(বিএনপি কমিউনিকেশন) —  বুধবার, অক্টোবর ১০, ২০১৮, সকালে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপি হেডকোয়ার্টার্সে প্রেসকনফারেন্সে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আদালতকে ব্যবহার করে আবারও বিএনপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হিংসার প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রেসকনফারেন্সে প্রদত্ত বক্তব্যের হাইলাইটস  —

  • এক। ১/১১’র অবৈধ আমলে দেয়া সাক্ষ্যে শেখ হাসিনাসহ ৬২জন সাক্ষীর কেউই বিএনপি, তারেক রহমান বা সেই সময়কার প্রশাসনের কারও নাম উল্লেখ করেননি।
  • দুই। ২০০৯ সালে অবসরপ্রাপ্ত ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল কাহার আকন্দকে চাকুরীতে পূণরায় নিয়োগ দিয়ে বিএনপি, তারেক রহমান ও সেই সময়কার প্রশাসনকে জড়িত করার গভীর ষড়যন্ত্রের ভিত্তি রচনা করা হয়।
  • তিন।  এই নতুন তদন্ত কর্মকর্তাই মামলার অন্যতম আসামী মুফতি হান্নানকে দীর্ঘদিন রিমান্ডে নিয়ে, সীমাহীন ও অকথ্য অত্যাচার করে তারেক রহমানকে জড়িয়ে বানানো এক জবানবন্দীতে মুফতি হান্নান এর স্বাক্ষর নিয়ে তারেক রহমানকে আসামী হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করে।
  • চার। পরবর্তী পর্যায়ে মুফতি হান্নান আদালতে লিখিতভাবে তার সেই কথিত জবানবন্দী এই মর্মে প্রত্যাহার করেন যে তিনি তারেক রহমানকে চেনেন না, তাঁর সাথে কোন কথা হয়নি এবং অত্যাচার করে তাকে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছে।
  • পাঁচ। এই মামলায় কোন সাক্ষী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কিছু না বলায় এবং মুফতি হান্নান তার জবানবন্দী প্রত্যাহার করায় গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের আর কোন সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও আজ তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটনায়  বিএনপি সরকারে পদক্ষেপ—   

  • এক। হামলার নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তৎকালীন বিএনপি সরকার অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার জন্য মামলা দায়ের করে।
  • দুই। স্থানীয় সব তদন্ত সংস্থাকে অপরাধীদের ধরে বিচারের মুখোমুখী করার ব্যবস্থা নেয়া হয়।
  • তিন। FBI (ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন)  ও Interpol (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশ) কে সম্পৃক্ত করে।

প্রদত্ত বক্তব্যের পূর্ণপাঠ নিচে দেয়া হলো  —

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।

আজ কিছুক্ষণ আগে বহুল আলোচিত ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা  করা হয়েছে। রায়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশে চিকিৎসাধীন জননেতা জনাব তারেক রহমানসহ ১৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক উপমন্ত্রী জনাব আব্দুস সালাম পিন্টু ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। বিএনপি মনে করে এই রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার নগ্ন প্রকাশ। আমরা এই ফরমায়েসী প্রত্যাখান করছি। জাতির দূর্ভাগ্য এই যে, সরকার তার এই প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করে আরেকটি মন্দ দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো-যেমনটি করেছে মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দিয়ে।

দেশবাসী জানেন যে, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তৎকালীন বিএনপি সরকারই সেসময় প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার জন্য মামলা দায়ের করেছে। স্থানীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর পাশাপাশি এফবিআই এবং ইন্টারপোলকে তদন্তে সম্পৃক্ত করেছে। বিএনপি সরকারই এই ঘটনার সুষ্ঠূ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা করেছে।

এসব তদন্ত এবং আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল ১/১১ এর সরকারের আমলের তদন্ত প্রতিবেদনে কোথাও জনাব তারেক রহমান কিংবা বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। এমনকি ঐ সময় ১৬১ ধারা অনুযায়ী তখন তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে দেয়া জবানবন্দীতে কারারুদ্ধ শেখ হাসিনাও তারেক রহমান কিংবা বিএনপি’র বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেননি। ৬২ জন সাক্ষীর কেউই জনাব তারেক রহমান কিংবা বিএনপি’র নামও উচ্চারণ করেননি। ২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি-কে হেয়, ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত করার লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্ত ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দকে চাকুরীতে পূণরায় নিয়োগ দিয়ে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করার মাধ্যমে এটিকে একটি রাজনৈতিক মামলায় রুপান্তরিত করে।

উল্লেখ্যযোগ্য যে, বিএনপি সরকারের আমলে অবসরে পাঠানো পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দ ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে প্রকাশ্যে সভা, সমাবেশ, মিছিল করেছেন, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করেছেন। এসবই তৎকালীন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের একজন নেতা জেনেই ২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকার তাকে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিল।

এই নতুন তদন্ত কর্মকর্তাই মামলার অন্যতম আসামী মুফতি হান্নানকে দীর্ঘদিন রিমান্ডে নিয়ে, সীমাহীন ও অকথ্য অত্যাচার করে জনাব তারেক রহমানকে জড়িয়ে বানানো এক জবানবন্দীতে মুফতি হান্নান এর স্বাক্ষর নিয়ে জনাব তারেক রহমানকে আসামী হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করে। পরবর্তী পর্যায়ে মুফতি হান্নান আদালতে লিখিতভাবে তার সেই কথিত জবানবন্দী এই মর্মে প্রত্যাহার করেন যে, তিনি তারেক রহমানকে চেনেন না, তাঁর সাথে কোন কথা হয়নি এবং অত্যাচার করে তাকে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছে। এই মামলায় অন্য কোন সাক্ষী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কিছু না বলায় এবং মুফতি হান্নান তার জবানবন্দী প্রত্যাহার করায় গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের আর কোন সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও আজ তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার মাধ্যমে পূণরায় প্রমানিত হলো যে, এদেশে কোন নাগরিকেরই আর সুবিচার পাওয়ার সুযোগ নেই। সরকারের বিরুদ্ধে রায় দেয়ায় পদত্যাগ ও দেশত্যাগে বাধ্য হওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ কুমার সিনহা’র কথাই সঠিক প্রমানিত হলো যে, যেদেশে প্রধান বিচারপতি সুবিচার পায় না সেদেশে কোন নাগরিকেরই সুবিচার পাওয়ার সুযোগ নেই।

আমরা দেশবাসীকে সরকারের এহেন প্রতিহিংসামূলক আচরণ এবং আদালতের মাধ্যমে তা কার্যকর করার নোংরা কৌশল সম্পর্কে সজাগ হয়ে অনির্বাচিত এই সরকারকে হটিয়ে জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

আল্লাহ হাফেজ।