বিএনপি’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নামে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করছে সরকারি এজেন্টরা

(বিএনপি কমিউনিকেশন) — বুধবার, জুলাই ২৬, রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নামে বানোয়াট ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করছে সরকারি এজেন্টরা ।

প্রেসব্রিফিং এ প্রদত্ত বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো –

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আসসালামু আলাইকুম। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সত্ত্বেও কষ্ট স্বীকার করে প্রেসব্রিফিংয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য সবাইকে জানাচ্ছি আমার শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।

বন্ধুরা,

আপনাদেরকে আগেও একবার এক সংবাদ বিবরণীতে বলেছি – সরকারের এজেন্সিগুলো বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের উদ্ধৃত করে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এবার বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অবিশ্বাস্য কল্পকাহিনী প্রচার করা হচ্ছে। মূলত: বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাবার পর সরকারের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। সরকারের জনপ্রিয়তা শুণ্যে চলে আসায় এখন দেশবাসী ও বিএনপি’র সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির জন্য সরকারী এজেন্সিগুলোকে মাঠে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা এর আগেও বলেছি-বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নামে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বিবৃতি একটি ওয়েবসাইটে প্রচার করা হয়েছে। দু’দিন আগেও বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে ভাইস চেয়ারম্যান এম মুর্শেদ খানের নাম ব্যবহারের মাধ্যমে বানোয়াট, অসত্য, মনগড়া বক্তব্য একটি ওয়েবসাইটে প্রচার করা হয়েছে। যে বক্তব্যের সাথে জনাব মুর্শেদ খানের কোন সম্পর্কই নেই। তারা বিএনপি নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। ১/১১এর সরকারওতো কত অপচেষ্টা করেছিল কিন্তু কোন লাভ হয়নি। আপনারাও পারবেন না। অপপ্রচার ও কুৎসা রটনাকারীদের মানুষ ঘৃনা করে, এরা ইতিহাসের ঘৃন্য চরিত্র। এরা অসভ্যতা এবং নোংরা সংস্কৃতির ধারক।

বুধবার, জুলাই ২৬, রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং এ বক্তব্য রাখছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ।

বন্ধুরা,

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা কতই না প্রলাপ বকছেন। তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেছেন অথচ প্রথমে আওয়ামী লীগের নেতারা বললেন-বেগম খালেদা জিয়া মামলার ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, এখন তারা বলছেন-বেগম খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্র করতেই লন্ডন গেছেন। এরপর হয়তো তারা আবার আরেক নতুন তত্ত্ব দিবেন। ক্ষমতাসীন জোটের মন্ত্রী ও নেতারা মুনাফা, নগদ লাভ ইত্যাদির জন্যই প্রধানমন্ত্রীকে খুশী করতেই লন্ডনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতেই ষড়যন্ত্রতত্ত্বে মেতেছেন। দেশে তাদের সৃষ্ট দারিদ্র, অবিচার, নিষ্ঠুর নিপীড়ণ আর গুম, খুন ও লাশ ফেলার রাজনীতি ঢেকে ফেলার জন্যই এরা লন্ডনে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। মামলার ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন এই আওয়াজ তুলে আওয়ামী নেতৃবৃন্দ নিজেরাই এক্সপোজ হয়ে গেছেন। বিপদের মূহুর্তে পলাতক কারা। কারা বারবার জনগণের সাথে বেঈমানী করেছে, সেটি জনগণ খুব ভাল করে জানে। গায়ের জোরে ইতিহাস লেখানো হলেও মানুষের অন্তরে সত্য ইতিহাস উদ্ভাসিত। আর আওয়ামী লীগের একটি স্বকীয় পরিমার্গ হচ্ছে-চক্রান্ত। আওয়ামী লীগের কর্মকান্ডের মাধ্যমেই এদেশের মানুষ চক্রান্ত শব্দটির সাথে পরিচিত হয়েছে। এরাই প্রথম বহুদলীয় গণতন্ত্রকে নির্মমভাবে দড়িতে লটকিয়ে ১ নম্বর বাকশাল কায়েম করে বাক-ব্যক্তি ও সংবাদত্রের স্বাধীনতাসহ নাগরিক স্বাধীনতাকে সমাধিস্থ করে। এরা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাবার অঙ্গীকার করে এরশাদের সাথে মিলে চক্রান্তের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষনা দিয়ে জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য রক্তক্ষয়ী তান্ডব চালিয়ে আবারো চক্রান্তের মাধ্যমে সেটিকে বাতিল করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। সংবিধান ও গণতন্ত্রকে পাথরচাপা দিতে যারা ভূমিকা রেখেছিল সেই মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন এর সরকারকে তাদের আন্দোলনের ফসল হিসেবে উল্লেখ করে তাদের সাথে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে ২ নম্বর বাকশাল কায়েম করে। ’৭১ এবং এর পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে পলায়ন ও আত্মসমর্পণের ইতিহাস শুধুই আওয়ামী লীগের। বর্তমান শাসকদল নির্দয়কর্তৃত্ত্ববাদী, কুৎসারটনাকারী, মিথ্যুক। আমি আওয়ামী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-বিএনপি নয়, ষড়যন্ত্র করছেন আপনারা। তার উপর আপনাদের সাথে আছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাহেব। সুতরাং ষড়যন্ত্রের ব্যাপকতা কত ভয়াবহ হতে পারে তা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে।

