(বিএনপি কমিউনিকেশন) — শনিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৮, রাজধানীর পল্টন দলীয় কেন্দ্রীয়কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রেসব্রিফিং এ বলেছেন, সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের নামে ‘গায়েবি মামলা’ দায়ের করার পর পুলিশ এবার গণগ্রেপ্তার শুরু করেছে।
প্রেসব্রিফিং এর বক্তব্যের পূর্ণপাঠ নিচে দেয়া হল —

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।

বরাবরই সন্ত্রাসের উর্বর জমি হচ্ছে আওয়ামী লীগ। তাদের বক্তৃতা, আচরণ, দেশ শাসন সর্বত্রই রক্তাক্ত সন্ত্রাসের চিহ্ন দৃশ্যমান। আওয়ামী সন্ত্রাসের ধারা জেনেটিক্যাল। তারা শুধু গুম, খুন আর ক্রসফায়ারের ব্যাপক বিস্তার ঘটাতে আইন আদালতকে গড়ে তুলেছে রাষ্ট্রীয় টেররিজমের হাতিয়ার হিসেবে।
২১শে আগষ্ট বোমা হামলা মামলায় বিরোধী দলের প্রতি সরকারের আচরণ নিয়ে উচিৎ-অনুচিতের নানা বিষয় রায়ের পর্যবেক্ষণে তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে কিন্তু বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যার হুমকি দেয়া উচিৎ কিনা সেটা উল্লেখ করা হয়নি। ‘তোমরা চুড়ি পরে থাকো, আমাদের ১টা মারলে ওদের ১০ জনকে মারতে হবে’-বিরোধী দলের প্রতি এই বিপজ্জনক হুমকি কি একজন প্রধানমন্ত্রী দিতে পারেন ? ওবায়দুল কাদের সাহেবকেও বলতে চায়-বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য কি ‘বিশ^ শান্তি সম্মেলনের বাণী’ ? সরকারের হুকুমে প্রতিদিনই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিনা বিচারে মানুষ হত্যার হিড়িক চলছে-এই হিড়িক কি উন্নয়নের নমূণা নাকি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ? এগুলো রায়ের পর্যবেক্ষণে না থাকলেও এর দায় তো বর্তমান সরকারের কাউকে নিতেই হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দর্পী মানসিকতা কেন রায়ের পর্যবেক্ষণে আসেনি ?

সাগর-রুনীসহ ৩৩ জন সাংবাদিককে হত্যার দায় কার ? এটা কেন রায়ের পর্যবেক্ষণে আসেনি ? বোমা হামলা শুরুই হয়েছে আওয়ামী লীগের আমলে। যশোরে উদীচি’র অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, রমনা বটমূলে বোমা হামলা, কমিউনিষ্ট পার্টির জনসভায় পল্টনে বোমা হামলাসহ অসংখ্য বোমা হামলা হয়েছে আওয়ামী লীগের শাসনামলে। তাহলে এগুলোর রায়ের পর্যবেক্ষণে এলো না কেন ? এগুলোর জন্য আওয়ামী লীগ কেন দায়ী নয় ? তনু, মিতু, রিশা-দিশাসহ অসংখ্য নারী পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে। শুধু টাঙ্গাইল জেলাতেই কলেজ ছাত্রী রুপাসহ চলন্ত বাসে তিন জন নারীকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এগুলি দু:শাসনেরই ফলশ্রুতি। নারী নির্যাতনের এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি কেন রায়ের পর্যবেক্ষণে আসেনি। রায়ের পর্যবেক্ষণে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের কথা নাই কেন ? বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রুপালী ও পুবালী ব্যাংক, ফার্মার্স ব্যাংক, বেসিক ব্যাংকসহ শেয়ার মার্কেট হরিলুটের কথা রায়ের পর্যবেক্ষণে নেই কেন ? এগুলো নিয়ে জনগণের মনে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধছে।

লক্ষীপুরের বিএনপি নেতা এ্যাডভোকেট নজরুল ইসলামের হত্যাকারী সেখানকার আওয়ামী পৌর মেয়রের ছেলে বিপ্লব, নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের মামলার প্রধান আসামী আওয়ামী মন্ত্রীর জামাই, উপজেলা চেয়ারম্যান নুর হোসেন বাবু’র হত্যাকারিরা ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মী। প্রকাশ্য দিবালোকে কিশোর শ্রমিক বিশ্বজিতের হত্যাকারিরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সশস্ত্র ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। ঔদ্ধ্যতের চরম সীমা অতিক্রম করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এমপি পুত্র রনি রাস্তায় জ্যাম থাকার কারণে সামনের সিএনজি-কে গুলি করে দু’জনকে হত্যা করেছে। আবার কয়েকদিন পরপর টেন্ডার দখল ও ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগরাও নিজেরা নিজেদের লোকদের হত্যা করছে, রক্তাক্ত করছে জনপদ। বিশ^বিদ্যালয়গুলো ছাত্রলীগের হাতে রক্তে রঞ্জিত। কেবলমাত্র আধিপত্য বিস্তার নিয়েই ক্যাম্পাসগুলোতে নিজেরা একে অপরকে হত্যা করেছে। গণমাধ্যমে তথ্যানুযায়ী ছাত্রলীগের হাতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির ভাগাভাগি নিয়ে খুন হয়েছে ২৭ জন।

ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-আপনাদের লোকদের কর্তৃক এত খুন-জখমের পরেও কি আওয়ামী লীগের রেজিষ্ট্রেশন থাকা উচিৎ ? আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বৈরাচারের টিকে থাকার মূল ভিত্তিই হচ্ছে সহিংস সন্ত্রাস।

মূলত: শেখ হাসিনা বিএনপি দলটিকেই নিশ্চিহ্ন করার খেলায় মেতে উঠেছেন। তা না হলে তাঁর গদি রক্ষা বিপজ্জনক হতে পারে বলে তিনি আশংকা করছেন। শেখ হাসিনার মনে ন্যুনতম সাহস নেই, আছে শুধু ভয়। ক্ষমতা হারানোর ভয়। বিলকুল সব হারিয়ে যাওয়ার ভয়।

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা মহানগর (পূর্ব)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নকে গত পরশু হাইকোর্টের গেট থেকে বিকেল চারটায় গোয়েন্দা পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়ে এখনও তার কোন সন্ধান দিচ্ছে না। ৪২ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নীরব থাকছে। তাদের এই নীরবতা নয়নের পরিবার ও দলের জন্য ভয় ও উদ্বেগজনক। অজানা আশংকায় পরিবার ও দলের নেতাকর্মীরা প্রহর গুণছে। প্রকাশ্য দিবালোকে সাদা পোশাকধারিরা পোশাকধারী পুলিশের কাছ থেকেই তুলে নিয়ে গেছে। সুতরাং নয়ন গোয়েন্দা পুলিশের কাছেই আছে। আমি অবিলম্বে নয়নকে সর্বসম্মুখে হাজির করে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে দিতে আহবান জানাচ্ছি।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে অনেকবার চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে অবশেষে বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি করানো হলেও মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকরা রোগিকে চিকিৎসা দেবে না, এই দৃষ্টান্ত কেবল আওয়ামী শাসনামলেই দেখা যায়। প্রোষ্টেট গ্ল্যান্ড এনলার্জ, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও শিমুল বিশ^াসকে চিকিৎসা বঞ্চিত রাখা অমানবিক ও চরম নিষ্ঠুরতা। আমি আবারও অবিলম্বে শিমুল বিশ^াসকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।

বন্ধুরা,
দেশব্যাপী গায়েবী মামলার পর এখন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে পাইকারী হারে গ্রেফতার শুরু করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। মামলা দায়েরের তামাশা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ৯ বছর, ২ বছর ও ১ বছর পূর্বে মৃত ব্যক্তিদের নামেও মামলা দেয়ার কথা আপনাদেরকে অবহিত করেছি। এই মামলা থেকে রেহাই পাননি দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতালের বেডে পড়ে থাকা পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীও। তামাশার আরও নজীর দেখতে পাই-টঙ্গীতে ছাত্রলীগ সভাপতির নাম মামলায় চলে আসায় এজাহার পাল্টিয়ে তাকে বাদ দিয়ে নতুন এজাহার দেয়া হয়েছে। আমরা গণমাধ্যম থেকে জানতে পারলাম যে, দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে ধরার জন্য সাঁড়াশি অভিযান চালাতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে ওসিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সুতরাং আইন ও বিচার যে সরকারের সম্পূর্ণ করায়ত্বে সেটার দৃষ্টান্ত বারবার দেয়ার দরকার নেই। তাই ২১শে আগষ্ট বোমা হামলার রায় আওয়ামী প্রধানের নির্দেশিত রায় সেটিও খুব সহজেই জনগণ উপলব্ধি করছে। এই রায়ের পক্ষে জনগণের কোন সাড়া না পেয়ে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা উ™£ান্তের মতো কথা বলছেন।

ঢাকা জেলা – বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জনাব আমান উল্লাহ আমানের নির্বাচনী এলাকা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় এক সপ্তাহে ৬টি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীকে প্রধান আসামী করে ৭৪ জন নেতাকর্মীর নামে গত পরশু সন্ধ্যায় মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জে ৬৭৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা হয় এবং ৫০০ থেকে ৬০০ জন নেতাকর্মীকে অজ্ঞাতনামা হিসাবে মামলায় জড়ানো হয়। প্রায় প্রতিদিন নেতাকর্মীদের বাড়ীতে বাড়ীতে পুলিশের তল্লাসী চলছে।

