(বিএনপি কমিউনিকেশন) — বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮, রাজধানীর দলীয় কেন্দ্রিয়কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিং এ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গতকাল বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তাঁর পরিবারের লোকেরা দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন’রা ব্যথিত হয়েছেন। তাঁকে চিকিৎসাহীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। বাম হাত-পা, হাতের আঙ্গুল নড়াচড়া করতে কষ্ট হচ্ছে। ফিজিওথেরাপিও একরকম বন্ধই করে দেয়া হয়েছে। তাঁর জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফিজিওথেরাপিষ্ট ব্যবস্থা করা হয়নি। দেশনেত্রীকে গভীর স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে রাখাটাই যেন সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই জন্যই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা বঞ্চিত রাখা হচ্ছে।

প্রেসব্রিফিং এর পূর্ণপাঠ নিচে দেয়া হলো —

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।

গতকাল বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তাঁর পরিবারের লোকেরা দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন’রা ব্যথিত হয়েছেন। তাঁকে চিকিৎসাহীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। বাম হাত-পা, হাতের আঙ্গুল নড়াচড়া করতে কষ্ট হচ্ছে। ফিজিওথেরাপিও একরকম বন্ধই করে দেয়া হয়েছে। তাঁর জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফিজিওথেরাপিষ্ট ব্যবস্থা করা হয়নি। দেশনেত্রীকে গভীর স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে রাখাটাই যেন সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই জন্যই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। রাষ্ট্রযন্ত্র কব্জা করে ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। এটা আইনী লেবাসে প্রতিহিংসা পূরণের নমূনা। আমি আবারও বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দানুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে তড়িৎ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবিলম্বে নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবী জানাচ্ছি।

দেশনেত্রীর স্বজনরা সাক্ষাৎ শেষে আমাকে জানিয়েছেন-গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জনসভা সফল করার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকাবাসী, বৃহত্তর ঢাকা জেলাসহ সারাদেশের জনগণের মধ্যে যারা উপস্থিত হয়েছেন তাদেরকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি ঢাকা মহানগরী (উত্তর-দক্ষিণ), বৃহত্তর ঢাকা জেলা বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সারাদেশ থেকে আসা নেতাকর্মীদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করে গণমাধ্যমের যেসমস্ত সাংবাদিক জনসভা প্রচার ও প্রকাশ করেছেন তাদেরকেও বিএনপি চেয়ারপার্সন আন্তুরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি’র জনসভা চলাকালে ফরিদপুর জেলাধীন নগরকান্দার ফুলসুতি ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান মাতুব্বর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকে ম্রিয়মান পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সুহৃদ সাংবাদিকবৃন্দ,

এইচ টি ইমাম নামে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা আছেন, যিনি সরকারের গোপন পরিকল্পনা মাঝে মাঝে প্রকাশ করে দেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করলে তিনি কিভাবে বাছাই করা প্রশাসনের লোকদের দিয়ে প্রতি ভোট কেন্দ্রগুলি নিজেদের আয়ত্বে রাখবেন সেটিও পরবর্তিতে প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী সরকারের অনাচারমূলক কর্মকান্ডের নির্দেশদাতা এই এইচ টি ইমাম কিভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই বিসিএস-এ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাশ করানোর পরিকল্পনা করেছিলেন সেটিও একটি সভায় ফাঁস করেছেন।

এখন তিনি গায়েবী পরিসংখ্যান ব্যুরোর অধিকর্তা সেজেছেন মুজিব হত্যাকারিদের সহযোগী, এই সাবেক আমলাটি। তিনি বলেছেন-আওয়ামী লীগের ভোট নাকি ৪২ শতাংশ, আর বিএনপি’র নাকি ৩০ শতাংশ। এইসব উদ্ভট পরিসংখ্যান এইচ টি ইমামের নিজস্ব নাকি তথ্য ও যোগাযোগ উপদেষ্টার তা জাতির জানার আগ্রহ আছে। কারণ এহেন অলৌকিক পরিসংখ্যান এইচ টি ইমাম সাহেবের মাথা থেকে আসাটা যৌক্তিক এই কারণে যে, খন্দকার মোশতাকের সহযোগী হিসেবে কাজ করার জন্য বিব্রতকর অবস্থা কাটাতে এখন প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করতে মোসাহেবদের ম্যারাথন দৌড়ে এগিয়ে থাকতে চান। তবে প্রধানমন্ত্রীর মনে রাখা উচিৎ ‘Once a betrayer is always a betrayer’  যারা ‘হুজুরের কথায় অমতকার’ বলে মোসাহেবী করেন তারা বিপজ্জনক। তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় দলীয় নেতাকর্মীদেরকে আক্রমণাত্মক হতে হবে বলেছেন, যা শুধু নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী নয়, বরং আগামী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী নেতাকর্মীদেরকে সন্ত্রাসী হিংসাত্মক কর্মকান্ডে উস্কানি দেয়ার শামিল। আগামী জাতীয় নির্বাচনটি যে ভোটার ছাড়াই হবে এইচ টি ইমামের বক্তব্য সেটিরই পূর্বাভাস। এইচ টি ইমাম এখন আওয়ামী সরকারের ‘রাসপুটিন’ হিসেবে কাজ করছেন-সেজন্যই আওয়ামী লীগ এখন গণবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দল।