কিভাবে দু:শাসনকে আরো দীর্ঘায়িত করা যায়, কিভাবে আরেকটি একদলীয় পাতানো নির্বাচন করে আবারো ক্ষমতায় আসা যায় সেই ষড়যন্ত্রেই লিপ্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ। আর সেই কারনে সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিগুলোকে মাঠে নামিয়ে মিথ্যা কল্পকাহিনী রচনা করে বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের নামে বদনাম ও কুৎসা রটানোর অপচেষ্টা করছে। এসব ষড়যন্ত্রমূলক রটনার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ৫ জানুয়ারীর মতো একতরফা নির্বাচন করা। তাতে কোন লাভ হবে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী সাধারণ নির্বাচন হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ইস্পাতকঠিন মনোবলে ঐক্যবদ্ধ। কাজেই চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র-নীল নকশা করে আর পার পাওয়া যাবেনা। চারিদিকে আপনাদের বিদায়ের সুর ধ্বণিত হচ্ছে। পরিবর্তনের বাতাস বইছে সর্বত্র। এটি ঠেকানো যাবে না। জুলূম-নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কোন স্বৈরাচার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি, ইতিহাসে তাদের যে পরিণতি লিপিবদ্ধ আছে, সেটা পাঠ করুন নইলে আপনাদেরকেও তাদের মতোই ভাগ্য বরণ করতে হবে। অচিরেই আপনাদের মাত্রাহীন দম্ভোক্তি জনগণের ক্ষোভের চিতায় আত্মাহুতি হবে।

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

দেশজুড়ে যে ভয়াল দু:শাসন চলছে সেটির ভয়াবহতার মাত্রা বর্তমানে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। গুম, খুন, অপহরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা, গ্রেফতার, নির্যাতনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপরও সরকারের নির্যাতনের খড়গ চলছে বিরামহীনভাবে। মানুষ ন্যায্য দাবী-দাওয়া আদায়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নামলেই চালানো হচ্ছে গুলি আর টিয়ারশেল। আর সরকারী দমনমূলক এই আচরণের মাত্রা যতোই বাড়ছে ততই সরকার আরো বিতর্কিত হচ্ছে। আর তাদের বিতর্কিত অপকর্ম ঢাকতে একটার পর একটা নতুন নতুন ঘটনার অবতারণা করছে। শাহবাগে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবী আদায়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ যেভাবে নিরীহ ছাত্রদের ওপর গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে তাতে মেধাবী ছাত্র সিদ্দিকুরের দু’চোখ অন্ধ হয়ে গেছে সেটি এখন শুধু দেশবাসীই নয় বিশ্ববাসীর কাছে সরকারের হিং¯্রতার ভয়াবহতা আবারো প্রকাশ পেল। এ নিয়ে দেশজুড়ে যখন আলোড়ন চলছে ঠিক সেই মূহুর্তে আজকে গণমাধ্যমে দেখলাম-চার জন যুবককে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটা সিদ্দিকুরের ইস্যুকে অন্যদিকে মোড় নেয়াতেই করা হয়েছে কি না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই রক্তাক্ত অনাচার আর কতদিন চলবে ? কতদিন বাংলাদেশ বধ্যভূমি হয়ে থাকবে ? জালিমশাহীর বর্বরের দল কতদিন দাপিয়ে বেড়াবে জনপদের পর জনপদে ? মূঢ় অহমিকায় অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে আর কতদিন আকাশে বাতাসে মৃত্যুর কাতরধ্বণি শোনা যাবে ? গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক সাম্যকে অদৃশ্য করে বাংলাদেশের অলিগলি, সড়ক মহাসড়কে আর কত বেওয়ারিশ লাশ পড়ে থাকবে ? দেশের মানুষ এই প্রশ্নগুলো নিয়ে ভয়ার্ত পরিবেশে বসবাস করছে।

