(বিএনপি কমিউনিকেশন) —বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার, জুলাই ১১, রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্য বা তার দলের নেতাদের কাউকে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। গত ১১ দিন ধরে চেষ্টা করেও খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যসহ কেউ-ই দেখা করতে পারেনি। জেলকোডের বিধানমতে খালেদা জিয়ার সাথে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের দেখা না করতে দেওয়া তাঁর এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘন।

বিএনপির মহাসচিব এর বক্তব্যের পূর্ণপাঠ নিচে দেয়া হল  —

সাংবাদিক বন্ধুরা,
আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।
জেলকোডের বিধানমতে খালেদা জিয়ার সাথে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের দেখা না করতে দেওয়া তাঁর এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘন। কারণ-
১। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে আটক রাখার পর তিনি কারাবিধির ৬১৭ বিধি অনুসারে ডিভিশন-১ প্রাপ্ত হন। ডিভিশন-১ প্রাপ্ত বন্দীর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য কারাবিধির সপ্তদশ অধ্যায়ে (বিধি-৬৬৩-৬৮১) বর্ণিত অধিকারে খালেদা জিয়ার সাথে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী/বন্ধুবান্ধবের সাক্ষাৎকারের বিষয়টি বিশদভাবে বলা আছে।
২। উপরোক্ত বিধানের অতিরিক্ত হিসাবে আরও বলা যায় যে, খালেদা জিয়া যেহেতু সাজার মামলায় জামিনে আছেন, সেহেতু তাঁকে সাজাপ্রাপ্ত  বন্দী হিসেবে বিবেচনা না করে বিচারাধীন মামলায় বন্দী হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সে হিসেবেও কারাবিধির সপ্তবিংশ অধ্যয়ে (বিধি-৯০৯-৯১০) অনুসারে তিনি প্রথম শ্রেণীর ডিভিশন প্রাপ্ত বন্দী। সেখানেও তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী/বন্ধুদের সাক্ষাতের অধিকার বিধি-৬৮২-তে প্রদান করা আছে।
৩। শুধু তাই নয়, কারাবিধির ৮০ (৪) বিধি অনুসারে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতকালে কারাগারের প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাক্ষাৎ প্রার্থীর মতামত অন্তর্ভূক্তির জন্য নির্ধারিত ভিজিট বই রাখার বিধানও করা হয়েছে।
৪। বেগম খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে কারাবিধি অনুসারে এখন গণ্য হবেন না। কারণ তিনি সাজার মামলায় জামিনে আছেন। ফলে বিচারাধীন মামলায় আসামী হিসেবে কারাবিধির ৬৮২-তে প্রদত্ত অধিকার বাদেও কারা আইন ১৮৯৪ এর ধারা ৪০ এর বিধানমতে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী/বন্ধুদের সাক্ষাতের অধিকার রাখেন।
৫। এখানে একটি কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বেগম খালেদা জিয়ার সাথে একজন নারী কর্মীকে থাকার অনুমতি দিয়ে সরকার যে বাহবা নেওয়ার চেষ্টা করছেন তা জাতির সাথে ধোকাবাজি করা। কারণ কারাবিধি ৯৪৮ অনুসারে সরকার একজন মহিলা কর্মী দিতে বাধ্য।
আল্লাহ হাফেজ।