বন্ধুরা,

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন-পুলিশের কাছে নাকি তথ্য আছে বিএনপি আন্দোলনের নামে নাশকতার ছক আঁকছে। সেজন্যই হাতিরঝিল থানায় বিএনপি মহাসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের নামে মামলা হয়েছে। আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলতে চাই-আপনাদের মতো আপনাদের পুলিশ’রাও এখন গায়েবী তথ্য উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। আপনাদের পুলিশ এমনই যে, ঐ মামলায় বর্ণিত ভাংচুর হওয়া গাড়ীর নম্বর জানে না। এছাড়াও সম্প্রতি দায়ের করা অনেক মামলায় দুই বছর আগে মারা যাওয়া বিএনপি নেতার নামেও মামলা দেয়া হয়েছে, হজে¦ থাকাকালীন অবস্থায়ও মামলা দেয়া হয়, হাসপাতালে শায়িত ৮৩ বছর বয়স্ক বিএনপি নেতার নামে এবং বিদেশে থাকলেও মামলা দেয়া হয়। পুলিশ বলেছে-মগবাজারে ঘটনা ঘটেছে, অথচ সাংবাদিক’রা সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জেনেছে যে, ঐ এলাকায় গাড়ী ভাংচুর বা ককটেল বিস্ফোরণের কোন তথ্য প্রমান তারা পায়নি। এমনকি ঐ এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও গাড়ী ভাংচুর বা ককটেল বিস্ফোরণের কথা জানে না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে। এমন ‘খয়ের খাঁ’ পুলিশ এখন আওয়ামী লীগের জন্য একটা বড় আশীর্বাদ। শেখ হাসিনার ইচ্ছায় বিরোধী দল দমন করতে দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে গঠিত পুলিশের জুড়ি মেলা ভার। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র চায় না, আওয়ামী লীগ চায় আনুগত্যতন্ত্র। সেজন্য আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর একনিষ্ঠ অনুগত পুলিশ দেশজুড়ে গ্রেফতার আর মামলার জাল বিছিয়ে বিরোধী কন্ঠস্বর নীরব রাখতে চাচ্ছে। বর্তমানে দেশজুড়ে গোরস্তানের নীরবতা আর কবরের ভিতরের অন্ধকারের শান্তিতে ক্ষমতাসীনরা উৎফুল্লু, উল্লসিত। এজন্য বাংলাদেশে ওবায়দুল কাদের সাহেবদের ভোটারবিহীন গণতন্ত্রের শাসন দীর্ঘস্থায়ী করতে পুলিশ বিএনপিসহ বিরোধী দলকে খতম করতে লাগামছাড়া অভিযান চালাচ্ছে।

সংগ্রামী সাংবাদিকবৃন্দ,

গত ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রাতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ফেনী জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন দুলাল এর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে দা দিয়ে নৃশংভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্চা লড়ছেন। সন্ত্রাসীদের এই বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী করছি। গুরুতর আহত আমির হোসেন দুলাল এর আশু সুস্থতা কামনা করছি।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ জনসভা শেষে নরসিংদী জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আফসার উদ্দিন দেওয়ান, মো: শামীম, মো: সানি, মো: রাজিব, নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলী আহমদ, মো: সোহেল, আমির হোসেন, মো: রুবেল, মো: সোহেল-২, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো: আল আমিন, ফয়সাল, রুবেল, আরিফ, কাওছার, মো: বিল্লাল, মো: মিরাজ, মো: রাকীব, মো: সৌরভ, মো: রকি, আরমান, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কামাল আহমেদ, মো: সবুজ, গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো: শ্যামল এবং গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো: রাসেলসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম, মো: রনি, মো: শুভ, আলম, টিটু, সিরাজুল, সেন্টু, হারুনুর রশীদ হারুন, লিটন, গিয়াস উদ্দিন, রাসেল, কবির, জসিম, পারভেজ, জাহাঙ্গীর, সালাহউদ্দিন, মন্টু, দ্বীন ইসলাম, রিপনসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এছাড়াও

রাজশাহী জেলাঃ

গুজিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিমকে গতরাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলাঃ

জীবননগর থানা ছাত্রদলের সদস্য হাবিবুর রহমান শান্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

আমি নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবী করছি।

আল্লাহ হাফেজ।