বন্ধুরা, ফেনী জেলাধীন সদর উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক কামরুল ইসলামকে আজ জেলগেট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি এই গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার করে নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনে আ’লীগ ঘাতকের বিভৎস তান্ডব চালিয়ে হরতাল অবরোধ করে গাড়ী  ও মানুষ পুড়িয়ে মেরেছিল

(বিএনপি কমিউনিকেশন) — সোমবার , জুলাই ২৪, রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং এ বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনে আ’লীগ ঘাতকের বিভৎস তান্ডব চালিয়ে হরতাল অবরোধ করে গাড়ী  ও মানুষ পুড়িয়ে মেরেছিল।  

প্রেসব্রিফিং এ প্রদত্ত বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো –

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আসসালামু আলাইকুম। সবাইকে আমার প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

আপনারা জানেন নির্বাচন কমিশন কয়েকদিন আগে নির্বাচনি পথনকশা ঘোষনা করেছেন। নির্বাচনী পথনকশা দিতে গিয়ে সিইসি বলেছেন-আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। সিইসি’র বক্তব্য আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্তেরই প্রকাশ ঘটিয়েছে। সর্বজনমান্য নির্বাচনের জন্য যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকা দরকার বর্তমানে সে অবস্থা বাংলাদেশে নেই। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন-নির্বাচনি তফসিল ঘোষনার আগে এ ব্যাপারে তিনি কিছুই করতে পারবেন না। তাহলে তিনি নির্বাচনের দেড় বছর আগেই রোড ম্যাপ ঘোষণা করলেন কেন ? সিইসি’র এহেন বার্তায় ভয় পাচ্ছে জনগণ। জনগণের মনে আশঙ্কা-তাহলে আবারো কী ৫ জানুয়ারী স্টাইলে তিনি দেশে ভোটারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে যাচ্ছেন ? প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা সরকারি টাকা খরচ করে ভোট চাচ্ছে আর বিএনপিকে ঘরোয়া সভা সমাবেশ পর্যন্ত করতে দেয়া হচ্ছে না। পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এখন আর আইনের বাহিনী নয়, এদেরকে সরকারী দলের নীলনকশা বাস্তবায়নে লাঠিয়াল হিসেবে তৈরী করা হয়েছে। তাই এরা কোন মনুষ্যত্ব, আইন-কানুন ও জনমতের ধার ধারে না। এরা আশকারা পেয়ে আওয়ামী দু:শাসনকে বিভৎস রুপ দিয়েছে। যার জলন্ত উদাহরণ হচ্ছে তিতুমির কলেজের নিরীহ ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান, যার দুটি চোখ পুলিশের গুলিতে অন্ধ। সুতরাং দলীয় সরকারের অধীনে সরকারের এই বাহিনীগুলো নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে বেপরোয়া হয়ে ওঠবে। এগুলিও নির্বাচনী অসমান মাঠের নমূনা। এই অসমতল মাঠ সমতল করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এই কাজটি তিন মাসে করতে পারা নির্বাচনের কমিশনের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। এই কাজটি এখন থেকেই শুরু হওয়ার কথা। অথচ সিইসি তফশীল ঘোষণার পর সেটি দেখবেন বলেছেন।

আপনি (সিইসি) বলেছেন সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপনার কিছুই করার নাই। তারা সরকারি খরচে ভোট চাচ্ছে, নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করছে, কিন্তু আপনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। এমনকি আপনার অধীনে যে নির্বাচনগুলি অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেগুলিও রক্তমাখা। সরকারী প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বি বিরোধী দলের প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছে না, জোর করে তাদের মনোনয়ন পত্র কেড়ে নেয়া হয়েছে, তাদের বাড়ীতে গিয়ে হামলা করা হয়েছে এবং সর্বশেষে ভোট ডাকাতির সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে নিজেদেরকে বিজয়ী করছে। জালিমশাহীর হিং¯্র আঁচড়ে জর্জর এদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা। অথচ এমন নির্বাচনকেও আপনি পূর্বের সিইসি’র মতো বলেছেন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। কিন্তু শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয় বিশ্ববাসী বিশ্বাস করে যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। কিন্তু আপনি সেটিরই সাফাই গাইছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আপনার ভূমিকা ইতোমধ্যেই সর্বমহলে সমালোচিত হয়েছে। সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কখনোই এমন দল-অনুগত কাজ করতে পারে না। কিন্তু পূর্ব থেকেই আপনি বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নিকট আত্মা বিক্রি করে দিয়েছেন। আপনি বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের হাতিয়ার হিসেবেই কাজ করছেন। সুতরাং আপনার অধীনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদৌ হবে কি না তা নিয়ে জনমণে যথেষ্ট শংকা দেখা দিয়েছে।

