মোঃ নিজাম উদ্দিন

এক

বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপস্থাপিত ‘বিএনপি ভিশন ২০৩০’ সারা বাংলাদেশে তুমুল অালোচনার জন্ম দিয়েছিল। এত সাজানো গোছানো স্পষ্ট সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দিতে পারা দল হিসাবে বিএনপির জন্য গর্বের বিষয়ই বটে। যা অাগে কখনও দেখা যায়নি।

বিএনপি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে বাংলাদেশকে নিয়ে কী তাদের পরিকল্পনা? কী করতে চায়? কেন চায়? কিভাবে চায়? অালোচনা এখনো হচ্ছে রাস্তাঘাটে, চা-স্টলে, শিক্ষাঙ্গন, সমাবেশে, বক্তৃতা সেমিনারে ভিশন ২০৩০ নিয়ে। অসাধারণ এই ভিশনটি যেটুকু প্রচার প্রকাশ হওয়ার প্রয়োজন ছিল সেটি হয়নি বলেই মনে হয়। সে দায়ও অামাদেরই। পূর্বে দু একটি লেখা এই ভিশন নিয়ে অামিও পোস্ট করেছিলাম, অামার কাছে মনে হলো বাংলাদেশের রাজনীতির এই দুঃসময়ে গণহারে এই ভিশনটি অাবারও প্রচার হওয়া উচিত,অামার এই লেখায় খুব একটা কিছু হবে বলেও মনে করিনা, লিখছি দলের একজন কর্মী হিসাবে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে।

দুই
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে যখন জোট অার ভোটের রাজনীতির ঝড় বয়ে যাচ্ছে, নতুন নতুন দাবিদাওয়া, পলিসি ঘোষিত হচ্ছে, যুক্তফ্রন্ট-ঐক্যপ্রক্রিয়া গণতন্ত্রের মিছিলে শামিল হতে যাচ্ছে,ভাবলাম দেখে নিইতো, অাজ থেকে দুই বছর অাগে ভিশন ২০৩০ এ গণতন্ত্র সংগ্রামী দেশনেত্রী কী লিখেছেন? গণতন্ত্রের পক্ষে জনতার সামনে কী ইশতেহার তিনি দিয়েছিলেন? অাজ ঐক্যপ্রক্রিয়া রাষ্ট্রের মালিকানার কথা বলছে অথচ বিএনপির ভিশন ২০৩০ এর এক নাম্বার দাবীই এটা।

অবাক হচ্ছেন? পড়ে দেখুন না।

বিএনপি বলছে — অামরা রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে চাই। ওয়ান ডে ডেমোক্রেসির অবসান চাই। শুধু ভোটের দিনের গণতন্ত্রের কোনো মানে হয়না। ভিশন বলছে — ‘গনতন্ত্রের চেয়ে উন্নয়ন শ্রেষ্ঠ’ এই ভুয়া রাজনীতি রুখে দিতে চাই। ক্ষমতাসীনরা যে রাষ্ট্রের মালিক নন, সেবক, অাসল মালিক জনগণ এটাই বিএনপির ভিশনের প্রধান বার্তা।

তিন
সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা হয়েছে বিএনপি সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করতে চায়। কারণ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প নেই। পাকিস্তান নেপালের মত দেশ যেখানে জঙ্গি অার মাওবাদীদের অাধিপত্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে তারাও সেখানে সুন্দর নির্বাচনের নজির স্থাপন করেছে। অামরা কেন বাতিল করতে গেলাম? ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য?

ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে নেয়ার ঘোর বিরোধী বিএনপি।
একজন এমপি কোন যোগ্যতায় একজন বিচারপতিকে বহিষ্কারের ক্ষমতা রাখে? যেখানে অনেক এমপির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন জড়িত! সেজন্যই বিএনপি এই সংশোধনী বাতিল করবে। যেকোন সংকট সমাধানে রাষ্ট্রে জনগনের মতামত দেওয়ার অধিকার অাছে, এটাই গণতন্ত্র। বিএনপি পুনরায় সরকার কর্তৃক জনগনের বাতিলকৃত গণভোট চালু করবে,পাবলিক একাউন্টস ও পাবলিক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি পদ বিরোধীদলকে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বিএনপি।

