দেশে শোনা যাচ্ছে ‘ভাতের ফ্যান দাও’ চিৎকার – রুহুল কবির

(বিএনপি কমিউনিকেশনস)   — বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২১, দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিং এ দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দূর্ভিক্ষের ছায়া এখন সারাদেশের ওপর বিস্তারলাভ করেছে। ধন-ধান্যে ভরা বাংলাদেশ এখন ভরে উঠতে যাচ্ছে ‘ভাতের ফ্যান দাও’ চিৎকারে।

নিচে প্রেসব্রিফিং এ প্রদত্ত বক্তব্য তুলে দেয়া হলো –

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।

মন্ত্রীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পরও কমেনি চালের দাম। চাল ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা চালের দাম ২ থেকে ৩ টাকা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে গত দুদিন আগে বানিজ্যমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য বাগাড়ম্বর ছাড়া আর কিছুই নয়। কারন এর প্রভাব বাজারে এখনো পড়েনি। গতকালও মোটা চাল ৫৫ টাকা ও মাঝারি সরু চাল ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে চাল কিনতে আসা ক্রেতারা বলেন, চালের দাম কমার কথা বলা হলেও তারা আগের দামেই চাল কিনছেন। গণমাধ্যমের খবর-রাজধানীর পাইকারি চালের বাজার বাবু বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে পূর্বের দামে চাল বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম নিয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্য ডাহা চাপাবাজিতে পরিণত হয়েছে। যার সঙ্গে বাস্তবের কোন মিল নেই। গত দু’দিন আগে মন্ত্রীদের সাথে চাল ব্যবসায়ীদের বৈঠকের সময় ব্যবসায়ীরা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছিলেন-কোথায় এক কোটি টন চাল আছে দেখান। সেসময় মন্ত্রীরা এর কোন সদুত্তর দিতে পারা দুরে থাক অসহায়ের মতো নিরুত্তর ছিলেন। এই ভোটারবিহীন সরকারের দম্ভ আর ধমক ছাড়া জনগণকে দেয়ার আর কিছুই নেই।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে খোলাবাজারে কিনতে আসা নিম্নবিত্তদেরকে ওএমএসের মোটা সেদ্ধ চালের পরিবর্তে আতপ চাল দেয়া হচ্ছে। আতপ চালের বিক্রি বাড়াতে ডিলাররা আটা ক্রেতাদের জোরপূর্বক আতপ চাল নিতে বাধ্য করছেন। ক্রেতারা আটা চাইলে সঙ্গে আতপ চালও দিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং তা নিতেও বাধ্য করা হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। আতপ চাল না কিনলে আটা মিলছে না। যা অত্যন্ত অমানবিক ও গরীব মানুষদের সঙ্গে জোর জবরদস্তির শামিল। অন্যদিকে খোলা বাজারে বিক্রির (ওএমএস) চালের দাম বাড়ানো হয়েছে কেজিতে ১৫ টাকা। সেখানে চালের দাম ১৫ টাকা কেজি থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৩০ টাকা করা হয়েছে, তাও আবার সেটি আতপ চাল, যা দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ভাত হিসেবে খেতে পারে না। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অমানবিক। দূর্ভিক্ষের ছায়া এখন সারাদেশের ওপর বিস্তারলাভ করেছে। ধন-ধান্যে ভরা বাংলাদেশ এখন ভরে উঠতে যাচ্ছে ‘ভাতের ফ্যান দাও’ চিৎকারে। বাংলাদেশে মহামন্বন্তর ধেয়ে আসছে। লুটপাট আর দখলবাজীর নীতি নিয়ে চলতে শুরু করায় এই সরকারের দু:শাসনে দেশের সর্বত্র দারিদ্র, দুর্দশা ও অসাম্যের করুণ কাহিনী ছাড়া আর কোন উন্নয়ন বাংলাদেশের জনগণ চোখে দেখেনি।

নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগ দশ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ানোর কথা ঢাকঢোল পিটিয়ে বলেছে। এই দশ টাকা কেজি’র চাল শুধুমাত্র কেতাবেই আছে, গোয়ালে নেই। গত পরশু দিন খাদ্যমন্ত্রী বললেন, দশ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। এই দশ টাকা কেজির চাল কে পেয়েছে ? জনগণ তো পায়নি। সারাদেশে নিরন্ন দরিদ্র মানুষ দশ টাকার কেজি চালের কথা শুধুমাত্র স্বপ্নেই দেখেছে। তাহলে এই এতদিন দশ টাকার কেজি চাল কারা পেয়েছে সেটা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। ক্ষমতাসীন দলীয় লোকেরা দশ টাকা কেজির চাল বিক্রির নামে সরকারী গোডাউন থেকে চাল নিয়ে চড়া মূল্যে কালোবাজারে বিক্রি করেছে। মন্ত্রীর দুদিন আগে দেয়া দশ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি বন্ধের ঘোষনা বোঝা গেল প্রকল্পটি ছিল ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের লুটপাট প্রকল্প।

আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ওএমএসসহ সকল প্রকার চালের মূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

সাংবাদিক বন্ধুরা,
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন ও নির্যাতন-নিপীড়ণের মাধ্যমে তাদেরকে স্বদেশ ছাড়তে বাধ্য করার প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঝড় বইছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তি বাতিল করেছে যুক্তরাজ্য। এছাড়া সুচিকে দেয়া পদকও ফিরিয়ে নিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি নামী-দামী সংগঠন। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নির্যাতনে বাংলাদেশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত। মিয়ানমারের সেনা নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বিশাল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশগত, জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিকসহ নানা বিষয়ে গভীর সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রীর মাত্র এক লাখ টন চালের জন্য স্বস্ত্রীক মিয়ানমার সফর রোহিঙ্গা ইস্যু সমস্যা সমাধানের পথকে দুর্বলই করেনি এতে দেশের আত্মমর্যাদাও ভুলুন্ঠিত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের রক্তের বিনিময়ে চাল কেনা হচ্ছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে। বাংলাদেশ সরকারের অনুনয়-বিনয় নীতি যে আত্মবিক্রিত নতজানু পররাষ্ট্র নীতিরই প্রতিফলন, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই-এটি রোহিঙ্গা সংকটকে আরো ঘনীভূত করছে।

বন্ধুরা,
রোহিঙ্গা ইস্যুটি বাংলাদেশের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। মানবিক কারনে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হলেও তাদেরকে পূর্ণ নিরাপত্তায় মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে। এজন্য আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন ছিল। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর যেভাবে বাংলাদেশের ভূমি, জলসীমা, স্থলসীমা ও আকাশসীমা উজাড় করে দিয়েছে তা সুস্পষ্টভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব লংঘনের শামিল। যা দেশের স্বাধীনতার পর কোন সরকারই করেনি। আজকের এই সংকটমূহুর্তে আমরা নিকট প্রতিবেশী দেশের ভূমিকায় বিস্মিত হচ্ছি। তারা সরাসরি মিয়ানমার সরকারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। সরকার যদি বাংলাদেশকে উজাড় করে না দিতো, যদি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বার্গেনিংয়ের কোন পথ রাখতো তাহলে নিজ দেশের স্বার্থ সংরক্ষণে আমরা সক্ষম হতাম। শুধুমাত্র ভোটারবিহীন সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে সবকিছু উজাড় করে দেয়ার নীতি অবলম্বনের কারনেই বাংলাদেশ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের প্রধান ও সরকারের মনস্তত্ত্বে যেটি নেই-তাহলো সততা, মর্যাদা, সহানুভুতি, প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনার সক্ষমতা।

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো এমন ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। বিএনপি’র পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্যের কথা বারবার বলা হলেও সরকার জমিদারের ন্যায় নিজেদেরকে দেশের একক মালিক ভেবে একতরফা ও একগুঁয়েমিভাবে কাজ করছে, ফলে রোহিঙ্গা উপদ্রুত অঞ্চলে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় প্রকট হয়ে উঠেছে। সুযোগ সন্ধানী রাজনীতির খেলায় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদেরকে দাবার ঘুঁটি বানিয়ে নিজের মহিমা অর্জনের চেষ্টায় ম্যাকিয়াভেলীর নীতি প্রয়োগে অক্লান্ত রয়েছেন।

