(বিএনপি কমিউনিকেশন) —  শারদীয় দূর্গাপুজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৮ বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণমাধ্যমে পাঠানো বাণীতে বলেছেন, দূর্গাপুজার অন্তর্নিহিত বাণীই হচ্ছে- হিংসা, লোভ ও ক্রোধরুপী অসুরকে বিনাশ করে সমাজে স্বর্গীয় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যেখানে ন্যায় ও সুবিচার নিশ্চিত হবে। নির্যাতন, নিপীড়ন ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মধ্য দিয়ে যারা সমাজকে, মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করতে চায়, প্রতিষ্ঠিত করতে চায় দু:শাসন তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মানবকল্যান প্রতিষ্ঠা এই উপাসনার মূল লক্ষ্য। সেই বাণীকে আত্মস্থ করেই দূর্গাপুজার উৎসবের  আনন্দকে সকলে মিলে ভাগ করে নিতে হবে। উৎসব বৃত্তাবদ্ধ নয়, সার্বজনীন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বাণীর পূর্ণপাঠ নিচে দেয়া হল  —  

শারদীয় দূর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে আমি হিন্দু ধর্মাবলম্বী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তাদের সুখ শান্তি ও কল্যান কামনা করি।

যুগ যুগ ধরে শারদীয় দূর্গাপূজা বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। সুদীর্ঘকাল ধরে এই ধর্মীয় উৎসবটি সাড়ম্বরে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও দূর্গাপূজা সবসময় উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়।

যে কোন ধর্মীয় উৎসবই মানুষে মানুষে নিবিড় বন্ধন রচনা করে, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগরিত হয়। সকল ধর্মের মর্মবাণী শান্তি ও মানব কল্যাণ। মানুষ হিসেবে হিংসা-বিদ্বেষ ও রক্তারক্তি পরিহার করে সমাজে শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হওয়া আমাদের সকলের কর্তব্য। দূর্গাপুজার অন্তর্নিহিত বাণীই হচ্ছে- হিংসা, লোভ ও ক্রোধরূপী অসুরকে বিনাশ করে সমাজে স্বর্গীয় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যেখানে ন্যায় ও সুবিচার নিশ্চিত হবে। নির্যাতন, নিপীড়ণ ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মধ্য দিয়ে যারা সমাজকে, মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করতে চায়, প্রতিষ্ঠিত করতে চায় দু:শাসন তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মানবকল্যান প্রতিষ্ঠা এই উপাসনার মূল লক্ষ্য। সেই বাণীকে আত্মস্থ করেই দূর্গাপুজার উৎসবের  আনন্দকে সকলে মিলে ভাগ করে নিতে হবে। উৎসব বৃত্তাবদ্ধ নয়, সার্বজনীন।

এই সরকারের আমলে সাম্প্রদায়িক উস্কানি, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দেবালয়ে আক্রমণ ও ভাংচুর অত্যুগ্র মাত্রায় সংঘটিত হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ঘটনা মহল বিশেষের মদদ ছাড়া অসম্ভব। আমি এই সমস্ত অশুভ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। যে কোন ধরণের অশুভ তৎপরতা সম্পর্কে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এ দেশের প্রতিটি মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুতত্ত্বে অবিশ্বাসী। আমরা সবাই বাংলাদেশী-এটাই হোক আমাদের বড় পরিচয়।

আমি এবারের শারদীয় দূর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।