বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সময় আসছে জনগণই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটাবে। তারা এই স্বৈরাচারী সরকারের একদলীয় বাকশালী শাসন মেনে নেবে না। আজকে বাংলাদেশেও যারা ফ্যাসিবাদের দোসর তাদের রেহাই হবে না।

বুধবার, জুলাই ২৫,  দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের ওপর কুষ্টিয়ার আদালত প্রাঙ্গণে ছাত্রলীগ কর্তৃক হামলার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচির প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বৈরাচার। তারা হিটলার ও গোয়েবলসের মতো মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। আজকে বাংলাদেশেও যারা ফ্যাসিবাদের দোসর তাদের রেহাই হবে না।

তিনি বলেন, এই স্বৈরাচার সরকারের কবল থেকে জনগণ মুক্তি চায়। যে কারণে সরকারও জনগণকে ভয় পায়। আর জনগণের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার ভয় পায়। এ জন্যই তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রেখেছে। এভাবে সরকার আবারো ফ্যাসিবাদী শাসন জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ বার বার প্রতারিত হয়ে চায় না। সময় আসছে জনগণই স্বৈরাচারি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটাবে। এই সরকারের পতনের মাধ্যমে মাহমুদুর রহমানের রক্তের প্রতিশোধ নেয়া হবে। আমরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করছি। তাদের পাশে থাকবো।

মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি স্বাধীন দেশের আদালতে একজন সম্পাদকের ওপর হামলা হবে এটা কল্পনাও করা যায়নি। সরকারি দলের লোকজন পরিকল্পিতভাবে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়েছে। মনে হয় পুলিশ তাদেরকে হামলা করার সুযোগ করে দিয়েছিল। তা না হলে পুলিশ হামলা সময় দূরে অবস্থান নিয়েছিল কেনো? এটা মেনে নেয়া যায় না। আজকে শুধু মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা নয়, এটা গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের ওপর হামলা। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা। আসলে মাহমুদুর রহমান মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করছেন। এ জন্যই তার ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়।

ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, এই সরকারের পরিকল্পনায় মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা হয়েছে। আর তারা এখন বলছে যে হামলা করেনি। তাহলে হামলা করলো কে? আসলে সরকার নিজেদের দোষ অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে ব্লেম গেইম খেলছে। এখন পর্যন্ত তারা একজন আক্রমণকারী সন্ত্রাসীকেও আটক করতে পারেনি।

জামায়াতের নায়েবে আমি মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের অবস্থান কর্মসূচিতে দলের পক্ষে সংহতি জানিয়ে বলেন, মাহমুদুর রহমান বর্তমানে সরকারের সর্বোচ্চ ব্যর্থতার বিরুদ্ধে, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এ জন্যই তার ওপর হামলা হয়েছে। আজকে সময় এসেছে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে সর্বাত্মক আন্দোলনে নামতে হবে। আসলে মাহমুদুর রহমানের রক্তমাখা লাল শার্ট লজ্জিত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।

শওকত মাহমুদ বলেন, মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা গণঅভ্যুত্থানের সূচনা করবে। আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাই। আজকে মাহমুদুর রহমানের ওপর শুধু নয় যে কারো উপরই হামলা হতে পারে। এমতাবস্থায় ঈমানী দায়িত্ব নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে শরিক হতে হবে।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকি কুষ্টিয়ায় পুলিশের এসপিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মাহমুদুর রহমানের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। তিনি তো কথা শোনেননি। তার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী ব্যবস্থা নিয়েছেন? ওবায়দুল কাদের কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? সবাই বলছে হামলা করেনি। তাহলে হামলা করলো কে? অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার না করলে আমাদের বৃহত্তর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও ডিইউজের সহসভাপতি শাহীন হাসনাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি মিয়া মো: গোলাম পরওয়ার, বিএফইউজের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, দিগন্ত টিভির ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিএফইউজে’র সহ-সভাপতি নূরুল আমিন, কৃষিবিদদের নেতা ও বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ।

সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।