(বিএনপি কমিউনিকেশন) —  ২১শে আগস্ট গ্রেনেড-হামলা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ কর্তৃক সোমবার, অক্টোবর ৮, ২০১৮, বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের হেডকোয়ার্টার্সে প্রেসকনফারেন্সে প্রদত্ত বক্তব্য

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

আপনারা জানেন,
আগামী ১০ অক্টোবর ২০১৮ ইং তারিখে বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা-মামলার রায়ের দিন ধার্য্য করা হয়েছে। যা বাংলাদেশের এ যাবতকালের সব চেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক মামলা হিসেবে ইতিমধ্যেই সর্বমহলে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে।

বিএনপি এমন একটি সময়ে এই প্রেস কনফারেন্স এর আয়োজন করেছে যখন বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা, ন্যায় বিচারের ধারণা এবং বিচারকদের উপর ক্ষমতাশীন দলের নগ্ন হস্তক্ষেপের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেশে-বিদেশে সাবেক প্রধান বিচারপতি বাবু সুরেন্দ্র কুমার সিনহা প্রকাশ করেছেন।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রকাশিত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে বিচার অঙ্গনে অন্দরমহলে কালো থাবার আগ্রাসি ব্যবহারে বিএনপি শংকিত এই কারনে যে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হত্যা মামলায় সরকার তার অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তনায়নের জন্য তারেক রহমানসহ উক্ত মামালার সহআসামীদের ফরমায়াসি রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করার সকল প্রকার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগন,

আপনারা জানেন, ষষ্ঠদশ সংশোধনী আপীল বিভাগের রায়ের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি বাবু সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে তার বাড়িতে অবৈধভাবে পাহারায় রেখে মিথ্যা অসুস্থতার গল্প সাজিয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেছিল এই সরকার এবং পরবর্তীতে তার আত্মীয়-স্বজনদেরকে হত্যার হুমকি দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল। এ প্রসঙ্গে আমরা উল্লেখ করতে চাই যে ইতিপূর্বে মানিলন্ডারিং মামলায় জনাব তারেক রহমানকে সাজা দেওয়ার জন্য বিচারক জনাব মোতাহার হোসেনকে সরকার লিখিত রায়ে সই করার জন্য বর্তমান আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোঃ জাইরুল হক এবং যুগ্ম-সচিব বিকাশ কুমার সাহা অস্র দিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। সরকারের অন্যায় হুকুম অমান্য করে বিচারক হিসাবে সঠিক রায় দেয়ার ফলে মোতাহার হোসেন বর্তমানে বিদেশে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

উপরের দুইটি উদাহারণ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আপনাদের মাধ্যমে গোটা দেশবাসীকে জানাতে চাই, এই সরকার বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য আদালতকে যেভাবে ব্যবহার করছে তার আরেকটি নগ্ন উদাহরণ হয়তো ১০ অক্টোবরেও হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার বিষয়ে বিএনপি ইতিপূর্বে তার রাজনৈতিক অবস্থান আপনাদের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরেছে। ঘটনার পরপর বিএনপি সরকার মামলা দায়ের করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পাদনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রক্রিয়ায় যখন নিয়োজিত ছিল তখন আওয়ামী লীগের  অসহযোগিতা এবং তাদের কিছু ষড়যন্ত্রের কারনে তা শেষ করে আসা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী ২০০৮ সালে অবৈধ সরকার যে চার্জশিট দাখিল করেছিল সেখানে বিএনপি এবং এর নেতা-কর্মীদের যুক্ত করা হয়নি। ২০০৮ সালে চার্জশিট দাখিল করার পূর্বে মুফতি হান্নান যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছিলো সেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে তারেক রহমান কিংবা ঐ সময়ের প্রশাসনের কোন কর্মকর্তার নাম ছিল না।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বক্তব্য বিবৃতির মাধ্যমে তারেক রহমান এবং বিএনপিকে এই মামলায় জড়ানোর জন্য তাদের নীল নকশার ইঙ্গিত দিতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মুফতি হান্নানকে দীর্ঘদিন রিমান্ডে রেখে নির্মম নির্যাতন করে ২য় বারের মত তথাকথিত স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয় যা বাংলাদেশের ইতিহাসের ২য় বার ১৬৪ ধারার জবানবন্দী নেওয়ার বিরল ঘটনা। এই ক্ষেত্রে আমরা বলতে চাই মুফতি হান্নান অবশ্য ১৬৪ ধারার ২য় জবানবন্দীতেও তারেক রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা বলে নাই। এছাড়াও আপনারা হয়তো জানেন মুফতি হান্নান তার ২য় জবানবন্দী প্রত্যাহার করার ফলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আনীত ষড়যন্ত্রের ভিত্তিমূল সমূলে বিনষ্ট হয়ে যায়। এতদসত্বেও তাদের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার জন্য আব্দুল কাহার আকন্দের মতো একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা যাকে বিএনপির সময় অবসরে পাঠানো হয়েছিল তাকে অবৈধ ভাবে চাকুরিতে ফিরিয়ে এনে তাকে দিয়ে মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিয়ে তাকে পদোন্নতি প্রদান পূর্বক নির্বাচনে মনোনয়নের আশ্বাস দিয়ে সরকারের কুৎসিত রুপের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগন,

অতি সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অবৈধ সরকারের সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের পর বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে পড়বে। ওবায়দুল কাদেরের এহেন বক্তব্যের পর যে কোন ব্যক্তি ধারণা করতে পারেন যে, মামলায় রায় কি হতে পারে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগন,
এ মামলায় তারেক রহমানসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা এবং তৎকালীন প্রশাসনের কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে যেভাবে জড়ানো হয়েছে তা যে কোন দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি এক নির্লজ্জ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর মতো। এ ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক বিচার প্রক্রিয়া একমাত্র নৈরাজ্যবাদী সরকারের পক্ষেই সম্ভব । আমরা মনে করি এ নৈরাজ্যবাদী সরকার তারেক রহমান এবং বিএনপিকে হেনস্তা করার জন্য ব্যস্ত। সার্বিক বিবেচনায় আমাদের মনে দৃঢ় সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে যে, এই নৈরাজ্যবাদী সরকার প্রধান বিচারপতি বাবু সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এবং বিচারক মোতাহর হোসেনের দৃষ্টান্তকে সামনে রেখে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারকের উপর অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে তাদের নীল নকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।