বগুড়া জেলা —
জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ফিরোজ হোসেন, যুবদল নেতা মনিরুল, ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ কবিরুল ইসলাম ও বিএনপি নেতা অধ্যাপক রুবেল হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা—
জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর মাহমুদ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী রানা, শাহ শিব্বির আহমেদ বুলু, রতন আকন্দ এবং প্রচার সম্পাদক কায়কোবাদ মামুনসহ ৩২ জন নেতাকর্মী, ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদল সভাপতি নাঈমুল করিম লুইন, সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিনসহ ১২ জন ছাত্রনেতা, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলাধীন ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ জয়নাল আবেদিন এবং ত্রিশাল পৌর বিএনপি’র সভাপতি আমিন সরকারসহ সর্বমোট ৯৯ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা —
সৌদি আরব পূর্বাঞ্চল বিএনপি’র সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম রফিকুল ইসলামকে গতকাল তার নান্দাইলের নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া নান্দাইল উপজেলাধীন ৬নং রাজগাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো: রোকন উদ্দিন এবং উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল কাদির এনামসহ আজ ৪৬ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা —
লাকসাম উপজেলা বিএনপি নেতা মো: তাজুল ইসলাম, নাজমুল রশীদ রয়েল, মো: আমান, মো: বেলাল, মো: আলী আকবর, যুবদল নেতা শাহ পরাণ, মো: মাসুদ, মো: মঞ্জুর হোসেন, মো: ইদ্রিস, মো: শাহজাহান, মো: সাইমুন, আবু সুফিয়ান হীরা, মো: মানিক, মো: জামাল, মো: আবু তাহের, উপজেলা শ্রমিক দল সভাপতি মো: সেলিম চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দিনাজপুর জেলা —  জেলা বিএনপি’র সদস্য মোঃ সাবান এবং ধর্মপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
সৈয়দপুর জেলা — পৌর ৫ ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোঃ ইউনুছ আলী বাবলু, জেলা যুবদল নেতা শাকিল আহমেদ ও খাটা মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ স¤পাদক রঞ্জুকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

পটুয়াখালী জেলা — ২১শে আগষ্ট বোমা হামলা মামলায় ফরমায়েসী রায়ের প্রতিবাদের অংশ হিসাবে বিক্ষোভ মিছিল শেষে দুমকি উপজেলা বিএনপি নেতা শহিদুল, শ্রমিক দলের সাংগঠনিক স¤পাদক মোঃ জাকির মোল্লা এবং সহ-সভাপতি খলিল আকন্দ, ছাত্রদল কর্মী ফিরোজ শিকদার, লেবুখালী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা লতিফ হাওলাদার ও যুবদল নেতা মোঃ সবুজ হাওলাদারকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

নাটোর জেলা— গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের নেতা মিন্টুকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

কক্সবাজার জেলা — জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুর রহমান নয়নকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

নোয়াখালী জেলা — সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ রায়হান ও পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম স¤পাদক রনি সরোয়ারকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
বরিশাল মহানগর — মহানগর ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল অভি, মোঃ রাহাত ও মোঃ পলাশকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
পটুয়াখালী জেলা —
দুমকি উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান, সাধারণ স¤ক্সাদক সাইফুল আলম মৃধা ও সাংগঠনিক স¤ক্সাদক জাহিদুল হক হাওলাদারসহ অজ্ঞাত নামা ৪৫ জনকে আসামী করে ১টি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। গায়েবীভাবে পুলিশ ১১টি বোমা ও ৩টি পেট্রোল বোমা নিজেরা সংগ্রহ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মিথ্যাভাবে হেফাজত দেখিয়ে অত্র মামলা করেছে। এছাড়া ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ফেনী জেলা —
ছাত্রদলের শান্তিপূর্ণ মিছিল থেকে পুলিশ হামলা চালিয়ে ছাত্রদল নেতা শাহজাহান ও রুবেলসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে।
নাটোর জেলা —
জেলা ছাত্রদল নেতা জুবায়ের ও আফ্রিদিসহ ৫জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ছাগলনাইয়া উপজেলা যুবদল নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মো: ফারুককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল সারা বাংলাদেশ থেকে মোট ১১ টি গায়েবী মামলার এজাহার পাওয়া গিয়েছে । এরমধ্যে এজাহারে ১১৭৩ জনকে এবং অজ্ঞাত ২৬৪৮ জনকে আসামী করা হয়েছে।

০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে ১২ অক্টোবর ২০১৮ পর্যন্ত মোট ৪১৮২ টি মামলা এবং এজাহারে জ্ঞাত ৮৮,৭৭১ এবং অজ্ঞাত ২,৭৭,৮০৭ জনকে আসামী করা হয়েছে। জ্ঞাত ও অজ্ঞাত মিলে সর্বমোট ৩,৬৬,৫৭৮ জনকে আসামী করা হয়েছে। এপর্যন্ত গায়েবী মামলায় বিএনপির ৪৯৭৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আমি দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।
ধন্যবাদ সবাইকে।