বন্ধুরা,

বাংলাদেশের মানুষ প্রমত্তা পদ্মার মাঝির মতো ঝড়-বাদলের নিত্য সহচর। দুর্বিনীত স্বৈরাচারী হাতের হিংস্রতা ধেয়ে এলেও তারা অবিচলিত। দু:শাসনের কালোরাত পোহাতে আর বেশী সময় নেই। পরিবর্তনের ঝোড়ো বাতাস বইতে শুরু করেছে। তাইতো ক্ষুদ্ধ জনগণের উদ্বেল অভিযাত্রায় প্রবল বন্যার স্রোতে ভেসে যাওয়ার ভয়েই নিজেদের হাতে ক্ষমতা রেখে নির্বাচন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার।

বন্ধুরা,

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে গতকাল বলেছেন, রাজনীতি করতে সাহস লাগে, মামলা মোকাবেলা করতে হয়। কিন্তু বিএনপি নেতাদের সেই সাহস নেই। তাহলে কাদের সাহেব আপনাদের যখন এত সাহস, তাহলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। আপনারাইতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিলেন, ঘাতকের বিভৎস তান্ডব চালিয়ে হরতাল অবরোধ করে গাড়ী পুড়িয়েছিলেন, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছেন। এখন ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে নিজেদের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বাতিল করেছেন। নিজেদের মর্জ্জি ও প্রয়োজন মাফিক সংবিধান বদল বা সংশোধন করেন, কিন্তু এখন বিএনপি-কে সংবিধানের দোহাই দেন। সংবিধানে তো সকল দলের সভা-সমাবেশ করার অধিকার আছে, কিন্তু সাংবিধানিক সেই বিধান তো আপনারা মানছেন না। সভা-সমাবেশের সেই অধিকার তো আপনারা বাকশালী খাঁচায় বন্দী করে রেখেছেন। মূলত: ভয়াবহ দূর্নীতি, দুঃশাসন আর নির্যাতন নিপীড়নের কারণে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আপনারা শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। মাইনাস টু তত্ত্ব মেনে নিয়ে আপনার নেত্রী বিদেশ পাড়ি জমিয়েছিলেন, এটি কোন ধরণের সাহসের নমূণা ? মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন এর সরকার বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে বন্দী করে কিভাবে ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে-তা নিশ্চয়ই কারো অজানা নেই। অন্যায়ভাবে একজনকে নির্যাতন চালিয়ে পঙ্গু করা কী সাহসের দৃষ্টান্ত না কাপুরুষের নমূণা ? সেই মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারকে বলেছেন আপনাদের আন্দোলনের ফসল। তাদের সকল অন্যায়কে আপনারা বৈধ করে দেবেন বলেছিলেন। আপনারা আপনাদের আন্দোলনের ফসলের রক্তাক্ত জুলুম-নির্যাতনের ধারাবাহিকতা এখনও বজায় রেখেছেন। ১/১১ এর সময় সরকারী নির্যাতনের ভয়ে কে কি বলেছেন তা এখনও জনগণ ভুলে যায়নি। সেখানে দেশবাসী নিশ্চয়ই আপনাদের সাহসের সমাচার খুব ভাল করেই জানে। সেই সময় আপনারা আপনাদের নেত্রীকে সকল অনিয়ম ও দুর্নীতিতে অভিযুক্ত করে নিজেরা বাঁচার চেষ্টা করেছেন।

সীমান্তে যখন প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে, তখন তো আপনাদের কোন সাহসী প্রতিবাদ জনগণ দেখেনি। বরং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে নিজেদের দেশের মানুষকে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও খুনের মাধ্যমে শঙ্কা আর শিহরণের ক্ষণে ক্ষণে নৈরাজ্যের ছায়া বিস্তার করে দেশকে বিরোধীদল শুণ্য করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।

