সোমবার মানববন্ধন, মঙ্গলবার অবস্থান ও বুধবার অনশন করবে বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন বানোয়াট মামলায় সাজা প্রদানের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে তাঁর নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র উদ্যোগে নিম্নের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে –

 

মানববন্ধন

সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১২, ২০১৮ ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে জেলা, মহানগর, থানা, উপজেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি

অবস্থান

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০১৮,ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে জেলা, মহানগর, থানা, উপজেলায় অবস্থান কর্মসূচি

অনশন

বুধবার,  ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮, সকাল ৯-০০টা থেকে বিকেল ৫-০০টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে জেলা, মহানগর, থানা, উপজেলায় অনশন কর্মসূচি পালিত হবে।

বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে উক্ত কর্মসূচি সমূহ পালনের জন্য অনুরোধ করা হলো।

শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১০, এ গ্রেফতারকৃতদের তালিকা

শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১০, বিকেলে নয়াপল্টন কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিং এ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী গ্রেফতারকৃতদের তালিকা তুলে ধরেন।

প্রেসব্রিফিং এর পূর্ণপাঠ নিচে দেয়া হলো –

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।

এপর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে আজ যারা গ্রেফতার হয়েছেন:

ঢাকা: মহানগর দঃ বিএনপি’র সহ-সভাপতি নবীউল্লাহ নবী, মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক  মিজানুর রহমান জিমি, ওলিউদ্দিন, তাহের, রাশেদ, জাহিদ, ৫২ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ফারুক, শ্যামপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সেন্টু মেম্বার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম সম্পাদক  স্বপন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা হারুন অর রশিদ হারুন, মুন্সিগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের নেতা তাওলাদ হোসেনসহ ৪০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে আজ দুপুরে মিছিল থেকে গ্রেফতার করে। এছাড়া পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাধারণ সম্পাদক  গোলাম মওলা শাহীনসহ ৫০ জনের অধিক নেতাকর্মী গুরুতরভাবে আহত হয়।

নারায়ণগঞ্জঃ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক  অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ ১৩ জনের অধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার।

নেত্রকোনা :  বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফা জেসমিনসহ ৫ জন গ্রেফতার।

চট্রগ্রাম উত্তরঃ  জেলা বিএনপির সদস্য ও মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গাইবান্ধা : গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা জিয়া পরিষদের আহবায়ক ও পৌর বিএনপির উপদেষ্টা শফিউল আলম আকন্দকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গতরাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

পিরোজপুর: মঠবাড়িয়া পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবিরসহ ৩ জন গ্রেফতার।

টাংগাইলঃ  বিএনপি নেতা ফিরোজ মিয়া, লাভলু, ইসমাইলসহ ৫ জনের অধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার।

ফেনী : সোনাগাজী পৌর শ্রমিক দলের আহবায়ক ও ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর  হাজী মোঃ ইয়াছিন, পৌর যুবদল নেতা রাসেল আহমেদ গ্রেফতার। সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক  খোরশেদ আলমের বাসায় র‌্যাব-পুলিশ তান্ডব চালিয়ে ভাংচুর করে।

কুমিল্লা উত্তর:  দেবিদ্বার থানা বিএনপির নেতা তারেক মুন্সীসহ ৪ জন গ্রেফতার।

কুমিল-া দক্ষিণঃ  জেলা যুবদল সভাপতি ওয়াসিক, ছাত্রদল নেতা রিয়াজসহ ৭ জনের অধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার।

নাটোরঃ  বনপাড়া শহর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এম লুৎফর রহমান, বড়াইগ্রাম উপজেলা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বড়াইগ্রাম মহিলা সভাপতি হেলেনা খাতুন, নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল ইসলাম লিটন, জেলা জাসাস-এর যুগ্ম সম্পাদক  আবদুল খালেক, ছাতনি ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক জালাল উদ্দিন, সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক গোলাপ খান, কাফুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, দিঘাপতি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ফারুক রায়হান, আক্কাছ, শাহীন, বনপাড়া শহর বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ হোসেন ফকির, বড়াইগ্রাম পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক  রবিউল ইসলাম রবি, যুবদল নেতা শামছুল আলম, বড়াইগ্রাম পৌর যুবদলের নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া, জেলা ছাত্রদলের নেতা সাদ্দাম হোসেন শান্তিপুর্ন মিছিল করার সময় পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এতে সাদ্দাম হোসেন গুরুতর জখম হয় এবং সবাইকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