চার

বিএনপি ভিশনে ঘোষণা করছে ভিন্ন মত ও পথের নীতি অাদর্শের ব্যক্তি ও দলকে নিয়ে সবার মতামতের ভিত্তিতে সরকার পরিচালনা করতে চায়, যা রেইনবো নেশন বা রংধনু জাতি হিসাবে পরিচিত হবে। শরতের অাকাশে সাতটি রংয়ের বিচিত্র প্রভা নিয়ে রংধনু যেভাবে মনোরম সৌন্দর্যের বিচ্ছুরণ ঘটায় ঠিক তেমনি একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি লালন ও পরিপুষ্ট করতে ভবিষ্যৎ এ সরকার গঠন করতে পারলে বাংলাদেশকে বিএনপি একটি Rainbow nation বা রংধনু জাতিতে পরিণত করবে।

এজন্যই বিএনপি হয়ত বা চলমান ঐক্য প্রক্রিয়াকেও সমর্থন করে। সামাজিক বিভাজনের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে বিএনপি একটি ইনক্লুসিভ সোসাইটির স্বপ্ন দেখে। বিএনপি বিভক্ত সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার স্বপ্ন দেখে। বিএনপি ভবিষ্যতবমুখী নতুন ধারার রাজনীতি করতে চায়। সুশাসন, সুসরকার ও সুনীতির সমন্বয়ে ( 3G — good governance, good government, good policy) থ্রি জির সরকার প্রতিষ্ঠা করে সত্যিকারের জনগণের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। যে স্বপ্ন নিয়ে একাত্তরের টগবগে তরুণ জীবন দিতে যুদ্ধে গিয়েছিল সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ চায় বিএনপি।

পাঁচ
বিএনপি বলছে — সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে কালিমামুক্ত করে,জনস্বার্থে কাজ করার সুযোগ তৈরি করা হবে।একজন বিচারপতিকে যেন রায় লেখার অপরাধে নির্বাসনে পালিয়ে বেড়াতে না হয়,, নির্বাচন কমিশন যেন ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে,মানবাধিকার কমিশন যেন অসহায়ের কান্না না শোনে, দুদক যেন দল মতের উর্ধ্বে উঠে কাজ করে, ,শিক্ষার্থীরা যেন লাশ না হয়,এমন একটা পরিবেশ চায় বিএনপি।

দুর্নীতির সাথে কোনো অাপশ হবেনা।ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠা করা হবে।জনপ্রশাসন,পুলিশ,বিচার ও কারাগার এই চারটি ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার করা হবে।কালাকানুন বাতিল,বিশেষ ক্ষমতা অাইন ১৯৭৪ বাতিল এবং গুম খুনের রাজনীতি বন্ধ করা হবে।জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে।

বিচারক নিয়োগের বাছাই কমিটি,বিচারকদের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করবে,এবং বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত ক্ষমতা জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে প্রত্যাবর্তন করবে বিএনপি।

ছয়
অধস্তন অাদালতকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করতে সুপ্রিম কোর্টের অালাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।ন্যায়বিচারেরর স্বার্থে জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করা হবে।সত্যিকারের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।ভিশনে বিএনপি বলছে-পুলিশকে সময়োপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।অাট ঘন্টার বেশি দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশকে ওভারটাইম দেওয়া হবে। অাবাসন ও ঝুকি ভাতা এবং জাতিসংঘের শান্তি মিশনে সশস্ত্রবাহিনীর সাথে সাথে পুলিশের অংশগ্রহণও বাড়ানো হবে।

সীমান্তের বাইরে অামাদের বন্ধু অাছে প্রভু নেই –বিএনপি এই নীতিতে বিশ্বাসী।কেউ অাক্রমণ করার দুঃসাহস দেখালে শক্ত হাতে তা প্রতিহত করতেও প্রস্তুত। বন্ধুত্ব চাই, প্রভুত্ব নয়।বাংলাদেশের ভূখণ্ড কোনো সন্ত্রাসী বা সন্ত্রাসী সংগঠনকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।মধ্যপ্রাচ্য,পাশ্চাত্য, ভারত, চীনসহ সকল রাষ্ট্রের সাথেই বিএনপি সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করবে।দেশ চলবে জনগণের ইচ্ছা ও মতামতের ভিত্তিতে।