বন্ধুরা,
আবারো আপনাদের সামনে আমাদের দলের পক্ষ থেকে আসন্ন দুর্গাপুজা নিয়ে সরকারের নানামুখী নীলনকশা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। দুর্গাপুজার প্রাক্কালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের দ্বারা হিন্দু মন্দির আক্রমণ এক অশুভ চক্রান্তেরই বহি:প্রকাশ। কিন্তু নির্লজ্জ সন্ত্রাসী তান্ডবের এক বিভিষিকা তৈরী করে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর ওপর চাপানো আওয়ামী পুরনো নীতি সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি হিন্দু মন্দিরে ক্ষমতাসীন দলের লোকরা আক্রমণ চালিয়ে ভাংচুর করে পুলিশ প্রশাসনকে দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। দিনাজপুরে বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক বখতিয়ার আহমেদ কচিসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে বিনা মামলায় গ্রেফতার করে চব্বিশ ঘন্টা পর মন্দির ভাংচুরের মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে মামলা দেয়া হয়েছে। এর আগেও একাধিকবার হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়-হিন্দুদের মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় ক্ষমতাসীনরাই জড়িত। আওয়ামী লীগ মন্দির ভাঙ্গার সন্ত্রাসী তান্ডবের কাজগুলো করছে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিকট বিএনপি’র ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য। সুতরাং বিএনপি নেতাদের নামে কাল্পনিক মামলা দিয়ে সত্যকে আড়াল করা যাবে না। আওয়ামী সরকারের মধ্যে একটা অশুভ আত্মা আছে। চরম মিথ্যাচার ও নির্মমভাবে বিরোধী দলকে দমনের উপাদান নিয়ে সেই আত্মাটি গঠিত। এরা উচিৎ-অনুচিতের ধার ধারে না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে যেকোন অনৈতিক পন্থা অবলম্বনই হচ্ছে তাদের অব দি রেকর্ড নির্বাচনী ইশতেহার। আমি বিএনপি’র পক্ষ থেকে মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুরের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সরকারকে এধরণের গর্হিত কর্মকান্ড থেকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি।

ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।

বিনাভোটে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারীরা জনগণের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে – মির্জা আলমগীর

(বিএনপি কমিউনিকেশনস)   — মংগলবার, সেপ্টেম্বর ২০, রাতে ফেনীর পরশুরাম উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের লিটনকে বাসায় না পেয়ে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাসায় ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং তার বড় ভাই আবুল কাশেম মিন্টুকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতার করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিনাভোটে জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারীরা নিজেদেরকে এতটাই ক্ষমতাধর ও প্রবল শক্তিশালী ভাবছে যে, বিএনপিসহ সকল বিরোধী দল ও জনগণের ওপর অত্যাচার চালাতে বিন্দুমাত্র পিছপা হচ্ছে না।

বুধবার, সেপ্টেম্বর ২০, সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিএনপি মহাসচিব এর বিবৃতিটি নিচে দেয়া হলো –

“বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নির্যাতন-নিপীড়ণ বর্তমান পুলিশ বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের একধরণের উৎসবে পরিণত হয়েছে।নেতাকর্মীদেরকে না পেয়ে বাসার লোকজনের সাথে অশালীন আচরণ, আত্মীয়স্বজনদের গ্রেফতার ও ভাংচুর-লুটপাটের ঘটনায় আতংকিত নেতাকর্মীরা এখন চরম উদ্বিগ্ন। বিনাভোটে জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারীরা নিজেদেরকে এতটাই ক্ষমতাধর ও প্রবল শক্তিশালী ভাবছে যে, বিএনপিসহ সকল বিরোধী দল ও জনগণের ওপর অত্যাচার চালাতে বিন্দুমাত্র পিছপা হচ্ছে না।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জনআকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে বর্তমান আওয়ামী সরকার মোটেও সচেষ্ট নয়। সরকারের দুর্বিনীত দু:শাসনে চরম অতিষ্ঠ জনগণের প্রশ্ন-তাহলে কি সরকার দীর্ঘকাল রাষ্ট্রশাসনের লাইসেন্স পেয়ে গেছে? আর যেকারনে তারা মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো থেকে নিবৃত্ত হচ্ছে না? বর্তমান সরকারের অপশাসন ও জুলুম-নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পেতে জনগণের ঐক্যের বিকল্প নেই। গতরাতে ফেনী জেলাধীন পরশুরাম উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের লিটনকে বাসায় না পেয়ে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাসায় ব্যাপক ভাংচুর এবং তার বড় ভাই আবুল কাশেম মিন্টুকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতারের ঘটনা সরকারের চলমান দু:শাসন ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে আবু তাহের মিন্টুর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবী করি।” প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

তেলেরদাম কম তবু বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে  – রুহুল কবির

(বিএনপি কমিউনিকেশনস)   — বুধবার, সেপ্টেম্বর ৬, রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিং এ দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তেলের দাম কমছে তবু সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলছে

প্রেসব্রিফিং এর পূর্ণ পাঠ নিচে তুলে দেয়া হলো –  

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অতিশয় চড়া, এর উপর আবারও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করার প্রস্তুতি চলছে। গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে কিছু দিনের মধ্যে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় বাংলাদেশে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও কমার কথা। কিন্তু বিদ্যুতের দাম না কমিয়ে উল্টো বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, যা নজিরবিহীন এবং গণবিরোধী। বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানি (ফার্নেস) তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হলে খরচ আরও কমবে। বিদ্যুতের মুল্য বৃদ্ধির মূল কারণ হচ্ছে কুইক রেন্টলের বিদ্যুৎ। রেন্টাল-কুইক রেন্টাল হচ্ছে আমাদের অর্থনীতির জন্য অভিশাপ। এসব প্রকল্পের পিছনে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের আত্মীয়স্বজন। তাদের লুটপাটের আরও বেশি সুযোগ করে দিতেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বিদ্যুৎ-জ্বালানি এখন লুটের খাত। সরকার তার পছন্দের  লোকদের দিয়ে রেন্টাল-কুইক রেন্টাল প্রজেক্ট করিয়েছে। ওইসব প্রজেক্টে জনগণের দেয়া ট্যাক্স থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। তাতেও কূল পাচ্ছে না। এখন আবারও দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গরিবকে আরও গরিব বানাতে চাচ্ছে সরকার।  

গত দেড় বছরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ৮০ শতাংশের বেশি। কিন্তু দেশে এখন পর্যন্ত কমানো হয়নি। এমনকি সরকার কমানোর কথা ভাবছেও না। ফলে দাম কমার সুবিধা থেকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রতি লিটার অকটেনের উৎপাদন খরচ ৫০ টাকারও কম। সরকার বিক্রি করছে ৯৯ টাকা। পেট্রলের উৎপাদন ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যেও ব্যবধান প্রায় একই রকম। সরকার দেশে ডিজেল বিক্রি করছে ৬৮ টাকা লিটার। অথচ ডিজেলের আমদানি মূল্য পড়ছে প্রতি লিটার ৪০ টাকার কম। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেল সরকার বিক্রি করছে প্রতি লিটার ৬২ টাকা। ক্রয়মূল্য বর্তমানে ২৫ টাকার মতো।

বিদ্যুতের সঙ্গে সব কিছু সম্পর্কিত। ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় বছরে পাইকারি পর্যায়ে ছয়বার এবং খুচরা পর্যায়ে সাতবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেলে সবচেয়ে বিপাকে পড়বে সীমিত আয়ের মানুষ। শিল্প খাতেও পড়বে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব। এমনিতে সরকারের লুটাপাট আর ভয়াবহ দুঃশাসনে দেশে কোন বিনিয়োগ নেই। এমন সময় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা মানেই বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করবে। এতে গোটা অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে। আবার শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে বাড়বে দ্রব্যমূল্যও। নিত্যপণ্যসহ সব কিছুর দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। এর মাশুলও দিতে হবে সাধারণ ভোক্তাদের। এমনিতেই মূল্যস্ফীতি অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের আকার স্ফীত থেকে স্ফীততর হচ্ছে। এর ফলে নির্দিষ্ট আয় ও পেশার মানুষের কষ্ট ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। এরপর আবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যয়ভার স্ফীত করার মাধ্যমে দুর্ভোগের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। কৃষি খাতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

বন্ধুরা,

বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার জনগনের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় জনগনের প্রতি তাদের কোন দায়িত্ববোধ নেই। তারা একের পর পর জনবিরোধী কার্যকলাপ অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এমন বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি মেনে নেয়া হবে না। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে জনবিরোধী এ উদ্যোগ থেকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই বোনেরা,

এই পবিত্র ঈদুল আজহার উৎসবের মাঝেও শাসক দল আওয়ামী লীগ ও তাদের পেটোয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্ত্রাসী তান্ডব থামছেনা। ঈদের আগে ২০দলীয় জোটের কল্যানপার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা সাদাত আহমেদসহ ৬জনকে অপহরণ করা হলেও এখনও তাদের ফেরত দেয়া হয়নি। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার তুষখালী বাজার থেকে ধানীসাফা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদারকে (৫৮) প্রকাশ্য তুলে নিয়ে যাওয়ার একদিন পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছন থেকে হাবিবুর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে রোববার সকালে তুষখালী বাজারে একটি ওষুধের দোকানে বসা অবস্থায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস তালুকদারের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে আওয়ামী নেতারা নৃশংসহভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায়। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে হাবিবুর রহমানের খুনীদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের সমবেদনা জানাই গভীর সমবেদনা।

বন্ধুরা,

রূপসা উপজেলায় বিএনপির ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান পুলিশ ভ-ুল করে দিয়েছে। জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার আমন্ত্রিত অতিথিরা রোববার অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হলে রূপসা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৫ মিনিটের মধ্যে জায়গা ফাঁকা করতে হবে, অন্যথায় গুলি করা হবে।  ঈদের পর দিন রোববার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাকর্মীসহ অতিথিরা অনুষ্ঠানে জড়ো হতে শুরু করলে ওসি রফিকুল ইসলাম জলকামান ও অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হয়ে তাতে বাধা দেন। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের হুমকি দিয়ে ওসি রফিকুল বলেন, পাঁচ মিনিটের মধ্যে জায়গা ফাঁকা করতে হবে, অন্যথায় গুলি করা হবে।