ভোলা :  জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক  হারুন অর রশিদ হারুনকে না পেয়ে তার কলেজ পড়ূয়া ছেলেকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

নড়াইলঃ  জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জুলফিকার আলী মন্ডল, কালিয়া উপজেলা বিএনপি‘র সভাপতি আনোয়ার হোসেন, লোহাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য এম রেজাউল কবির পারভেজ, জেলা বিএনপির সদস্য আবুল খান, গোলাম মোর্শেদ, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য নজরুল ইসলাম, সদর উপজেলা হরখালী ইউনিয়ন বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর মোল্লা, সদর উপজেলা সাধুখালী ওয়ার্ড বিএন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, কালিয়া থানা বিএনপির সদস্য মফিজুর রহমান, কালিয়া উপজেলা বিএনপির নেতা জিয়া (ইউপি মেম্বার), কালিয়া থানা তাতুরী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিয়ামত হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা ইটনা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ আলী, ইটনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, লাহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক  মুন্সি মফিজুর রহমান, লোহাগড়া পৌর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ আহাদ আলী, নড়াইল সদর ঃ ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম খানকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

ফরিদপুরঃ মিছিল ও সমাবেশ শেষে ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি ইয়াসমিন আরা হক, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আজম খান ও মাজেদ মিয়া, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম লিটনকে জেলা বিদ্যুৎ অফিসে ঘেরাও করে রেখেছে।

টাংগাইল :  নাগরপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আহমেদ আলী রানা গ্রেফতার।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন বানোয়াট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ৪ হাজার ২ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে যে সকল নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অসত্য মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলায় যে সকল নেতাকর্মী আহত হয়েছেন তাদের সুস্থতা কামনা করছি।

ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।

সংবাদ সম্মেলনে দেশনেত্রী বেগম জিয়ার বক্তব্য

(বিএনপি কমিউনিকেশন) — বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৭, বিকেলে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুলশান নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সন প্রদত্ত বক্তব্যের পূর্ণপাঠ নিচে দেয়া হলো –

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় সাংবাদিক ভাইবোনেরা,

আসসালামু আলাইকুম।

দেশজাতির চরম সংকটের সময়ে আজ আপনাদের মাধ্যমে প্রিয় দেশবাসীর উদ্দেশে কিছু কথা নিবেদন করতে চাই।

ভাষাশহীদের মাসে মাতৃভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, আমি শুরুতেই তাঁদের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

আমরা সবাই জানি, এ দেশের জনগণ গণতন্ত্রপ্রিয়। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামই এই জাতিকে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের পথে এগিয়ে দিয়েছিল।

তাই স্বাধীনতার পর জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হলে এ দেশের মানুষ তা মেনে নেয়নি।

সে কারণেই বাংলাদেশের জনগণের প্রিয় নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন। জনগণকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কেড়ে নেওয়া সব অধিকার।

এরপর আবারও স্বৈরশাসন চেপে বসলে এ দেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। আমরা ছাত্র, তরুণ, পেশাজীবীসহ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন সংগ্রাম শুরু করি। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত ঢেলে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনে।

জরুরি অবস্থা জারির নামে দেশে অগণতান্ত্রিক শাসনকেও এ দেশের সাধারণ মানুষ মেনে নেয়নি। ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের কারণেই তাদের শাসন দীর্ঘায়িত করার খায়েশ পূরণ হয়নি।

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৭, বিকেলে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুলশান নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্য।

সাংবাদিক বন্ধুগণ,

গণতন্ত্রের প্রতি এ দেশের জনগণের প্রবল অনুরাগের কারণেই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি হিসেবে গণতন্ত্রকেই বেছে নিয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য এ দেশের মানুষের। তারা রক্ত ঢেলে দিয়ে গণতন্ত্র এনেছে। বারবার সেই গণতন্ত্র এবং এ দেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের জনগণ তাদের কষ্টার্জিত গণতন্ত্র এবং অধিকারগুলো আজ আবার হারিয়ে ফেলেছে। তথাকথিত উন্নয়নের নামে শোষণ, বঞ্চনা, লুটপাট ও অত্যাচারের এক দুঃসহ দুঃশাসন আজ জনগণের বুকের ওপর চেপে বসেছে। এই স্বৈরশাসন জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। তারা মানুষকে আজ ভাতে মারছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

মানুষের কাজের সংস্থান নেই। চাকরির খোঁজে লুকিয়ে বিদেশে যাওয়ার পথে আমাদের তরুণেরা সাগরে ডুবে মরছে।

উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় পাঁচ-দশ গুণ বাড়িয়ে এরা লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে। কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের নামে বিদ্যুৎ খাতকে বানিয়েছে হরিলুটের কারখানা। শেয়ারবাজার এরা লুটে খেয়েছে। অর্থ লোপাট করে ব্যাংকগুলো করে ফেলেছে দেউলিয়া। হাজার হাজার কোটি টাকার তছরুপকে এরা ‘সামান্য ক্ষতি’ বলে উপহাস করছে। বিদেশে পাচার করছে হাজার হাজার কোটি টাকা। সুইস ব্যাংকে এরা পাচার করা অর্থের পাহাড় গড়েছে। যারা এই দুর্নীতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত হয় না, তদন্ত হলেও সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় না। দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয় না। বিচার হয় না।  অন্যায়-অবিচার ও শোষণ-বঞ্চনা-লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সব পথ এরা বন্ধ করে দিয়েছে। হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও জেল-জুলুম চালিয়ে প্রতিবাদী সব কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। গণতন্ত্রেও লাখো কর্মী আজ মানবেতর জীবন যাপন করছে। অপহরণ, গুম, খুনের এক ভয়াবহ বিভীষিকায় বাংলাদেশ আজ ছেয়ে গেছে। ঘরে ঘরে আজ হাহাকার। স্বজন হারানো কান্নার রোলে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

হেনস্তা ও অপমানের ভয়ে নাগরিক সমাজ স্বাধীন মতপ্রকাশের সাহস হারিয়ে ফেলেছে। এই দুঃসহ অবস্থার মধ্যেও একদল উচ্ছিষ্টভোগী স্তাবকের গুণকীর্তনে মানুষ অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দলীয়করণ, ভীতি প্রদর্শন ও নানা অপকৌশলের মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থাকে আজ প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে।

২০১৪ সালে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি অবশ্যই সে নির্বাচনে অংশ নিত। তাহলে বিএনপিই জনগণের সমর্থনে এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থাকত।

যাদের আজ ক্ষমতায় থাকার কথা, সেই দলের সঙ্গে বিনা ভোটের সরকার এমন আচরণ করছে যেন বিএনপি নির্মূল করাই তাদের প্রধান কাজ।

আমাদেরকে অফিসে মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়েছে। সেই সময়ে বাইরের নানা ঘটনার জন্য আমাকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আমার দলের নেতা-কর্মীদের দিয়ে জেলগুলো ভরে ফেলা হয়েছে। হাজার হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। যারা লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ খুনের নির্দেশ দেয়, গানপাউডার ছিটিয়ে আগুন দিয়ে বাসযাত্রী পুড়িয়ে মারে, যারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের নামে ব্যাংকে আগুন, পেট্রলপাম্পে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে, রেললাইন তুলে দিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ করেছে দেশজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে, তারাই আজ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করছে। আমরা সন্ত্রাসে বিশ্বাস করি না। সারা দেশে প্রকাশ্য সন্ত্রাস করছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না। তাদের কোনো বিচার হয় না।

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,

দেশের সব প্রথা-প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। কথা বলার অধিকার নেই, গণতন্ত্র নেই, মানুষের ভোটের অধিকার নেই। দশ টাকা দরে চাল খাওয়ানোর ওয়াদাকে ভয়াবহ ভাঁওতাবাজি হিসেবে প্রমাণ করে মোটা চালের কেজি এখন পঞ্চাশ টাকা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম।

দেশে ন্যায়বিচার নেই। ইনসাফ নেই। জনগণের কোনো নিরাপত্তা নেই। নারী ও শিশুরা নির্যাতনের শিকার।

দেশে আজ সত্যিকারের সংসদ নেই। তথাকথিত সংসদে নেই প্রকৃত বিরোধী দল। শাসকদের কোথাও কোনো জবাবদিহি নেই।

সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে বৈরী প্রচারণা ও ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। দলীয়করণ ও অন্যান্য হীন পন্থায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে। শিল্পায়ন, উৎপাদন ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। মানুষের কাজ নেই। ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে গভীর মন্দা। ডলারের দাম বাড়ছে টাকার অবমূল্যায়ন হচ্ছে। মাদকের বিষাক্ত ছোবলে তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ ডুবে যাচ্ছে এক গভীর অন্ধকারে।

এই দুঃসহ অবস্থা থেকে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি চায়। তারা তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের সেই আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেই আমরা গণতন্ত্রের জন্য আবারও সংগ্রাম শুরু করি। সেই সংগ্রামের পথে অনেক জীবন ইতিমধ্যে ঝরে গেছে। অনেক মানুষ গুম ও খুন হয়েছে। দুঃসহ বন্দীজীবন কাটাচ্ছে অগণিত নেতা-কর্মী। অসংখ্য মানুষ হামলা, মামলা, হুলিয়া, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আজকের দুঃশাসনের হাত অনেক নিরাপরাধ মানুষের রক্তে রঞ্জিত। এই রক্তপিপাসু শাসকদের কবল থেকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করা সহজসাধ্য কাজ নয়। কিন্তু আমরা হার মানিনি। জনগণ পরাজিত হবে না। দুঃশাসন একদিন থাকবে না। কিন্তু যে কলঙ্কের ইতিহাস তারা রচনা করছে সেই কলঙ্কের ছাপ চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।

সাংবাদিক ভাইবোনেরা,

কেবল নিজেদের দলীয় স্বার্থে ও সুবিধার্থে সংবিধান বদল করে গায়ের জোরে যারা এখন ক্ষমতায় টিকে আছে তারা জনগণের ভোটে আসেনি। দেশের মানুষ তাদের নির্বাচিত করেনি। তাদের দেশ পরিচালনার প্রতি জনগণের সায় ও সম্মতি নেই। নৈতিক দিক থেকে এরা অবৈধ। তাই তারা যতই হুংকার দিক, তাদের কোনো নৈতিক সাহস ও মনোবল নেই।

এই শাসকদের কোনো গণভিত্তি নেই। পেশিশক্তি, সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে জনগণের বিরুদ্ধে অপব্যবহার করে ওরা টিকে আছে। জনগণের সমর্থন নেই বলেই তারা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ভয় পায়। আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাই। জনগণের অধিকার তাদেরকে ফেরত দিতে চাই। তাই আমরা আন্দোলন করছি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। যে নির্বাচনে মানুষ অবাধে ভোট দিতে পারবে এবং সেই ভোট সঠিকভাবে গণনা করে সুষ্ঠুভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সব দল অংশগ্রহণ করতে পারবে। তেমন সুষ্ঠু নির্বাচন তারা চায় না। তাদের কথা, ক্ষমতায় থেকে এবং সংসদ বহাল রেখেই তারা নির্বাচন করবে। যাতে মানুষ ভোট দিতে না পারে এবং কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেওয়া যায়। এই প্রহসন তারা একবার করেছে। আবারও করতে চায়। সেই উদ্দেশ্যেই তারা আমাদেরকে নির্যাতন ও হামলা-মামলা ও বন্দী করে তটস্থ রেখে সরকারি খরচে এক বছর আগে থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ প্রহসন নয়, সত্যিকারের নির্বাচন চায়। তেমন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছি বলেই আজ আমাদের ওপর এত জুলুম-নির্যাতন, এত মিথ্যা মামলা।

আপনারা জানেন, আমার বিরুদ্ধে তেমনি এক মিথ্যা মামলায় আগামীকাল রায় হবে। এই রায়কে কেন্দ্র করে শাসক মহল আমাদের চেয়ে বেশি অস্থির ভীত হয়ে জনগণের চলাচলের অধিকার প্রতিবাদের অধিকার সভা-মিছিলের সাংবিধানিক অধিকার, প্রশাসনিক নির্দেশে বন্ধ করা হচ্ছে। ভিত্তিহীন ও মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদের ভয়ে ভিত হয়ে এ হীন পথ খুঁজে নিয়েছে সরকার। সারা দেশে তারা বিভীষিকা ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। জনগণের প্রতিবাদের সম্ভাবনাকে তারা এতটাই ভয় পায়!