বন্ধুরা,

গত ২২ জুলাই ২০১৭, নোয়াখালীর সেবারহাটে রাস্তার দু’ধারে নেতাকর্মীরা বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুককে সংবর্ধনা দেয়ার সময় সেনবাগ থানার ওসি হারুন রশীদ চৌধুরী হুমকি দিয়ে জনাব ফারুককে ঢাকায় চলে যেতে বলেন। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে নেতাকর্মীদের নিয়ে সেনবাগের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে পুলিশ বিনা উস্কানিতে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। এতে সেনবাগ উপজেলা বিএনপি সভাপতি মোক্তার হোসেন পাটোয়ারী, ৭ নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক সোহাগ, সেনবাগ উপজেলা বিএনপি’র সদস্য জাহাঙ্গীর শুভ, উপজেলা যুবদলের সভাপতি যুবরাজ খান ডলার ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ, উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি রুবেল এবং সাধারণ সম্পাদক রাজসহ অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হয়। পুলিশ হামলা চালালেও উল্টো আহত নেতাকর্মীসহ নেতৃবৃন্দের নামে বিশেষ আইনে মোক্তার হোসেন পাটোয়ারী, বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম, নুর নবী বাচ্চু, একরামুল হক সোহাগ, সেনবাগ উপজেলা যুবদল নেতা সুলতান সালাউদ্দিন লিটন, দুলাল, মাসুদ, ছাত্রদল নেতা স্বপন, রাজু, ফখরুল ইসলাম রুবেল, শাহাদাৎ হোসেন রাজুসহ ৪৩ জনকে আসামী করে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। নেতাকর্মীদের বাড়ীতে বাড়ীতে পুলিশী হানায় এলাকায় এক আতঙ্কজনক পরিবেশ বিরাজ করছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৭ নং মোহাম্মদপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাফর খানসহ ৫ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। আমি দলের পক্ষ থেকে পুলিশী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি। আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।

এছাড়া গতকাল ২৩ জুলাই ২০১৭, ভোলা জেলার লালমোহন থানাধীন ধলি গৌড়নগর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মাসুদ করিম নীরব এর বাসাসহ ঐ এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডার’রা আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক তান্ডব ঘটায় এবং অসংখ্য বাড়িঘর ভাংচুর করে। পুলিশ হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করে বরং উল্টো বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ করিম নীরবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।

টাঙ্গাইলে বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশ ও সরকারের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠানটি পন্ড করে দেয়। পুলিশী হামলায় বিএনপি’র অনেক নেতাকর্মী আহত হয়। পুলিশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপি’র সভাপতি কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালসহ ৩২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করে এবং ৮ জন নেতাকর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে।

এছাড়াও গত ২২ জুলাই ২০১৭, চট্টগ্রাম উত্তর জেলাধীন হাটহাজারী উপজেলা বিএনপি’র উদ্যোগে ‘কিং অব হাটহাজারী’ মিলনায়তনে আয়োজিত বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। আমি দলের পক্ষ থেকে এধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি।

ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।

ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে বেগম জিয়ার অভিনন্দন

(বিএনপি কমিউনিকেশন) — বিশিষ্ট আইনজীবী ও বিহারের গভর্নর রামনাথ কোবিন্দ বিপুল ভোটে ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার, জুলাই ২০ রাতে এক অভিনন্দন বার্তায় বেগম জিয়া নিজে এবং বাংলাদেশের জনগণ ও বিএনপির পক্ষ থেকে ভারতের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আশা প্রকাশ করে বলেন, ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় রামনাথ কোবিন্দের গতিশীল নেতৃত্বে আঞ্চলিক রাজনীতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা সামনের দিনগুলোতে আরো জোরদার হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, উপমহাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা স্থাপনে ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি যথাসাধ্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। এ ছাড়া ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আগামীতে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। সেইসাথে বেগম জিয়া ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
অপর এক অভিনন্দন বার্তায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারতের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, একজন নামকরা আইনজীবী হিসেবে খ্যাত ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দর নেতৃত্বে ভারতের উন্নয়ন ও অগ্রগতি ভবিষ্যতে যেমন আরো তরান্বিত হবে তেমনি আঞ্চলিক রাজনীতিতেও একে অন্যের প্রতি সহযোগিতায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।