গতকাল মাদারীপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করতে গেলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বাধা প্রদান করে। পরে পুলিশ বাদী হয়ে উল্টো বিএনপির ১০ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

শরীয়তপুরে গত ৪ সেপ্টম্বর বিএনপির ত্রাণ বিতরণে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ যৌথ নগ্ন হামলা চালিয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম কিরণের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সখিপুর থানার উত্তর তারাবুরিয়া ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৭৫টি পরিবারকে পূর্ব নির্ধারিত ত্রাণ বিতরণে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে হামলা করেন। সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলায় ১৪/১৫জন নেতা-কর্মী আহত হয়। এছাড়াও আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপির র্নিধারিত ত্রাণ বিতরণস্থানে ছাত্রলীগের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের নাটক সাজিয়ে পুলিশ ত্রাণ দেওয়ার স্টেজটি ভেঙে দেয় এবং নেতা-কর্মীদের উপর হামলা করে। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় বিএনপির আরও ৪/৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নগ্ন হামলায় মোট ২৭জন নেতা-কর্মী আহত হয়।

গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি রফিজুল ইসলাম দর্জ্জির বাড়িতে ৪ সেপ্টেম্বর ঈদ উত্তর পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এই অনুষ্ঠানে বিএনপি ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপি সভাপতি ফজরুল হক মিলন-এর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু প্রধান অতিথি অনুষ্ঠানস্থলে যাবার পূর্বেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা আক্রমণ করে বাড়ির সব আসবাবপত্র ভেঙ্গে ফেলে আলমারির সমস্ত কাপর-চোপর, গহনা, টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীরা বাড়ির মহিলা, পুরুষ সবাইকে নির্বিচারে পিটিয়ে আহত করে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। হামলায় সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুরকে বেদম প্রহার করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।

গত পরশু চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল আমীন তার বাসায় ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পুলিশ উক্ত অনুষ্ঠান পন্ড করে দিয়ে বেধড়ক লাঠিপেটা করে সবাইকে তাড়িয়ে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করে। উপরন্ত পুলিশ উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল আমীনকে ১নং আসামী করে বড়ৈহাট পৌর বিএনপি সভাপতি দিদারুল আলম, মীরের সরাই যুবদল সভাপতি শাহিনুর ইসলাম স্বপনসহ ৫০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে।

মীরের সরাইয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা  বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের যেখানে পাচ্ছে বেধড়ক মেরে তাড়িয়ে দিচ্ছে। সমগ্র মীরসরাইয়ে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করছি এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানচ্ছি।

সাংবাদিক বন্ধুরা

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনের বিরুদ্ধে বিশ্বনেতৃবৃন্দ সোচ্চার ভুমিকা পালন করলেও, বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করলেও সরকার এখনও উদ্যোগি ভুমিকা নেয়নি। সীমান্তে লাখ লাখ রোহিঙ্গা এখনও মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করলেও তাদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না সরকার। নাফ নদীর তীরে বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়ার জন্য তারা বুকফাঁটা কান্নায় তারা আকুতি জানাচ্ছে। মিয়ানমারে তাদের উপর চলছে পৈশাচিক নির্যাতন, হত্যা করার পর তাদের হাত-পা বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে শরীর থেতলিয়ে দেওয়া হচ্ছে ধর্ষণের পর নারীদের। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হচ্ছে মানুষ ও পশুদের। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এক বিভৎস বর্বরতার নতুন নজির তৈরি করেছে রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমারের নির্যাতন। যারা কাঁটা তারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে প্রবেশ করছে তারা তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন। না খেয়ে ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেনা। আহত, গুলিবিদ্ধ,ক্ষুধার্ত, অসুস্থ, বিবস্ত্র, ছায়াহীন তপ্তরোদ্রের মধ্যে চরম এক বিপর্যয়ের মধ্যে তারা দিনাতিপাত করছে। এই মানবতাবিরোধী ভয়ংকর নির্দয়তার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের বিবেকহীন নিরবতা বিশ্ববিবেককে স্তম্ভিত করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে র্বতমান সরকারের কূটনৈতিক দূর্বলতা ফুটে উঠেছে। যার কারণে রোহিঙ্গা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। আমরা আবারও দলের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা বিধানের জোর দাবি জানাচ্ছি।

সকলকে ধন্যবাদ।