সাত
ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে বিএনপি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনীর অাওতায় সকল অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করা হবে।অসহায় মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্হা চালু করা হবে।বেসরকারি পেনশন ফান্ড, বিনা ভাড়ায় প্রতিবন্ধীদের যাতায়াতের ব্যবস্হা করা হবে।২০৩০ সালের মধ্যে অাধুনিক, গণতান্ত্রিক, উচ্চ মধ্যম অায়ের দেশে পরিণত করা হবে বাংলাদেশকে।মাথাপিছু অায় হবে পাঁচ হাজার ডলার, প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিটে উন্নীত করা হবে।

সার্কভুক্ত ও অাশিয়ান দেশ সমুহের সাথে রেল ও সড়ক যোগাযোগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।গণচীনের “ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড ” উদ্যোগে বাংলাদেশের যৌক্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।এশিয়ান হাইওয়ে এবং ঢাকা কুনমিং রেল ও সড়ক যোগাযোগ সহ অাঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে।বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা হবে।

আট
বর্তমান বিশ্বে সমুদ্রকেন্দ্রিক অর্থনীতির অাধিপত্য বাড়ছে।বঙ্গোপসাগরের এক বিশাল অংশ অামাদের।সামুদ্রিক মাছ,প্রণীজ উৎস, প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের সম্ভাব্যতা বাংলাদেশের সমুদ্র নির্ভর অর্থনীতির নতুন বিশাল খাতে পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও উদ্যোগের অভাবে এখাতের বিকাশ হচ্ছে না।বিএনপি এই সামুদ্রিক নীলজলের অর্থনীতির (blue economy) উন্নয়নে বিশেষ ব্যবস্হা গ্রহণ করবে।

বিদ্যুতের উৎপাদন ৩৫০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে।বাসা বাড়ি,শিল্পকলকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুত সর্বরাহ নিশ্চিত করা হবে।কর্ণফুলি,বুড়িগঙ্গা, গোমতী, পদ্মা,যমুনা ও মেঘনার তলদেশে অান্ডারগ্রাউন্ড ট্যানেল নির্মাণের মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়া হবে।দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে।

নয়
সকল মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিক ঘোষণা করা হবে।মুক্তিযুদ্ধাদের একটি সঠিক নির্ভুল তালিকার মতই সারা দেশে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদেরও একটি নির্ভুল তালিকা প্রনয়ণ করে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারকে অধিকতর রাষ্ট্রীয় সম্মান ও সহযোগিতার অাওতায় অানা হবে।যুদ্ধ করতে গিয়ে যিনি জীবন দিয়েছেন তার সেক্রিফাইজের উপযুক্ত মূল্যায়ন হওয়া দরকার।

সকল পর্যায়ের চাকরির নিয়োগে একমাত্র মেধাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।চাকুরিতে কোটা প্রথা অত্যন্ত যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে অাসা হবে।বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণার মান বাড়াতে
অর্থনৈতকভাবে ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান গুলোকেও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসাবে যুক্ত করে ধনী দরিদ্র সবার জন্য উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করা হবে।শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি করা হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষাকে অারো অাধুনিক যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।তাদের কারিকুলামে ধর্মীয় বিষয়ের পাশাপাশি পেশাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক বিষয়কে অন্তর্ভূক্ত করা হবে।বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইংরেজি সহ বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার ব্যবস্হা থাকতে যাতে তারা সমাজের মর্যাদাপূর্ণ কাজে অংশ নিতে পারে।বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়েই প্রথম দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান ঘোষণা করে।

শিক্ষার উন্নয়নে একটি অালাদা শিক্ষা টিভি চালু করবে রাষ্ট্র। ছেলেমেয়ে সবার জন্য মাস্টার্স পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করা হবে।খেলাদুলায় তরুণদের অাগ্রহী করে তুলতে রাষ্ট্রীয় ভাবে ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতা চালু করে মেধাবীদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে অানা হবে।

দশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুসহ সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু করা হবে।যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের যোগ্য প্রতিনিধি বাচাইয়ের মাধ্যমে তাদের সংকট সম্ভাবনার কথা তুলে ধরতে পারে।ছাত্ররাজনীতির সৃজনশীল ধারা যাতে ফিরিয়ে অানা যায়,,গণতন্ত্রের চর্চা যাতে বিকশিত হয়।জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির কারখানা এই ছাত্রসংসদগুলো চালু করাই বিএনপির অঙ্গীকার।শিক্ষাঙ্গনকে অার কখনোই বিএনপি সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে হতে দেবে না।শিক্ষিত বেকারদের জন্য মাসিক ভাতা চালু করবে বিএনপি।

তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে বিএনপি প্রতি জেলায় একটি করে “স্মার্ট স্কুল” প্রতিষ্ঠা করবে।যার উদ্দেশ্য হবে জেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়া,মডেল প্রযুক্তির প্রদর্শন করা।তথ্য প্রযুক্তি অাইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা সহ সকল দমন মূলক অাইন প্রত্যাহার ও বাতিল করবে বিএনপি।

রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্য সেবা -বিনামূল্য স্বাস্থ্যবীমা চালু করবে বিএনপি সরকার।৫০ধরনের ঔষধ বিনামূল্যে দেয়া হবে।অসহায় মানুষ যেন চিকিৎসার অভাবে মারা না যায় সে ব্যবস্হা করবে।

১৯৭৭ সালের জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত হাওর উন্নয়ন বোর্ডকে অধিকতর সক্রিয় করে অাগাম বন্যারোধ করে হাওর অঞ্চলের গণমানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে বাস্তব সম্মত কর্মসূচী হাতে নিবে বিএনপি।পাহাড় ধ্বস, উত্তরাঞ্চলের খড়া ও বন্যা নিয়ন্ত্রনে সময়োপযোগী প্রকল্প হাতে নিবে বিএনপি।

এগারো
সবচেয়ে অালোচিত বিষয় হলো বিএনপি দেশে দ্বি কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট চালু করবে।রাষ্ট্রের বিশেষ ক্ষেত্রে ও সমাজে যারা অভিজ্ঞ দক্ষ সফল,স্বপ্নবাজ, দেশের গর্ব, অহংকার এই ধরনের লোকদের নিয়ে গঠিত হবে পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ।যাতে তাদের মেধা অভিজ্ঞতা সফলতা ও সম্ভাবনাকে দেশ গঠনে কাজে লাগানো যায়।

বিএনপি তার ভিশন ২০৩০তে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলছে। রাষ্ট্রপতিকে নামসর্বস্ব পদে না রেখে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্য চায় বিএনপি।বিএনপি দুর্নীতির সাথে নুন্যতম কোনো ধরনের আপস করবে না।প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতাই রাষ্ট্রের সকল স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে রাষ্ট্রে জনগণের অগোচরেই এক ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্হার জন্ম দিয়েছে।, বিএনপি এই ধরনের স্বৈরতন্ত্রের অবসান চায়।

বারো
বিএনপি সরকার গঠন করলে কী করতে চায়? কিভাবে?
দেশ চালাতে চায় তার স্পষ্ট ঘোষণার নাম ভিশন ২০৩০।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দেশবাসীর উদ্দেশ্য ভিশন ২০৩০কে নির্বাচন পূর্ব ইশতেহারই বলা চলে।দেশব্যাপী এই ভিশনের ব্যাপক প্রচার প্রকাশ অালোচনা সভা সেমিনার সিম্পোজিয়াম হওয়া দরকার। মানুষ বলা দরকার, বুঝানো দরকার অাসলেই বিএনপি ক্ষমতায় অাসলে কী করতে চায়?

অাজকে জাতীয় ঐক্য কিংবা যুক্তফ্রন্ট সুশাসন নিয়ে যা বলছে এগুলো নতুন কিছু নয়,বিএনপির ভিশন ২০৩০ এ এই কথাগুলোই বলা অাছে।লুটপাট, দখল,দুর্নীতি,চাঁদাবাজী,টেন্ডারবাজীর রাজনীতির অবসান চায় বিএনপি।

যারা বাংলাদেশের মুক্তি চান,গণতন্ত্রের মুক্তি চান,দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চান,যারা সুশাসন, ন্যায়বিচার চান,যারা বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান,তাদের জন্য মুক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ দলিলের নাম বিএনপির ভিশন ২০৩০।

  • লেখক — মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সহসম্পাদক ,ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। এমফিল গবেষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাবি।