গণতন্ত্র রক্ষার অঙ্গীকারে অাখতার হামিদ ছিলেন অবিচল – বেগম জিয়া

(বিএনপি কমিউনিকেশন)   — বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য, জাতীয়  সংসদের সাবেক ডেপুটি ‌স্প‌িকার ও বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ও দেশের প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ আখতার হামিদ সিদ্দিকী রোববার, নভেম্বর ২০, দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। আখতার হামিদ সিদ্দিকী’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

রোববার, নভেম্বর ২০, শোকবার্তায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন –

“মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকী নিজ এলাকায় একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শে গভীরভাবে আস্থাশীল এবংবাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকী বিএনপি’র সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জনগণের নিকট ছিলেন অত্যন্ত সমাদৃত। বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান আখতার হামিদ সিদ্দিকী জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার হিসেবে দায়িত্বপলনকালে যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তা নি:সন্দেহে প্রশংসনীয়। জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনকল্যানমূলক কাজেও তিনি যে অবদান রেখেছেন সেজন্য এলাকাবাসী তাঁকে বারবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেছে। তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদার, সজ্জন ও বিনয়ী স্বভাবের  মানুষ। নিজ এলাকায় বিএনপিকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকী নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে গেছেন। মানুষের প্রতি গভীর ভালবাসাবোধ ও জনকল্যাণের মহান ব্রত নিয়ে রাজনীতি করতেন বলেই তিনি এলাকাবাসীর নিকট ছিলেন অত্যন্ত আপনজন। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক চেতনাকে দৃঢ়ভাবে বুকে ধারণ করে মানুষের বাক-ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার সপক্ষে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি’র প্রতিটি কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার অঙ্গীকারে শহীদ জিয়া প্রবর্তিত ধারাকে অক্ষুন্ন রাখতে তিনি ছিলেন অবিচল, এক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিএনপি নেতাকর্মীদের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের এই দূর্দিনে তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞপার্লামেন্টারিয়ান ও আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদের পৃথিবী থেকে চিরবিদায়ে আমি গভীরভাবে ব্যথিত ।

আমি মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকী এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকার্ত পরিবারবর্গ, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

অপর এক শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান আখতার হামিদ সিদ্দিকী’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী, সৎ, কর্তব্যনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকী তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে যেভাবে নিবেদিত থেকেছেন সেজন্য দেশবাসী তাঁকে চিরদিনশ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। জনঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ ছিলেন বলেই তাঁর মৃত্যুতে নিজ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মির্জা আলমগীর বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর নীতি ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন ওসাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে তাঁর বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোকবার্তায় মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকী’ররুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ, আত্মীয়স্বজন এবং শুভাকাঙ্খীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

স্বাধীনতার প্রথম সুর ধ্বণিত হয়েছিল মওলানা ভাসানীর কন্ঠে – বেগম জিয়া

(বিএনপি কমিউনিকেশন)   — মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৭। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৬, গণমাধ্যমে পাঠানো বাণীতে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন,  মওলানা ভাসানী আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক প্রাতঃস্মরনীয় নাম। সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশবাদ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের প্রবাদ পুরুষ মওলানা ভাসানী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে উপ-মহাদেশের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পক্ষে তিনি আপোষহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন। ’৫০ এর দশকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম সুর ধ্বণিত হয়েছিল তাঁর কন্ঠে। তিনি দেশবাসীকে প্রথম স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছলেন। মাওলানা ভাসানী দেশমাতৃকার মুক্তির পথ প্রদর্শক।

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাণীর পূর্ণপাঠ নিচে দেয়া হলো –  

“মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আমি তাঁর স্মৃতির  প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

মওলানা ভাসানী আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক প্রাতঃস্মরনীয় নাম। সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশবাদ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের প্রবাদ পুরুষ মওলানা ভাসানী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে উপ-মহাদেশের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পক্ষে তিনি আপোষহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন। ’৫০ এর দশকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম সুর ধ্বণিত হয়েছিল তাঁর কন্ঠে। তিনি দেশবাসীকে প্রথম স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছলেন। মাওলানা ভাসানী দেশমাতৃকার মুক্তির পথ প্রদর্শক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং কৃষক শ্রমিক মেহনতি জনতার ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ছিলেন প্রদীপ্ত এক আলোকবর্তিকা। তাঁর অবস্থান ছিলো শোষনের বিরুদ্ধে শোষিতের পক্ষে। অধিকার আদায়ে তিনি এদেশের মানুষকে সাহস যুগিয়েছেন তাঁর নির্ভিক ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের দ্বারা। তাঁর হুংকারে কেঁপে উঠত অত্যাচারী শাসক ও শোষক গোষ্ঠীর মসনদ। জাতীর ভয়াবহ দুর্দিনে তিনি জনস্বার্থের পক্ষে থাকতেন আস্থা ও বিশ্বাসের অবলম্বন হিসেবে।

অসহায় মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় মওলানা ভাসানী আমাদের প্রেরনার উৎস। তাঁর নিখাদ দেশপ্রেম, দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষা এবং গণতন্ত্র ও মানবতার শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে যুগ যুগ ধরে আমাদেরকে অনুপ্রানিত করবে। তাঁর আদর্শকে সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারলেই আমরা আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হবো। এদেশে আবারও গণবিরোধী শক্তি গায়ের জোরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে গণতন্ত্রে স্বীকৃত মানুষের সকল স্বাধীনতাকে হরণ করে নিয়েছে। জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে দেশবিরোধী কর্মকান্ডের মাধ্যমে বর্তমানে বাংলাদেশকে যেদিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে তাতে জাতীয় স্বাধীনতা বিপন্ন হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনই কোন না কোনভাবে আগ্রাসী শক্তির দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, মাটি, মানুষ ও সংস্কৃতির ওপর চলছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিরবচ্ছিন্ন আগ্রাসন। তাই এই মূহুর্তে আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের এদেশীয় প্রতিভূদের রুখতে মওলানা ভাসানী প্রদর্শিত পথই আমাদের পাথেয়। আমরা সেই পথেই অপশক্তির অশুভ ইচ্ছাকে পরাস্ত করতে সক্ষম হবো।

আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”

গণতন্ত্র সুরক্ষায় মওলানা ভাসানী আমাদের প্রেরণা – মির্জা আলমগীর

(বিএনপি কমিউনিকেশন)   —  মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৭। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৬, গণমাধ্যমে পাঠানো বাণীতে  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,  স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র সুরক্ষায় মওলানা ভাসানী যুগ যুগ ধরে আমাদেরকে প্রেরনা জোগাবে, দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে।

বাণীর পূর্ণপাঠ নিচে দেয়া হলো –

“মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আমি তাঁর স্মৃতির  প্রতি  গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

মওলানা ভাসানী ছিলেন আফ্রো-এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকার নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের কন্ঠস্বর। তিনি ছিলেন বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে উচ্চকিত কন্ঠ। মওলানা ভাসানী মজলুমের বন্ধু, সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদ এবং অত্যাচারী শাসক ও শোষক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদী কন্ঠস্বর।

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র সুরক্ষায় মওলানা ভাসানী যুগ যুগ ধরে আমাদেরকে প্রেরনা জোগাবে, দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। আজকে এই দিনে আমি মওলানা ভাসানীর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যানে আত্মনিবেদিত হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানাই।

আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”