা আলমগীর বলেন, আপনারা যদি অনেকদিনের মেমোরি ঝালিয়ে নেন তাহলে দেখবেন আমাদের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু একটি কথা সবসময় বলেন। রাজনীতিকে খালেদা মুক্ত করতে হবে। তিনি শুধু একটা কথাই বলেন। বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে খালেদা জিয়াকে দূরে সরিয়ে দিতে হবে। তাকে রাখা যাবে না। কি অপরাধ তার? অপরাধ হল তিনি বাংলাদেশের মানুষের কথা বলেন। তিনি মানুষের কথা বলার অধিকারের কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চান। একই সঙ্গে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ দেখতে চান। সেই জন্যই এই নীল নকশার মধ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো সাজানো হয়েছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো সাজানো হয়েছে বা তাকে যে মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে এগুলো করা হয়েছিল ১/১১ এর পরে। ১/১১র পরে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ছিল ৪ টি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা ছিল ১৫ টি। দুইজনের বিরুদ্ধেই একই ধরণের মামলা ছিল। সবগুলো দুর্নীতির মামলা। কিন্তু প্রধানন্ত্রী ১/১১র কুশিলবদের সহযোগীতায় ক্ষমতায় আসার পরে তিনি তার সব মামলাগুলো তুলে নিলেন। আর দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলাগুলো থাকলো। পরবর্তীতে আরো অনেকগুলো ক্রিমিনার কেস যুক্ত হয়েছে। আবার একই সঙ্গে ৫ টি থানায় উড়ে গিয়ে বাস পুড়িয়ে দেয়ার মতো মামলা তার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের পর যুক্ত হল। এগুলো করার একটাই উদ্দেশ্য দেশত্রেীকে রাজনীতিতে তারা স্বস্তিতে থাকতে দেবে না। বারবার তারা বলে যে খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে থাকতে দেব না। তাকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চায়। বেগম খালেদা জিয়াকে দূরে সরিয়ে দিতে নয় তিনি যে রাজনীতি করেন সেই রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে দিতে চায় এই সরকার। এই কথাগুলো আমাদের মাথার মধ্যে না রাখলে আমরা কোন কাজেই সফল হব না।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার অপরাধ একটাই, তিনি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের কথা বলেন। দেশের মানুষের যে স্বকীয়তা আছে সেই স্বকীয়তার কথা বলেন। তিনি গণতান্ত্রিক একটা রাষ্ট্র নির্মাণের কথা বলেন। সেই কারণেই এই মামলাগুলো দেয়া হয়েছে, দেয়া হচ্ছে। আমরা এই নীল নকশাকে ভেঙে দিতে ব্যর্থ হয়েছি। যে নীল নকশা নকশা শুরু হয়েছিল ২০০১ সালে জোট সরকার যখন ক্ষমতায় আসলো তখন। তখন আমেরিকার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নামের একটি পত্রিকায় একটি নিউজ ছাপা হল। যেখানে একটি ছবি দেয়া হল। ছবিতে একজন মওলানা ছুরি হাতে দাড়িয়ে আছেন। তার ছুরিটি রক্তাক্ত, জামায় রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। পত্রিকায় লেখা হল ‘ইজ বাংলাদেশ গোয়িং টু বি মিলিট্যান্টস স্টেইট?’। ওই নিবন্ধেই বলা হল বাংলাদেশ কি একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। এটি লিখেছিল অরবিন্দ আধিকা নামের একজন সাংবাদিক। যার জন্ম ভারতে আর চাকরি করতেন আমেরিকার পত্রিকায়। এর কিছুদিন পরে বাংলাদেশের পত্রিকায় সেই একইভাবে লেখা হল বাংলাদেশ কি অকার্যকর রাষ্ট্র হয়ে যাচ্ছে? তার পরে ধারাবাহিকতা কিন্তু আমরা জানি। এর পর জঙ্গিবাদের কথা, ইসলামিক মিলিট্যান্সির কথা, ফ্যানাটিসিজমের কথা। জোটের সরকারকে মৌলবাদি সরকার হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কিন্তু আজকে জেলে। একথাগুলো ভুলে গেলে কিন্তু ভুল করা হবে। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ বা প্রধানমন্ত্রী বিএনপি আর খালেদা জিয়াকে দেখতে পারেন না তার জন্য না। এর পেছনে গভীর রাজনীতি আছে। সেই রাজনীতি আমাদের বুঝতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এখানে যারা উপস্থিত আছেন তারা দীর্ঘ আন্দোলন করেছেন। তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে। আন্দোলন করে স্বৈরাচারকে হটানোর অভিজ্ঞতা আপনাদের আছে। এজন্যই একথা গুলো বলছি। আমাদের নেতাদের মধ্যে অনেকেরই হতাশা আছে। এখন আন্দোলন হচ্ছেনা। হবে না। ৯০ এর মতো গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে হবে। অবশ্যই গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েই এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। কিন্তু কেন হচ্ছে না সেটা নিজেকে জিজ্ঞেস করেন। তখনকার প্রেক্ষিত কি ছিল আর এখনকার প্রেক্ষিত কি আছে। আজকের পত্রিকাগুলো পড়লে দেখতে পারবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোন সমাবেশ করা যাবেনা বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আমার মনে পড়ে আমি যখন ঢাকা কলেজের ছাত্র তখন আমাদের প্রিন্সিপাল ছিলেন দারুণ দাপুটে মানুষ ছিলেন। তিনি আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করতে দিতেন না পাকিস্তান আমলে। আমরা একটু গান গেয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাব সেটা করতে দিতেন না। একেবারে রাজনীতি ব্যান্ড ছিল। আজকে পত্রিকা পড়ে মনে হচ্ছে আমরা কি আয়ুব খানের দিকে ফিরে গেলাম? আয়ুব খানের আমলে একটি ছাত্র সংগঠন তৈরী করেছিল। তারাও আজকের এই ছাত্রলীগের মতো হকিস্টিক, লোহার রড পোশাক গলায় জড়িয়ে সাধারণ ছাত্রদের ভয় দেখিয়ে বেড়াতো। তখন অন্যান্য যে ছাত্র সংগঠনগুলো ছিল ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রলীগ ও অন্যান্য সংগঠনগুলো কোন মিটিংই করতে পারতো না।

আমর মনে হচ্ছে আমরা সেই সময় চলে গেছি। এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বিদ্যাপিঠ নয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় মুক্ত চিন্তার আসল জায়গা। এই বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনভাবে চিন্তা করার জায়গা। মানুষকে পথ দেখিয়েছে। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজকে মানুষকে বেড়ি পরিয়ে দিচ্ছে, কেউ যেন কথা বলতে না পারে। তাহলে বুঝতে হবে এটাও ওই চক্রান্তের অংশ।

সমাবেশে ডাকসুর সসাবেক ভিপি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফুর রহমাম, যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।