আদালত রায় দেয়ার বহু আগে থেকেই শাসক মহল চিৎকার করে বলে বেড়াচ্ছে, আমার জেল হবে। যেন বিচারক নন, ক্ষমতাসীনরাই রায় ঠিক করে দিচ্ছে। প্রধান বিচারপতিকে চাপের মুখে পদত্যাগ ও দেশত্যাগে বাধ্য করার পর কোনো আদালত শাসকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ কায়েম করতে সাহস পাবে কি না তা নিয়ে সবারই সন্দেহ আছে। তারপরেও দেশবাসীর উদ্দেশে সগৌরবে জানাতে চাই যে, আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেনি। কোনো দুর্নীতি আমি করিনি।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কুয়েতের তৎকালীন আমীরের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। তাঁর নামকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য কুয়েতের আমির যে অনুদান প্রদান করেন তা তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমানের উদ্যোগে নিয়ে আসা, সেই অর্থের বিলিবণ্টন, তহবিল পরিচালনা অর্থাৎ জিয়া অরফানেজের সঙ্গে আমি কখনো কোনোভাবেই জড়িত ছিলাম না। তা ছাড়া এই অর্থ সরকারি অর্থ নয় এবং ট্রাস্টটিও প্রাইভেট ট্রাস্ট। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এ মিথ্যা মামলায় আমাকে জড়িত করা হয়েছে। আমার আইনজীবীরা আদালতে তা প্রমাণ করেছেন। সব চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, জিয়া অরফানেজের একটি টাকাও তছরুপ হয়নি। সমস্ত টাকা প্রতিষ্ঠানের নামেই ব্যাংকে জমা আছে। এখন সুদাসলে সেই টাকা বেড়ে প্রায় তিনগুণ হয়েছে। এ মিথ্যা মামলায় ন্যায়বিচার হলে আমার কিছুই হবে না। ইনশা আল্লাহ্ আমি বেকসুর খালাস পাবো। দেশে ন্যুনতম আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলে এই জালিয়াতিপূর্ণ মামলা যারা দায়ের করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়া উচিত। যারা এই মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে তাদেরও সাজা হওয়া উচিত। আর যদি শাসক মহলকে তুষ্ট করার জন্য অন্য রকম কোনো রায় হয়, তাহলে তা কলঙ্কের ইতিহাস হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ অন্যায়কারী কাউকেই ক্ষমা করে না, করবে না।

আমি যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি। আমাকে জেল বা সাজার ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। আমি মাথা নত করবো না। জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি থেকে পিছু হটব না। জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমাকে রাজনীতির ময়দান ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখা এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তাতেই একদলীয় শাসন কায়েম ও খালি মাঠে গোল দেওয়ার খায়েশ পূরণ হবে বলে আমি মনে করি না।

স্বৈরশাসক আইউব খান এক সময় মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে এ দেশের জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের ‘এব্ডো’ অর্থাৎ নির্বাচন ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। ইতিহাস সাক্ষী, সেই ‘এব্ডো’ টেকে নেই। গণ–অভ্যুত্থানে আইউবের পতন ঘটেছিল।

ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিনের অবৈধ সরকার রাজনীতিবিদদের হেয় করা এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকার উদ্দেশ্যে আমাকে বিদেশে চলে যেতে বলা হয়েছিল, আমি তাদের কথায় রাজি না হয়ে আপনাদের ছেড়ে দেশ ছেড়ে যাইনি। যার জন্য আমার এবং আমার সন্তানদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। আমাকে এক বছর নয় দিন কারারুদ্ধ করে রেখেছিল। আমার দুই সন্তানকেও কারারুদ্ধ করে নির্যাতন করেছিল। সেই অবৈধ সরকার আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছিল।

সেই অবৈধ সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাসহ তাদের দলের নেতা-কর্মীদের হাজার হাজার মামলা তুলে নিয়েছে। আর আমিসহ আমাদের নেতা-কর্মীদের সেই সব মামলায় হেনস্তা করা হচ্ছে। যোগ হয়েছে হাজারো নতুন নতুন মিথ্যা মামলা।

জরুরি সরকারের সেসব মামলায় আওয়ামী লীগের অনেকের সাজা হয়েছিল। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত সেই আসামিরাও বিনাভোটে এমপি-মন্ত্রী হয়ে এখন আমার বিরুদ্ধে হুংকার দিচ্ছে। তারা ক্ষমতায় থাকবেন আর আমাদের বিরুদ্ধে শুধু অবৈধ সরকারের দেয়া মামলা চলবে—এই অন্যায় বাংলাদেশ মেনে নেবে না।

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,

আমি কম বয়সেই স্বামী হারিয়েছি। দেশের জন্য জিয়াউর রহমান জীবন দিয়েছেন।

দলের নেতা-কর্মীদের দাবিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজনীতির বিপৎসংকুল পথে পা বাড়িয়েছি।

