(বিএনপি কমিউনিকেশন) —বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বুধবার, জুলাই ১১, রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশ এক ভয়াবহ আতঙ্কের দ্বীপে পরিণত হয়েছে। হাড় হিম করা এক ভয়াল আতঙ্ক সাধারণ মানুষকে সারাক্ষণ তাড়া করে ফিরছে। গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদ জলাঞ্জলি দিয়ে বিভৎস স্বৈরাচার ও দুর্নীতি আধিপত্য বিস্তার করেছে। দুর্নীতি-লুটপাটে সারাদেশ লন্ডভন্ড। এই অনাচার টিকিয়ে রাখতেই বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও অদৃশ্য করে দেয়ার অমানবিক ও নিষ্ঠুর খেলায় নিজেদেরকে ব্যাপৃত রেখেছে।

 

প্রেসব্রিফিং এর বক্তব্যের পূর্ণপাঠ নিচে দেয়া হল —

 
সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।
সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
ঢাকা মহানগর উত্তর আদাবর থানাধীন ৩০ নং ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি মো: হুমায়ুন কবির গত ২৯ জুন ২০১৮ তারিখে বাসার সামনে থেকে মশার কয়েল কিনতে গেলে তাকে কয়েকজন অজ্ঞাত লোক মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এখনও পর্যন্ত সে নিখোঁজ। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করলেও তারা হুমায়ন কবিরকে গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করে। তবে এটি নিশ্চিত যে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীরই কোন টিম তাকে তুলে নিয়ে গেছে। এই ঘটনা বর্তমান সরকারের দেশকে বিরোধী দলশুন্য করার কর্মসূচির অংশ। বাংলাদেশ এক ভয়াবহ আতঙ্কের দ্বীপে পরিণত হয়েছে। হাড় হিম করা এক ভয়াল আতঙ্ক সাধারণ মানুষকে সারাক্ষণ তাড়া করে ফিরছে। গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদ জলাঞ্জলি দিয়ে বিভৎস স্বৈরাচার ও দুর্নীতি আধিপত্য বিস্তার করেছে। সন্ত্রাসের নির্মাণ ও বিপণনে যারা পারঙ্গম তাদের শাসনে জনমনে চাপা আতঙ্কই বিরাজ করে। দুর্নীতি-লুটপাটে সারাদেশ লন্ডভন্ড। এই অনাচার টিকিয়ে রাখতেই বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও অদৃশ্য করে দেয়ার অমানবিক ও নিষ্ঠুর খেলায় নিজেদেরকে ব্যাপৃত রেখেছে। বাংলাদেশ এখন দু:স্বপ্নের দেশ।
কয়েকদিন আগে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসাহাক সরকারকে রাতের অন্ধকারে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে তার অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানায়নি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবারের সকলকে চরম উদ্বেগ, উৎকন্ঠার মধ্যে ঠেলে দিয়ে দুই দিন পরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রিমান্ডে থাকাকালীন তার প্রতি কি আচরণ করা হচ্ছে তা আমরা জানিনা। তবে তাকে নির্যাতনের মাধ্যমে কোন শেখানো বুলি বলানো হচ্ছে কী না তা নিয়ে দল ও তার পরিবার সকলেই উদ্বেগের মধ্যে আছে। আমি অবিলম্বে ইসাহাক সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও রিমান্ড বাতিল করে তার নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
বন্ধুরা,
দিনাজপুর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক বখতিয়ার আহমেদ কচি এবং বাগেরহাট জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক ও স্মরণখোলা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি খান মতিউর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লক্ষীপুর জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি রেজাউল করিম লিটনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশাকেও মিথ্যা মামলায় জামিন লাভের পরও কারাফটক থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মজিবুর রহমানকে বারবার রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আমি তাদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি। মজিবুর রহমানের রিমান্ড বাতিল করে তার নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে গাড়ীতে ফ্ল্যাগ উড়িয়ে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ সার্কিট হাউস ও বরিশাল ক্লাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নৌকা প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সিটি কর্পোরেশনের সীমানার বাইরে থেকে লোকজনদের নিয়ে এসে নৌকা মার্কার পক্ষে মহড়া চলছে। ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী এ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সারোয়ার প্রচার মিছিল বের করলে সেই মিছিলে পুলিশ বাধা দিচ্ছে, কিন্তু নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর মিছিল সারা মহানগর অবাধে প্রদক্ষিণ করছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ঘোর বিরোধী নির্বাচন কমিশন প্রাণহীন পাথরের মতো নির্বিকার বসে আছে। তাদের কাছে বিরোধী দলের প্রার্থীর অভিযোগের কোন মূল্য নেই।
 
 ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।