দেশবিরোধী নানা অসম চুক্তির মহড়া চলছে

(বিএনপি কমিউনিকেশন) —  আজও বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার এক গভীর চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার অপতৎপরতায় লিপ্ত দেশি-বিদেশি চিহ্নিত মহল। এখন দেশবিরোধী নানা অসম চুক্তির মহড়া চলছে। এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত প্রতিহত করে মাতৃভূমির স্বাধীনতা সুরক্ষা এবং গণতন্ত্রের পতাকাকে সমুন্নত রাখতে আমাদের সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আজ দেশবাসীর প্রতি আমি এ আহবান জানাই।

৪৭তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শনিবার এক বাণীতে এসব কথা বলেন।

শনিবার, মার্চ ২৫, পাঠানো বাণীতে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র পাঠানো বাণীটি নিচে দেয়া হলো –

“মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে এক গৌরবোজ্জল সোনালী দিন। এ দিনে বিশ্ব মানচিত্রে দেশমাতৃকার স্বাধীন স্বত্বা ফুটে উঠেছিল। আজকের এই দিনে আমি দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশীসহ সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

এ মহান দিনে আমি শ্রদ্ধা জানাই স্বাধীনতা-যুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি। যাদের আত্মত্যাগে আমরা অর্জন করেছি স্বজাতির মুক্তি। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ সকল জাতীয় নেতার স্মৃতির প্রতি আমি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। স্মরণ করি সেইসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা, যাদের নয়মাস জীবন মরণ লড়াইয়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সে সব মা-বোনদের কথা, যারা মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

২৬ মার্চ আমাদের এমন এক মহিমান্বিত দিন, আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ অর্জন  স্বাধীনতা যা সংগ্রাম আর যুদ্ধের রক্তস্নাত পথে বিশ্ব মানচিত্র উদ্ভাসিত হয় দেশমাতৃকার মুক্তি। এ দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। সেদিন জাতীয় নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে তাঁর ঘোষণায় দিশেহারা জাতি পেয়েছিল মুক্তিযদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অভয়মন্ত্র। ফলে দীর্ঘ নয়মাস ইতিহাসের এক ভয়ংকর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হই।

একটি শোষণ, বঞ্চনাহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এদেশের মানুষ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছে। নানা কারণে আমরা সে লক্ষ্যে অর্জনে সক্ষম হইনি। বার বার ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী শক্তি আমদের সে লক্ষ্য পূরণ করতে দেয়নি। দেশি-বিদেশী চক্রান্তের ফলে আমদের গণতান্ত্রিক পথচলা বার বার হোঁচট খেয়েছে। বিঘ্নিত হয়েছে আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের প্রচেষ্টা। দুর্বল করা হয়েছে আমাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বকে।

আজও বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার এক গভীর চক্রান্ত চলছে। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার অপতৎপরতায় লিপ্ত দেশি-বিদেশী চিহ্নিত মহল। এখন দেশবিরোধী নানা অসম চুক্তির মহড়া চলছে। এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সকল ষড়যন্ত্র চক্রান্ত প্রতিহত করে মাতৃভূমির স্বাধীনতা সুরক্ষা এবং গণতন্ত্রের পতাকাকে সমুন্নত রাখতে আমাদের সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আজ দেশবাসীর প্রতি আমি এ আহবান জানাই।

আমি দেশবাসী সকলের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে প্রার্থনা জানাই। আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক শক্তির গড়ে তুলতে হবে ইস্পাত কঠিন ঐক্য

 

(বিএনপি কমিউনিকেশন) — বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য আজও দেশি-বিদেশী চক্রান্তকারীরা নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের যে যাত্রা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন তাও আজকে বিনষ্ট করে গণতন্ত্রের নামে কর্তৃত্ববাদী অপশাসন চালু করা হয়েছে। নতুন করে ফ্যাসিবাদের বিস্তার লাভ করেছে। তাই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক শক্তির এ মুহুর্তে গড়ে তুলতে হবে ইস্পাত কঠিন ঐক্য।

৪৭তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রদত্ত বাণীতে তিনি এই কথা বলেন,

শনিবার, ২৫ মার্চ পাঠানো বাণীটি নিচে দেয়া হলো –

“মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আমি দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশীসহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। কামনা করি তাদের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। আজকের এই মহান দিবসে আমি সশ্রদ্ধচিত্ত্বে স্মরণ করি স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে-যাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে এদিনে গোটা জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই সকল জাতীয় নেতার প্রতি, যাঁরা দেশ ও জাতির জন্য অসামান্য অবদান রেখেছেন।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য আজও দেশি-বিদেশী চক্রান্তকারীরা নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের যে যাত্রা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন তাও আজকে বিনষ্ট করে গণতন্ত্রের নামে কর্তৃত্ববাদী অপশাসন চালু করা হয়েছে। নতুন করে ফ্যাসিবাদের বিস্তার লাভ করেছে।

তাই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক শক্তির এ মুহুর্তে গড়ে তুলতে হবে ইস্পাত কঠিন ঐক্য।

তাই সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। আল্লাহ্ হাফেজ, বাংলাদশ জিন্দাবাদ।”

ওবায়দুর রহমান ছিলেন গণমুখী জাতীয় নেতা – মির্জা আলমগীর

(বিএনপি কমিউনিকেশন) — বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি’র সাবেক মহাসচিব, বরেণ্য রাজনীতিবিদ কে এম ওবায়দুর রহমান ছিলেন গণমুখী জাতীয় নেতা।

স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কে এম ওবায়দুর রহমানের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে এ কথা বলেন।

বাণীটি নিচে তুলে ধরা হলো –

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

“বিএনপি’র সাবেক মহাসচিব, স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ৬০ এর দশকের সাবেক ছাত্রনেতা এবং দেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা। বাংলাদেশে মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান একজন গণমুখী জাতীয় নেতা হিসেবে সবার নিকট সমাদৃত ছিলেন। যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে পরবর্তীতে জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে স্বাধিকার, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তথা সকল আন্দোলন সংগ্রামে সোচ্চার থেকে তিনি আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান মনেপ্রাণে গণতন্ত্রী ছিলেন এবং গণতন্ত্রে বহুমত সহিষ্ণুতার ঐতিহ্যকে মান্য করতেন। তিনি ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ অনুসারী। স্বাধীনতা যুদ্ধে অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন করে তিনি আমাদের জাতীয় ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর অনুসৃত পথ বর্তমান প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শণ ও আদর্শকে বুকে লালন করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারের কবল থেকে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে কে এম ওবায়দুর রহমানের এর অবদান দল ও দেশবাসী চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

আমি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।”