আরাম-আয়েশ, সুখ-শান্তি ও নিন্তরঙ্গ জীবন বিসর্জন দিয়েছি।

আমার প্রিয় দেশবাসী আমাকে তার প্রতিদান দিয়েছে অপরিমেয় ভালোবাসায়। প্রতিবারের নির্বাচনে পাঁচটি করে আসনে পর্যন্ত তারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আজ পর্যন্ত আমি পরাজিত হইনি। জনগণের সমর্থনে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হবার গৌরব আমি অর্জন করেছি। তিন-তিনবার তারা আমাকে প্রধানমন্ত্রী করেছেন। এখনো আমি দেশের যে প্রান্তেই যাই উচ্ছ্বাসিত জনজোয়ারে আমি তাদের ভালোবাসায় অভিষিক্ত হই। আমি রাষ্ট্র পরিচালনায় কিংবা বিরোধী দলে যেখানেই থাকি, এই জনগণ প্রতিটি সুখে-দুঃখে, শান্তিতে-সংগ্রামে আমার সাথি হন। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখার পর থেকে আমি জনগণকে যতটা সময় দিয়েছি, পরিবার ও সন্তানদের ততটা সময় দিতে পারিনি। কারাগারে থাকতে আমি আমার মাকে হারিয়েছি। অফিসে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় আমি একটি সন্তান হারিয়েছি। আরেকটি সন্তান নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে দূরদেশে এখনো চিকিৎসাধীন। আমার এই স্বজনহীন জীবনেও দেশবাসীই আমার স্বজন। আল্লাহ্ আমার একমাত্র ভরসা। আমি যেমন থাকি, যেখানেই থাকি যতক্ষণ বেঁচে থাকবো দেশবাসীকে ছেড়ে যাব না।

প্রিয় দেশবাসীর প্রতি আমার আবেদন, আমাকে আপনাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হলেও বিশ্বাস করবেন, আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি। আপনারা গণতন্ত্রের জন্য, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, জনগণের সরকার কায়েমের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশে সব সময়ই ছাত্র-যুবক তরুণেরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাষ্ট্রভাষা বাংলা। সৈনিক, ছাত্র-জনতার মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। এই ছাত্র-জনতা আন্দোলনেই স্বৈরাচার পরাজিত হয়েছে। আজ গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সেই ছাত্র, জনতাকে আহ্বান জানাই এগিয়ে আসতে বিএনপি, ২০ দলসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক দল, কৃষক শ্রমিকসহ সকল শ্রেণি–পেশার মানুষকে আমি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।

আওয়ামী লীগেও অনেকে আছেন, যাঁরা গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারে বিশ্বাস করেন এবং ভবিষ্যৎ পরিণতির কথা ভাবেন। তাদের প্রতিও আমার একই আহ্বান রইল।

আগামী দিনে অনেক ফাঁদ পাতা হবে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে, সবাই সাবধান ও সতর্ক থাকবেন। বুঝেশুনে কাজ করবেন। এই দেশ আমাদের সবার। কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়।

আমরা সংঘাত, হানাহানি, নৈরাজ্য চাই না। আমরা শান্তি চাই। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। এখনো আমরা আশা করে বসে আছি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হবে।

সেই প্রত্যাশা রেখেই আহ্বান জানাই, হুমকি-ধমকি ও নির্যাতনের পথ ছেড়ে আসুন, আমরা আলোচনার মাধ্যমে শান্তির পথে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করি।

এ নির্বাচন কাউকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ এবং কাউকে ক্ষমতায় বসাবার নির্বাচন নয়। এ নির্বাচন হবে জনগণের রায় নিয়ে তাদের সম্মতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার নির্বাচন।

আসুন, এই দুঃখী মানুষের দেশটাকে একটি শান্তির দেশে পরিণত করতে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে অবদান রাখি।

আমাদের বয়স হয়েছে। আসুন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর সম্ভাবনাময় দেশ রেখে যাই।

এই বাংলাদেশটাকে আজ এক বৃহত্তর কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। জনগণের শাসন কায়েমের মাধ্যমে দেশকে মুক্ত করতে পারলে আমরা সবাই মুক্ত হব ইনশা আল্লাহ্।

আল্লাহ্ আমাদেরকে কামিয়াব করুন।

সকলকে ধন্যবাদ।

আল্লাহ্ হাফেজ। বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ।