(বিএনপি কমিউনিকেশন) —  ক্ষমতাসীন সরকারকে অবৈধ এবং অনৈতিক সরকার আখ্যা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের বারবার মনে রাখতে হবে সম্পূর্ণ বৈরি পরিবেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছি। এ কথা ভুললে চলবে না যে আমরা সম্পূর্ণ ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে বাস করছি। ফ্যাসিস্ট কথাটায় জোর দিচ্ছি কারণ মাহমুদুর রহমান তার পত্রিকায় সর্বপ্রথম লিখেছিলেন – ফ্যাসিবাদের প্রতিধ্বনি শোনা যায়। আর আজকে ফ্যাসিবাদের প্রতিধ্বনি বুকে পাড়া দিয়ে বসে গেছে।’

মঙ্গলবার, জুলাই ২৪, দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মাহমুদুর রহমানকে আমি অনেক পছন্দ করি। তার মতের সঙ্গে আমার অনেক মিল আছে। সেই মাহমুদুর রহমানের কি হাল করেছে দেখেছেন আপনারা। কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশের এখন আর কোনও জনপদ নেই। কুষ্টিয়া এখন সম্পূর্ণভাবে কিছু সন্ত্রাসীদের দখলে। প্রশাসনও সেখানে সন্ত্রাসী হয়ে গেছে, পুলিশ সেখানে সন্ত্রাসী হয়ে গেছে। ওখানকার যে রাজনৈতিক নেতা উনি সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী। অথচ এই কুষ্টিয়াতে আওয়ামী লীগের লোকেরা পালিয়ে বেড়াতো। এখন মন্ত্রী আছেন তাদের ছেলেপেলেরা এই কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে ঈদের জামায়াতে গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে। ভুলে গেলে চলবে না – ওই কারণেই মনে করাই, যে অতীতকে একটু মনে করুন। অতীতকে মনে না করলে নিজেকে চিনবেন না।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমরা নাকি জনগণের কাছে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ব্লেম গেম করছি। বলার উদ্দেশ্যটা হচ্ছে একটা অডিও বেরিয়েছে আমাদের দুই নেতার মধ্যে কথোপকথন। যার উপর ভিত্তি করে আমাদের রাজশাহী জেলার সেক্রেটারিকে গ্রেফতার করেছে। আজকালকার প্রযুক্তির যুগটা আমরা এতো ভালো করে বুঝি, মানুষ এতো ভালো বুঝে যে আমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাপনও তৈরি করে দেয়া যায়। কোনও কঠিন কাজ না। আপনার নিজেরাই দেখতে পারেন কার কতো রকম ছবি বের হয়, এর ঘাড়ে ওর মাথা। এটাই করেছেন আপনারা।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে হত্যা করে জাস্টিফাই করার জন্য যত রকমের কাজ আছে আপনার তা করছেন। সোজা হিসাব, আমার দলের একটি মিটিং করছি এর মধ্যে কি আমার দলের কেউ বোমা মারবে? আপনাদের মনে আছে, নয়াপল্টনের সামনে আমরা বিরাট মিটিং করছিলাম। সেদিন ১৫৪ জন গ্রেফতার হলো। আমি যখন ওই মিটিংয়ে ট্রাকের উপর উঠলাম তখন নাইটিঙ্গেল মোড়ে দুইটা পটকা ফুটলো। সেদিন মাহমুদুর রহমানকে যেই লোক পিটিয়েছেন এই লোক সেদিন এখানে ছিল। আমরা যেকোনো সময় সমাবেশ করার আগে ভয় পাই। কারণ ওই যে ব্লেম গেম, ওরাই পটকা মারবে আর ওরাই আমাদের দোষ দিবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার এই খেলাগুলো ভালো জানে। এতো ভয় কেন? এতো ভীত হয়েছেন কেন? সম্পূর্ণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে জনগণকে বোকা বানিয়ে আপনারা মনে করছেন পর পেয়ে যাবেন? জনগণ এতো বোকা নয়। সব বুঝে মানুষ। তাদের মনে ধিকিধিকি আগুন জ্বলছে।’

খালেদা জিয়া আইনগত প্রাপ্য বঞ্চিত দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘তাকে আটক রাখার জন্য উচ্চ আদালতও সহযোগিতা করছে। তা নাহলে এমন নজির নেই যে আপিল বিভাগের জামিন উচ্চ আদালতে আটকে দেয়। আমরা বিচার ব্যবস্থার ওপর কিভাবে আস্থা রাখবো?’

এনপিপির সভাপতি ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মাদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, এনপিপির মহামচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া প্রমুখ।